বিনোদন

চলে গেলেন মোহাম্মদ খসরু

বিনোদন ডেস্ক: আজ রাজধানীর ইব্রাহিক কার্ডিয়াক হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) দুপুর ১২টায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা গেছেন। তার বয়স হয়েছিল ৭৩ বছর।

জানা গেছে, মোহাম্মদ খসরু দীর্ঘ দিন থেকেই শ্বাসকষ্ট, ডায়াবেটিস, অ্যাজমা সমস্যায় ভুগছিলেন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে কেরানীগঞ্জের রোহিতপুরের বাড়ি থেকে ঢাকায় আনা হয় তাকে। ভর্তি করা হয় ইব্রাহিম কার্ডিয়াক হাসপাতালে। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে সিসিইউ’তে ভর্তি করেন। তার শারীরিক অবস্থার কিছুটা উন্নতি হলে তাকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছিল। কিন্তু তিনি আর সুস্থ হয়ে উঠেননি।

আগামীকাল বুধবার বেলা ১১টায় সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদনের জন্য মুহম্মদ খসরুর মরদেহ নেওয়া হবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার পাদদেশে। তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হবে বেলা একটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে। চলচ্চিত্রকার জাহিদুর রহিম অঞ্জন জানান, মুহম্মদ খসরুকে তাঁর গ্রাম কেরানীগঞ্জের রুহিতপুরের মোহনপুরে দাফন করা হবে। অকৃতদার মুহম্মদ খসরু দুই ভাই ও তাঁদের পরিবার পরিজনদের রেখে গেছেন।

বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম পত্রিকা ‘ধ্রুপদী’ ও ‘চলচ্চিত্র’ পত্রিকার সম্পাদক ছিলেন মুহম্মদ খসরু। এছাড়া বেশ কয়েকটি বইও লিখেছিলেন। প্রখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক ও অভিনেতা রাজেন তরফদারের বিখ্যাত চলচ্চিত্র ‘পালঙ্ক’-এ সহকারী পরিচালক হিসেবে কাজ করেছেন।

খসরু উপমহাদেশের প্রখ্যাত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব ঋত্বিক ঘটকের একটি সাক্ষাৎকার গ্রহণ করেছিলেন ৭০-এর দশকে, যা ধ্রুপদী পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। পরে এই সাক্ষাৎকারটি উপমহাদেশের বিভিন্ন পত্রিকায় পুনর্মুদ্রণ হয়েছে।

মুহম্মদ খসরু বাংলাদেশ চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন ইনস্টিটিউটের প্রশিক্ষক হিসেবে কাজ করেন। তাঁকে নিয়ে কথাসাহিত্যিক শাহাদুজ্জামান ফিল্মফ্রিতে লিখেছেন, ‘মুহম্মদ খসরুকে যারা ব্যক্তিগতভাবে চেনেন, তারা জানেন যে মানুষ হিসেবে তিনি ক্ষেপাটে, রাগী, মুখে তাঁর অবিরাম খিস্তি। তাঁর সব রাগ, ক্ষোভ ওই চলচ্চিত্রকে ঘিরেই। এই মানুষ বেঁচে আছেন সংসার করার জন্য নয়, সম্পদ অর্জনের জন্য নয়, খ্যাতি কুড়াবার জন্য নয়, শুধু একটি শিল্পমাধ্যমকে ভালোবাসার এবং সেই ভালোবাসা অন্যের মধ্যে বিলিয়ে দেওয়ার জন্য।’

১৯৬৩ সালে ‘পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংসদ’ প্রতিষ্ঠাতাদের অন্যতম ছিলেন মুহম্মদ খসরু। সৎ, শুদ্ধ ও নির্মল চলচ্চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন, সেগুলোর পঠন-পাঠনের মাধ্যমে আস্বাদন, অনুধাবন ও উপলব্ধি করা, আলোচনা-সমালোচনা করা, চলচ্চিত্র বিষয়ক পত্রিকা প্রকাশ ও প্রচার, সর্বোপরি সমঝদার ও রুচিমান দর্শক তৈরির যে সূত্রপাত হয়েছিল ১৯৬৩ সালে, মুহম্মদ খসরু গত ৫০ বছর সেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছিলেন। ‘পাকিস্তান চলচ্চিত্র সংসদ’ স্থাপনের সময় আরও ছিলেন আনোয়ারুল হক খান, বাহাউদ্দিন চৌধুরী, মোশাররফ হোসেন চৌধুরী, ওয়াহিদুল হক, আবদুস সবুর, সালাহ্উদ্দিন প্রমুখ।

মুহম্মদ খসরুর উদ্যোগে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের তত্ত্বাবধানে প্রতিষ্ঠিত হয় ফিল্ম স্টাডি সেন্টার। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সংসদের আন্দোলনের ফলে প্রতিষ্ঠিত হয় বাংলাদেশ ফেডারেশন অব ফিল্ম সোসাইটিজ এবং জাতীয় ফিল্ম আর্কাইভ। এ প্রতিষ্ঠানগুলোর পেছনে তাঁর যথেষ্ট অবদান ছিল। বরেন্দ্র বার্তা/আবি

Close