বাগমারা

বাগমারায় মাদকসেবীদের দৌরাত্ম- গ্রেপ্তার হয়নি মিলন হত্যা মামলার আসামী

বাগমারা প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় কাচারী কোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রামের মিলন হত্যা মামলার কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি বাগমারা থানার পুলিশ। গত শুক্রবার বিকেলে একই এলাকার মাদক বিক্রেতা জুয়েল রানার ধারালো চাকুর আঘাতে মারা যান মিলন । হত্যার ঘটনায় রাতেই নিহত মিলনের বাবা খলিলুর রহমান বাদী হয়ে জুয়েল রানাকে প্রধান আসামী করে দুই জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত কয়েক জনের বিরুদ্ধে থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। হত্যার ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে আসেন রাজশাহীর সদর সার্কেল ও সহকারী পুলিশ সুপার আহম্মেদ আলী। তিনি ঘটনারস্থল পরিদর্শন শেষে ঘটনার সাথে জড়িত মিলন হত্যাকারী মাদক বিক্রেতা জুয়েল রানাকে গ্রেপ্তারের জন্য বাগমারা থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন। এদিকে কাচারীকোয়ালীপাড়া ইউনিয়নের মোহনপুর গ্রাম সহ আশে পাশের এলাকায় চরম বেপরোয়া ওঠেছে কতিপয় মাদকসেবী ও মাদক ব্যবসায়ী। তারা ওই এলাকায় দিনে দুপুরে প্রকাশ্যে মাদকের বেচাকেনা ও মাদকের আড্ডা বসালেও তাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পায়না এলাকাবাসী। তারা এতটাই বেপরোয়া এবং সব সময় ধারালো অস্ত্র নিয়ে চলাফেরা করার কারণে তাদেরকে সমিহ করে চলতে হয় এলাকার লোকজনকে। গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এলাকায় মাদকের গড ফাদার হিসাবে পরিচিত আবু বাক্কার মাদক ব্যবসা ও সেবনের সাথে জড়িত। আবু বাক্কারের মাদক ব্যবসা শুরু হয় সন্ধ্যার পরে। দূর এলাকা থেকেও মাদকসেবীরা মোহনপুর গ্রামে এসে বাক্কারের ছত্রছায়ার মাদক সেবন করে নির্বিগ্নে এলাকা ছেড়ে চলে যায়। এলাকাবাসীর মতে, গত রোজার ঈদের সময় বাক্কার মাদকসহ পুলিশের হাতে গ্রেফতার হলেও মাত্র কয়েকদিনের ব্যবধানে সে আবার জামিনে বেরিয়ে এসে আবার পূর্বের ষ্টাইলে মাদক ব্যবসায় নেমে পড়ে। একই গ্রামে মাদক ব্যবসায় বাক্করের দক্ষিনহস্ত হিসাবে পরিচিত এনামুল হক ও তার পুত্র সবুজ। রোজার ঈদের আগে বাক্কারের সাথে এনামুুল মাদকসহ গ্রেফতার হয়ে গত দেড় মাস আগে জামিনে বেরিয়ে এসে আবারও মাদক ব্যবসায় নেমে পড়েছে বলে তারা জানান এলাকার কয়েকজন মুদি ব্যবসায়ী। তারা অভিযোগ করে বলেন, অত্র এলাকা মোহনপুর মানসিংহপুর ও কাচারীকোয়ালীপাড়া গ্রামে এর আগে মাদক ব্যবসায়ীদের এত দৌরাতœ ছিল না। তাদের মতে, মাদকে অতি অল্প সময়ে ব্যাপক লাভবান হওয়ার সুযোগ থাকায় প্রভাবশালীরাও এর সাথে জড়িত হয়ে পড়েছে। যে কারণে পুলিশ প্রশাসন ও এলাকার জনপ্রতিনিধিরাও এখন মাদক প্রতিরোধে ভুমিকা রাখতে পারছে না। এলাকার সাধারন লোকজনের মতে, এলাকায় পুরোপুরি মাদক মুক্ত করতে প্রয়োজন প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ। তা না হলে মাদক সেবন ও ব্যবসাকে কেন্দ্র করে এভাবে একের পর এক হত্যাকান্ড ও সংর্ঘষের ঘটনা বাড়তেই থাকবে।

উল্লেখ্য গত বুধবার ঈদুল আযহার দিনে বিকেলে মাদক বিক্রিকে কেন্দ্র করে জুয়েল রানা ও মিলনের মধ্যে কথাকাটি ও হাতাহাতি হয়। ওই ঘটনার জের ধরে গত শুক্রবার বিকেলে জুয়েল রানা তার বাড়ীর পার্শ্বের একটি মুদি দোকানে বসেছিল। জুয়েল রানকে বসা দেখে মিলন প্রতিশোধ নিতে বাড়ী থেকে মোটর সাইকেলের চেইন নিয়ে যায় এবং জুয়েল রানার উপর আক্রমন করেন। দুই জনের মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে দোকানের লোকজন তাদের দুইজনকেই মারামারি থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করে। সুযোগ বুঝে জুয়েল রানা তার প্যান্টের পকেটে থাকা ধারালো চাকু মিলনের পেটে চাকু মারে। ধারালো চাকুর আঘাতে মিলনের শরীর থেকে প্রচুর রক্তক্ষরন হয়। ওই সময় স্থানীয় লোকজন মিলনকে ভবানীগঞ্জ ক্লিনিকে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যায়। চিকিৎসক আব্দুল বারী মিলনের অবস্থা দেখে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়ার জন্য পরিবারের সদস্যদের পরামর্শ দেয়। পরিবারের সদস্যরা মিলনকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসাপাতালে নেয়ার জন্য এ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় সে মৃত্যু কোলে ঢোলে পড়ে। মিলনের মৃত্যুর খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে সাধারন মানুষের মধ্যে আতংক দেখা দেয়। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ এলাকায় কয়েকজন চি‎িহ্নত মাদক ব্যবসায়ীর কারনেই পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। তারা অবিলম্বে ওই সকল মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার দাবী জানিয়েছেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাসেল কবির জানান, রাতে মামলা দায়ের পর কাগজপত্র হাতে পেয়েছি। রাত থেকেই থানার বিভিন্ন এলাকায় সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে অভিযান চালানো হয়েছে। অল্প সময়েল মধ্যে হত্যার সাথে জড়িতদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হবেন বলে তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের জানিয়েছেন। এছাড়া তিনি এলাকায় মাদক ব্যবসা ও সেবন নিমূলে পুলিশের পক্ষ থেকে কঠোর অভিযান পরিচালনা করা হবে বলেও জানান।
বরেন্দ্র বার্তা/আম/হাপি

Close