অর্থ ও বাণিজ্যনাটোরশিরোনাম

সকল তামাকপণ্যের উপর উচ্চ হারে কর বৃদ্ধি করতে হবে

- এমপি আবুল কালাম

আগামী অর্থবছরের বাজেটে সব ধরনের তামাকজাত পণ্যের উপর উচ্চহারে কর বৃদ্ধি, তামাকের কর নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ ও তামাকের ওপর আরোপিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২ শতাংশে উন্নীত করার দাবি করেছেন নাটোর-১ আসনের সংসদস সদস্য জনাব আবুল কালাম।

আজ বৃহষ্পতিবার সকাল ১১টায় হোটেল গোল্ডেন সিটি’র সভাকক্ষে সাংবাদিক ছেদরুল হুদা ডেভিড এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মিডিয়া এডভোকেসি সভায় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন নাটোর প্রেসক্লাবের সাধারন সম্পাদক আল মামুন, এসিডি’র প্রকল্প সমন্বয়কারী এহসানুল আমিন ইমন, সাংবাদিক রনেন রায়, নবিউর রহমান পিপলু, ফারাজী আহমেদ রফিক, জুলফিকার হায়দার জোসেফ, মুক্তার হোসেন, হালিম খান, এন্টি টোবাকো মিডিয়া এলায়েন্স এর প্রতিনিধি এম মোবারক আলী, মামুনুর রশীদ প্রমূখ। মিডিয়ার সাথে এডভোকেসি সভায় মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এসিডি’র এডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আবুল কালাম এমপি আরো বলেন, তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি। তামাকের ব্যবহার মানবদেহে নানা রোগের সৃষ্টি করে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে তামাকের ব্যবহার থেকে মানুষকে দূরে রাখতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সকল প্রকার তামাকের মূল্য বৃদ্ধিকরা। ত্ামাকের চাষ বন্ধ করতে তিনি প্রাশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তিনি তামাক চাষ নীতিমালার দাবী করেন।

মূল প্রবন্ধে বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হওয়া সত্ত্বেও বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ১৩ লক্ষ (এঅঞঝ,২০০৯) প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২৩% (২কোটি ১৯ লক্ষ) ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২৭.২% (২ কোটি ৫৯ লক্ষ) ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা, গুল, খৈনি, সাদাপাতা) ব্যবহার করেন। এই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি।

বাংলাদেশে তামাকের উপর শুল্ক-কাঠামো অত্যন্ত জটিল যেমন: সিগারেটের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যস্তর, গুল-জর্দার ক্ষেত্রে এক্স-ফ্যাক্টরি প্রাইস ইত্যাদি প্রথা চালু আছে। মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে বিবেচনা করে তামাক পণ্যকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে হারে তামাক কর আরোপ করা প্রয়োজন এ জটিল কাঠামোর কারণে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্য বলছে, পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য, পক্ষান্তরে লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানি।

প্রস্তাবিত তামাক কর সংস্কারের ফলে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে এবং নতুন রাজস্ব সৃষ্টির দ্বার উন্মোচিত হবে, যা দিয়ে সরকার দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারসমূহে অর্থায়ন করতে পারবে। একইসাথে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা হ্রাস পাবে, যা সরকার এবং জনগণ উভয়ের জন্যই লাভজনক।

Close