আন্তর্জাতিক

ধর্ষণের বদলা ধর্ষণ: এ কেমন বর্বরতা!

বিদেশ ডেস্ক: ধর্ষণের বদলে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে পাকিস্তানে। এএফপিও, জিও নিউজের খবরে বলা হয়েছে, গত মার্চ মাসের ২০ তারিখে পাকিস্তানের পাঞ্জাব রাজ্যের তোবা টেক সিং শহরে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরীকে ধর্ষণ করেন ওয়াসিম শেহজাদ নামের এক কিশোর। এতে ক্ষুদ্ধ হয়ে এলাকাবাসীরা শেহজাদকে হত্যার দাবী জানান। এর পরেই শেহজাদের পরিবার ওই কিশোরীর পরিবারের কাছে এক অাশ্চর্য জনক প্রস্তাব দেন। সেটি হলো ওই কিশোরীর পরিবারের যে কেউ শেহজাদের পরিবারের নারীকে ধর্ষণ করতে পারবেন। এ প্রস্তাবে রাজী হয়ে যান কিশোরীর পরিবার। এবং শেহজাদের ৪০ বছর বয়সী বোনকে পাল্টা ধর্ষণের মধ্য দিয়ে ‘বদলা নয়’ ১৬ বছর বয়সী ওই কিশোরীর ভাই।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা নাইম ইউসুফ বলেন, “ধর্ষণের সময় হাতে নাতে ধরা পড়ে ওয়াসিমকে হত্যার দাবি জানান এলাকাবাসীরা। এর প্রতিকার বা বদলা হিসেবে পরিবারের যেকোনো নারীকে ধর্ষণের প্রস্তাব দেয় ওয়াসিমের পরিবার। এরপর তার ৪০ বছর বয়সী বোনকে ধর্ষণের মধ্য দিয়ে ‘বদলা নেয়’ ওই কিশোরীর ভাই।“
তিনি অারও বলেন এই বিষয়ে পরিবার দুটি কাগজ-কলমে ‘সমঝোতা’ করেন যে, তারা বিষয়টি পুরোপুরি ভুলে যাবেন। উক্ত সমঝোতায় স্বাক্ষরকারী ১০ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। এবং ১০ জনকে পুলিশ রিমান্ডে নিয়েছেন বলে নিশ্চিত করেন স্হানীয় থানার প্রধান অাব্দুল মজিদ।

উক্ত ঘটনার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ অারেক টি ঘটনা ঘটে গত বছরের জুলাই মাসে। পাকিস্তানের মুজাফফরবাদের রাজপুর গ্রামে, জুলাইয়ের ১৬ তারিখে উমর ওয়াদ্দারে দ্বারা ধর্ষিত হন অাসফাকের কিশোরী বোন। এই ঘটনার বিচার চাইলে, পরিবারের সকলের সামনে উমরের নাবালিকা বোনকে ধর্ষণের রায় দেন জিরগা (গ্রাম্য সালিসি)। তারা মনে করেন ধর্ষণের বদলে ধর্ষণই হবে উপযুক্ত শাস্তি। পাল্টা ধর্ষণ কার্যকর হওয়ার পর এই বিচারের তীব্র নিন্দা জানায় উমরের পরিবার। এবং তাদের দায়ের করা মামলায় জিরগার সাথে জড়িত ২০ জনকে গ্রেফতার করেন পুলিশ।

পাকিস্তানের গ্রাম্য সালিস কতৃক এরকম বিতর্কিত রায়ের শিকার হয়েছিলো ২৫ বছর বয়সী মুখতার মাই। যা সারাবিশ্বে হইচই সৃষ্টি করেছিলো। ২০০২ সালে মুখতারের কিশোর ভাইয়ের বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণের অভিযোগে তাঁকেও গণধর্ষণের অাদেশ দিয়েছিলো বিতর্কিত গ্রাম্য সালিস। যদিও তার সাহসী পদক্ষেপের ফলে অাসল দোষীদের সাজা কার্যকর হয়েছিল।

এক্ষেত্রে একজন নারীর মতামতকে প্রাধান্য না দিয়ে, বর্বর প্রথা চলমান রয়েছে। যেখানে নির্যাতনের শিকার হচ্ছে শুধুই নারী। আসল দোষীকে সাজা তো দূরের কথা ররং অারো সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। নানা ভাবে নারীরা হচ্ছেন পুরুষের ভোগের পণ্য।
পাকিস্তানের গ্রাম্য সালিসি ব্যবস্থা বা সমঝোতার মাধ্যমে “ধর্ষণের বদলা ধর্ষণ” বা “খুনের বদলা খুন” বরাবরই বিতর্কিত। যা প্রায়শই বিশ্ব গণমাধ্যমে ঝড় তুলছে। বরেন্দ্র বার্তা/নাসি

Close