শিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম

আজ সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস

বিশেষ প্রতিনিধি: ১ জানুয়ারি সাম্রাজ্যবাদবিরোধী সংহতি দিবস। বিশ্বব্যাপী মাকড়সার জালের মত বিস্তৃত সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার দিন। ১৯৭৩ সালের এই দিনে ভিয়েতনামে মুক্তিকামী মানুষের উপর মার্কিন বোমা হামলা এবং আগ্রাসনের বিরুদ্ধে বাংলাদেশে প্রতিবাদ জানাতে গিয়ে ঢাকায় শহীদ হন ছাত্র ইউনিয়ন নেতা মতিউল ইসলাম এবং মির্জা কাদেরুল ইসলাম। মতিউল ইসলাম, মীর্জা কাদের সাম্রাজ্যবাদবিরোধী লড়াইয়ের সাহসী অগ্রপথিক। শহীদ মতিউল এবং কাদেরকে ভিয়েতনামে জাতীয় বীরের সম্মান প্রদান করে ভিয়েতনামের জনগণ।  দূরপ্রাচ্যের ভিয়েতনামিরা যখন নাপাম বোমায় ক্ষতবিক্ষত, হাজার মাইল দূরে থেকেও সে ক্ষতের বেদনা বুকে ধারণ করে, প্রতিবাদে শামিল হওয়ার মন্ত্র বৃথা হতে দেননি এ দুই মহানায়ক। লাঞ্চনা, বঞ্চনা, অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে মাথা উঁচু করে মৃত্যুই যে নবজীবনের গান রচনা করে তা মতিউল আর মীর্জা কাদের প্রমাণ করেছিলেন।

শহীদ মতিউলের লাশ
শহীদ মতিউলের লাশ

যদিও পেরিয়ে গেছে ৪৭ বছর। সাম্রাজ্যবাদের হিংস্রতা আরো তীব্র হয়ে উঠেছে। দেশে দেশে যুদ্ধ বাঁধিয়ে বাজার- অর্থনীতি, প্রাকৃতিক সম্পদ লুটে নেয়ার আগ্রাসী আস্ফালনে মত্ত তারা। মানুষ আর প্রকৃতিকে প্রতিনিয়ত করে তুলছে বিপন্ন। এজন্য রক্তের হোলিখেলায়ও আপত্তি নেই সাম্রাজ্যবাদীদের। তাদের অদম্য লোভের লালসায় আজ ছিন্ন ভিন্ন আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া, ফিলিস্তিনসহ তৃতীয় বিশ্বের শতকোটি মানুষ।
সম্পদলোভী শকুনের হিংস্র দৃষ্টি থেকে এক বিন্দু ও নিরাপদ নয় বাংলাদেশ। আমাদের দেশের বন্দর, তেল, গ্যাস, কয়লা আর প্রাকৃতিক সম্পদ দখলে মরিয়া তারা। সামরিক হুমকির পাশাপাশি তাঁবেদার ক্ষমতা কাঠামো আর মুক্ত বাজার অর্থনীতির মারপ্যাঁচে একটু একটু করে গিলে নিতে চাইছে আমাদের স্বদেশ ভূমিকে। আমাদের শিক্ষা, সংস্কৃতি, সার্বভৌমত্ব, মনোজগত সবই দখল করতে চায় আজকের সাম্রাজ্যবাদ। আমাদের মুক্তিযুদ্ধেরও তীব্র বিরোধিতা করেছিল মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ। কিন্তু বাংলার মুক্তিকামী মেহনতি জনগণ তাদের রক্তচক্ষু উপড়ে ফেলে স্বাধীনতার লাল সূর্যকে ঠিকই ছিনিয়ে এনেছে।
সেদিন আসলেই আর দূরে নয়, যেদিন পৃথিবীর প্রতি ইঞ্চি ভূমি থেকে উচ্ছেদ হবে সাম্রাজ্যবাদ। মানুষ মুক্তি পাবে এ ঘৃণ্য অপশক্তির হাত থেকে। ১৯৭৩ সালের ১ জানুয়ারি, মতিউল কাদেরের স্লোগানে-মিছিলে শামিল ছিলেন তিতুমীর, সুভাষ, সূর্যসেন, প্রীতিলতা, সিধু-কানুরা।মতিউল, কাদের ভিয়েতনামের মার্কিন সেনাদের বর্বরতার প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিঃশেষে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন অনাগত ভবিষ্যতের জন্য, যে ভবিষ্যৎ সাম্যের, মুক্তির।তাঁদের সে অমর আত্মত্যাগ এখনো প্রেরণা যোগাচ্ছে লড়াইয়ের। প্রতিবাদের আজকের লড়াইয়ে আমাদের চেতনায় মতিউল কাদেররা বারবার ফিরে আসুক। প্রতিরোধ প্রতিশোধে নিশ্চিহ্ন হোক সাম্রাজ্যবাদ….. বরেন্দ্র বার্তা

গুলিবিদ্ধ মতিউল-কাদেরের লাশ
গুলিবিদ্ধ মতিউল-কাদেরের লাশ

 

Close