কর্মখালি

স্থানীয় প্রশাসন ও সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের সাথে এসিডি’র বার্ষিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

প্রেস বিজ্ঞপ্তি : এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি)-রাজশাহী এর আয়োজনে ও সেভ দ্য চিলড্রেন এর সহযোগিতায় গত ০৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে গোদাগাড়ী পৌরসভার কনফারেন্স রুমে শিশুদের সুরক্ষা, শিক্ষা ও খেলাধুলার মাধ্যমে অনিরাপদ স্থানান্তর প্রতিরোধ এবং তাদের অধিকার সমুন্নত রাখার প্রত্যয় নিয়ে ও ‘আমি খেলি, আমি পড়ি এবং আমি নিরাপদ’ এই ম্লোগানকে সামনে রেখে ‘গুড কজ ক্যাম্পেইন (জিসিসি)’ প্রকল্পের বার্ষিক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী পৌরসভার মেয়র জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম, উপ-সমাজসেবা অফিসার মোঃ রাশেদুজ্জামান, প্যানেল মেয়র মোসাঃ মনিরা বেগম, সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সালেক উদ্দীন, উপ-মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা এবং সমাজ ভিত্তিক শিশু সুরক্ষা কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা জনাব মোঃ ফজলুর রহমান। অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন গোদাগাড়ী পৌরসভার কাউন্সিলরগণ, এনজিও প্রতিনিধি, সাংবাদিক, কেন্দ্র ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক, সুশীল সমাজের ব্যক্তিবর্গ ও এসিডি’র কর্মীবৃন্দ।

সভায় এস এম আহসানউল্লাহ সরকার এর সঞ্চালনায় জিসিসি প্রকল্পের অগ্রগতি উপস্থাপন করেন এসিডি’র মনিটরিং এ্যান্ড ডকুমেন্টেশন অফিসার সরোজ কুমার বিশ্বাস। প্রকল্পের অগ্রগতি উপস্থাপনের পর অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে মুক্ত আলোচনা করা হয়। আলোচনায় সহকারী যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা মোঃ সালেক উদ্দীন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এসিডি ৬ থেকে ১৪ বছরের শিশুদের নিয়ে কাজ করে আসছে কিন্তু এসিডি তাদের এই টার্গেট শিশু ছাড়াও যদি ১৪ থেকে ১৮ বছরের শিশুদের জন্য বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ করার মাধ্যমে এই ঝুকিঁপূর্ণ শিশুদের জন্য কাজ করে তাহলে এই সব শিশুরা মূলধারায় ফিরে আসবে। এছাড়া তিনি বলেন ১৮ বছরের নিচের শিশুদের প্রশিক্ষণ দেয়ার কোনো ব্যবস্থা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নাই। তাই এসিডি যদি ১৮ বছরের শিশুদের নিয়ে কাজ করে তাহলে এই সব শিশুদের বিভিন্ন প্রশিক্ষণ প্রদান করা সম্ভব হবে। তিনি আরও বলেন এসিডি’র কর্মএলাকায় কমিউনিটির অবদানে যে সব সাব-সেন্টার স্থাপন করা হয়েছে তার রেজিস্ট্রেশন যুব উন্নয়ন থেকে করা যাবে। উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা শারমিন শাপলা বলেন ঝুকিঁপূর্ণ শিশুদের তালিকা করে মহিলা বিষয়ক কার্যালয়ে দিলে এইসব শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এছাড়াও তিনি বলেন ঝুকিঁপূর্ণ শিশুদের মায়েদেরকে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তর থেকে প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। সমাজসেবা অফিসার মোঃ রাশেদুজ্জামান বলেন ঝুকিঁপূর্ণ শিশুদের পুর্নবাসনের জন্য সমাজসেবা কাজ করে থাকে। তাই যেসব শিশুদের পুর্নবাসনের প্রয়োজন তাদের জন্য সমাজসেবা অফিসে যোগাযোগ করলে এসব শিশুদের পুর্নবাসনের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও সমাজসেবা ঝুকিঁপূর্ণ পরিবারের উন্নয়নের ক্ষেত্রে তাদের কর্মসংস্থানের জন্য কাজ করছে। সবশেষে তিনি বলেন এসিডি শিশুদের জন্য যে কাজ করছে তা ভবিষ্যতেও অব্যাহত রাখতে হবে এক্ষেত্রে শিশু সংক্রান্ত যেকোনো সমস্যা হলে আমরা সর্বাত্বক সহযোগিতা করবো। মেয়র জনাব মোঃ মনিরুল ইসলাম বলেন শিশু সুরক্ষার জন্য পৌরসভা থেকে ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। এছাড়া ঝুকিঁপূর্ণ শিশুদের জন্য ভোকেশনাল প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। তিনি আরও বলেন আচুঁয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিশুদের খেলার জন্য উপযুক্ত মাঠ নাই, তাই ওখানে মাটি ভরাটের জন্য অর্থ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে এবং ঐস্কুলে শিশুদের খেলার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরী করা হবে। সবশেষে তিনি বলেন শিশুদের সুরক্ষায় সকলকে সমবেতভাবে কাজ করতে হবে এবং শিশুদের খেলাধূলা নিশ্চিতকরণে তাদের জন্য উপযুক্ত খেলার মাঠের ব্যবস্থা করে খেলাধূলায় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।

উক্ত সভায় অংশগ্রহণকারীগণ শিশুদের সুরক্ষার বিষয়টি অনুধাবন করেন এবং শিশুদের জন্য সকল সুযোগ-সুবিধা সৃষ্টিতে গুরুত্বারোপ করেন। অংশগ্রহণকারীগণ এই জাতীয় কর্মসূচি পরিচালনা করার জন্য সেভ দ্য চিলড্রেন ও এসিডিকে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন এবং সর্বাত্বক সহযোগিতা করার জন্য আশ্বাস প্রদান করেন।

বরেন্দ্র বার্তা/আসশ

Close