অর্থ ও বাণিজ্যনাটোরশিরোনাম

নাটোরের দুই চিনিকলে আখ মাড়াই শুরু

নাটোর প্রতিনিধি : নাটোরের নর্থবেঙ্গল ও নাটোর চিনিকলে ১৬ অক্টোরব ২০১৮ থেকে চলতি ২০১৮-১৯ মৌসুমের আখমাড়াই শুরু হচ্ছে। এই দুটি চিনিকলে এবার চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য ধরা হয়েছে ২৭ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন। বিকেলে চিনিকলের ডোঙ্গায় আখ নিক্ষেপের মাধ্যমে মাড়াই মৌসুমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে বলে চিনিকল দু’টির কর্তৃপক্ষ জানান। শুক্রবার বিকালে নাটোরের লালপুর উপজেলার নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ২০১৮-২০১৯ মৌসুমের আখমাড়াই শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে ১৫১ কার্য দিবসে চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে শতকরা ৭.৫ ভাগ।
নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রকৌশলী মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে অনাড়ম্বর পরিবেশে দোয়া ও মিলাদ মাহফিলেরমধ্য দিয়েমিলেরআখমাড়াই মৌসুম শুরু হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নাটোর-১ (লালপুর-বাগাতিপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. আবুল কালাম আজাদ। এসময় বাংলাদেশ চিনি ও খাদ্য শিল্প করপোরেশনের সিপি আকতার হোসেন, প্রধান রসায়নবিদ হামিদুল ইসলাম, লালপুর থানার ওসি নজরুল ইসলাম জুয়েল, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আফতাব হোসেন ঝুলফু, সাধারণ সম্পাদক ইসাহাক আলী, নর্থ বেঙ্গল সুগার মিলের মহাব্যবস্থাপক (প্রশাসন) হামিদুল ইসলাম, মহা ব্যবস্থাপক (কারখানা) সৈয়দ আবুবকর, মহাব্যবস্থাপক (অর্থ) সাইফুল্লাহসহ মিলের কর্মকর্তা, শ্রমিক – কর্মচারী ও আখ চাষীরা উপস্থিত ছিলেন।
সুগার মিল সূত্রে জানা গেছে, এ বছর মিলের নিজস্ব জমিসহ মিল জোনের মাঠে ২২ হাজার ৪০ একর জমিতে আখের আবাদ হয়েছে। এ থেকে ৩ লাখ ৪৫ হাজার ৬’শ ৮৯ মে. টন আখ উৎপাদন হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

অপরদিকে নাটোর চিনিকলের এমডি মোহম্মদ শহিদুল্লাহ জানান, এবার নাটোর চিনিকলে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারন কর াহয়েছে ১২ হাজার ২৫৫ দশমিক ০৮ মেট্রিক টন। এরজন্য আখের প্রয়োজন দেখানো হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫৭০ মেট্রিকটন। চিনি আহরণের হার ধরা হয়েছে ৭ দশমিক ৭৫ ভাগ। গত মৌসুমে চাহিদ াঅনুযায়ী আখ সরবরাহ নাপাওয়ায় লক্ষ্যমাত্রা অর্জিতহয়নি। মাত্র ৮ হাজার চিনি উৎপাদিত হলেও গত চার মৌসুমের তুৃলনায় বেশী।
শুক্রবার বিকেলে মিলেরএমডি মোহম্মদ শহিদুল্লাহর সভাপতিত্বে জাঁকজমক পরিবেশে ও মিলাদ মাহফিলের মধ্য দিয়ে আখমাড়াই মৌসুম শুরু হয়।এসময় উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সাজেদুর রহমান খান, জেলাপ্রশাসক গোলামুর রহমান,মিলের চিফটি এস সামসুর রহমান, আখচাষী সমিতির সাধারণসম্পাদক ফয়েজ সরকার, শ্রমিককর্মচারী ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম প্রমুখ।অনুষ্ঠানটি সঞ্চালণা করেন নাটোর সুগার মিলের উপ ব্যবস্থাপক ফেরদৌসুলআলম।চিনিকল দুটির কর্তৃপক্ষ বলেন নাটোরের প্রধান অর্থকরি ফসল হচ্ছে আখ। প্রতি মৌসুমে মিলে আখ সরবরাহ কওে চাষীরা লাভবান হয়। আখের দামও বেশীপায়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা সত্বেও মাড়াই মৌসুমে মধ্যসত্বভোগীরা আখমাড়াই করে গুড় তৈরি করায় মিলে চাহিদা অনুযায়ী আখ সরবরাহ পাওয়া যায়না। একারনে মৌসুমে চিনি উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন ব্যহত হয়। এছাড়া মিলে উৎপাদিত চিনিরমুল্য বাজার কম হওয়ায় মিলে উৎপাদিত চিনি বিক্রি নাহওয়ায় প্রতিবছর লোকসান গুনতে হচ্ছে চিনিকল গুলোকে।বরেন্দ্র বার্তা/নাহো/হাপি

Close