শিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

ছাত্রলীগ-ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর-নিউজে তুই কেন আমাদের নাম বললি?

রাবি প্রতিনিধি: ভর্তি বাণিজ্যের সংবাদে নাম বলার জের ধরে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) এক ছাত্রলীগ নেতাকে মারধর করেছে দুই ছাত্রলীগ নেতাসহ কয়েকজন কর্মী। সোমবার দুপুর ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা এলাকায় মারধরের ঘটনা ঘটে।

মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতা তারেক আহমেদ খান শান্ত। তিনি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ত্রাণ ও দূর্যোগ বিষয়ক সম্পাদক। মার্কেটিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী। মারধরকারী ছাত্রলীগ নেতারা হলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সহ-সম্পাদক হাসিবুল হাসান শান্ত ও উপ প্রশিক্ষণ বিষয়ক সম্পাদক কাউসার।

মারধরের শিকার ছাত্রলীগ নেতা তারেক আহমেদ খান শান্ত বলেন, ‘দুপুরে চারুকলায় বাবু ভাইয়ের দোকান থেকে খাওয়া-দাওয়া শেষ করে বের হই। বাইক নিয়ে চলে আসতে চাইলে এসময় কাউসার, শান্তসহ ১০-১৫ জন কাঠের চ্যালা নিয়ে এলোপাথাড়ি মারধর শুরু করে। পায়ে বেশি আঘাত করে আর মারধরের সময় শুধু বলে, নিউজে তুই কেন আমাদের নাম বললি? কোন আইনি ব্যবস্থা নিবেন কিনা জানতে চাইলে শান্ত বলেন, বড় ভাইদের সঙ্গে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিবো।

চড় থাপ্পড় মারার ঘটনা ঘটেছে বলে স্বীকার করে ছাত্রলীগ নেতা হাসিবুল ইসলাম শান্ত বলেন,  ‘কিছুদিন আগে ভর্তি বাণিজ্যের সংবাদে আমাকে ও আমার বন্ধু কাওসারের নামে তাঁকে ফাঁসানোর জন্য এরকমটা করছি। সে বিষয়ে তাকে চারুকলাতে জিজ্ঞাসাবাদ করি। বললাম আপনি এরকমটা বললেন যে, ‘আপনার সঙ্গে কি কোন পূর্বশত্রুতা আছে?’ তিনি বলেন কৈফিয়ত দিতে হবে। একপর্যায়ে অনাকাঙ্খিতভাবে গায়ে হাত উঠে যায়, দুই-একটা চড় থাপ্পড় হয়ে গেছে।

আরেক ছাত্রলীগ নেতা কাউসার বলেন, কিছুদিন আগে গণমাধ্যমে ভর্তি বাণিজ্যের সংবাদে তারেক আহমেদ খান শান্তর নাম ওঠে। সেসময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন আমি ও আমার বন্ধু হাসিবুল ইসলাম তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছি। এতদিন তারেক ভাই ক্যাম্পাসে ছিলেন না। আজ দুপুরে দেখা হলে আমরা তার কাছে জানতে চাই তিনি কেন এরকম ভিত্তিহীন, মিথ্যা অভিযোগ দিলেন আমাদের নামে। এসময় তিনি এর উত্তর না দিয়ে আমাদের বলেন, আমার ইচ্ছা হয়েছে করেছি। তোরা যা পারিস কর। পরে এ বিষয়ে কথা কাটাকাটি হয় আমাদের মধ্যে। এক পর্যায়ে আমাদের হাত উঠে যায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের অর্থোপেডিক্স বিভাগের ডাঃ এস এম আসজাদ হাসান আশরাফ জানান, ‘তার পায়ের গোশত থেঁতলে গেছে। হাঁড় ভাঙেনি বলে মনে হয়েছে। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে মুঠোফোনে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ফয়সাল আহমেদ রুনু বলেন, ‘আমি যতদূর শুনেছি যে তাদের মধ্যে মনোমালিন্যের ঘটনা ঘটেছে। মারধরের কোন কথা আমি শুনিনি। বিষয়টি আমার সভাপতি বড় ভাই দেখছেন। আমি আরও খোঁজ নেব।

এর আগে গত ১৪ অক্টোবর রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি জালিয়াতির চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের হাতে একটি অডিও আসে। সাংবাদিকদের অনুসন্ধানে প্রমাণিত হয় মারধরের শিকার তারেক আহমেদ খান শান্ত সেই অডিও এর সাথে জড়িত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারেক আহমেদ খান শান্ত মারধরকারী দুই ছাত্রলীগ নেতা তাকে ফাঁসানোর চেষ্টা করেছে বলে দাবি করেছিলেন।  বরেন্দ্র বার্তা/ইকা/হাপি

Close