গোদাগাড়িশিরোনাম

গোদাগাড়ীতে অবৈধভাবে পুকুর খনন

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজশাহীর গোদাগাড়ীর রিশিকুল ইউনিয়নের আলোকচ্ছত্র মৌজায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে এসকেবেটর দিয়ে অবাধে চলছে পুকুর খনন। এ নিয়ে এলাকার কৃষকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। আলোকচ্ছত্র খড়িয়াকান্দি এলাকার মজিবুরের ছেলে রবিউল ও দূর্গাপুরের মৃত জেসারতের ছেলে আব্দুর রহিদ যৌথভাবে এই পুকুর খনন করছেন। এ এলাকার ষোলজন কৃষকের নিকট থেকে বাৎসরিক বিঘাপ্রতি চৌদ্দ হাজার টাকা করে মোট ২০একর জমি লিজ নিয়ে এই পুকুর খনন করছেন। এলাকাবাসী বাধা দিলেও তারা তোয়াক্কা না করে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। এনিয়ে এ মাঠের অন্যান্য কৃষকরা গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার শিমুল আকতারকে অবগত করলে আজ রোববার তাঁর নির্দেশে কাঁকনহাট ভূমি অফিসের ভূমি অফিসার ইমান আলী পুকুর খনন স্থান পরিদর্শন করেন।

সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে পুকুর খনন বিষয়ে জানতে চাইলে রবিউল বলেন, তারা হাইকোর্টের নির্দেশ মোতাবেক পুকুর খনন করছেন। এখানে কারো বাধা দেওয়ার কোন ক্ষমতা নাই। তার এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে ইমান আলী হাইকোর্টের সমস্ত কাগজপত্র দেখেন এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও এসিল্যান্ড বরাবরে অত্র কাগজপত্র সহ পুকুর খননের অনুমতি নেওয়ার পরামর্শ দেন। সেইসাথে নির্বাহী অফিসারের অনুমতি ব্যতিরেকে পুকুর খনন থেকে বিরত থাকার জন্য রবিউলকে নিদের্শ প্রদান করেন।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিশিকুল ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম বলেন, আলোকচ্ছত্র বিল থেকে দ্রুত বৃষ্টির পানি নিস্কাশন করে ফসল বাঁচাতে এবং সারা বছল যাতে করে কৃষকরা ফসল ফলাতে পারে তার জন্য ইতোমধ্যে প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। সেখানে ড্রেন এবং ক্যানেল তৈরী করা হবে।  এছাড়াও বরেন্দ্র উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা সাপেক্ষে ক্রস ড্যামকে সামান্য করে নিচু করা হয়েছে। এত কিছুর পরেও সরকারী নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে রবিউল পুকুর খনন করছে। এ পরিষদ এলাকায় তাঁর অনুমতি ব্যতিরেকে কৃষি জমি নষ্ট নতুন করে কোন পুকুর খনন করতে দেওয়া হবেনা। এছাড়াও চলমান কোন পুকুরও ভরাট করতে দেওয়া হবেনা বলে জানান তিনি।

জমির মালিক আজিজুল ইসলাম, এমরান আলী ও হারুনার রশিদসহ অন্যান্য জমির মালিকগণ বলেন, স্থানীয় প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে পুকুর কাটছেন, এ বিষয়ে তারা অবগত নন। এছাড়াও চুক্তি অনুযায়ী কোন টাকাও এখনো তারা পাননি বলে অভিযোগ করেন। অথচ জমির এক দিকে পুকুর একটি কাটা সম্পন্ন করেছে বলে জানান তারা।

রিশিকুল ইউনিয়নের লুৎফর রহমান ও জালাল উদ্দিন বলেন, এই পুকুর খনন হলে এই মাঠে আরো বেশী করে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হবে। আগামীতে যে সকল জমিতে ফসল হত সেগুলোও বর্ষা মৌসুমের তলিয়ে যাবে। একজন ব্যক্তির জন্য অন্যান্য কৃষকগণ ব্যপক ক্ষতির সম্মুখিন হবে জানান তারা। তারাও এই পুকুর খনন করতে না দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ঠ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষন করেন।

সরেজমিনে গিয়ে পুকুর খনন করতে দেখা যায়।

বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/আসশ

Close