গোদাগাড়িপবাশিরোনাম-২

পেঁয়াজ বীজ চাষ করে স্বাবলম্বী দারুশার রফিকুল

ফজলুল করিম বাবলু: পেঁয়াজ একটি নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার। তরকারীসহ বিভিন্ন ধরনের খাবারের মধ্যে পেঁয়াজের ব্যবহার পরিলক্ষিত হয়। পেঁয়াজ ছাড়া কোন তরকারী সুস্বাদু হয়না।

কৃষকরা প্রতিবছর একমৌসুমে পেঁয়াজ উৎপাদন করেন। এই দিয়ে চলে সারা বছর। ঘাটতি হলে অন্যদেশ থেকেও আমদানী করেন সরকার বা ব্যবসায়ীরা। রাজশাহীর মাঠে যেমন একদিকে চাষ হচ্ছে পেঁয়াজ অন্যদিকে আবার অনেকইে পেঁয়াজ বীজ উৎপাদনের জন্য চাষ করছেন। রাজশাহীর পবার দারুশা এলাকা বেজোরা গ্রামের তেমনি একজন কৃষক রফিকুল ইসলাম। তিনি চার বছর ধরে শুধুমাত্র পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করে আসছেন।
রফিকুল বলেন, প্রথমে তিনি স্বল্প আকারে চাষ করলেও এই মৌসুমে তিনি সাড়ে সাত বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। যা থেকে তিনি বীজ উৎপাদন করবেন। তিনি বলেন, গোদাগাড়ীর ভাগাইল ও পবার বড়বিল খ্যাত গুচ্ছগ্রাম সাহেবের পাটালে লিজ নিয়ে তিনি পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করছেন। চাষ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জমিতে পাঁচ থেকে সাতটি চাষ দিয়ে মাটি ক্ষুদ্র আকার করে বেড তৈরী করতে হয়। সেইসাথে বেডের পাশ দিয়ে ছোট ছোট নালা তৈরী করতে হয়। যাতে করে জমিতে পানি আটকে থাকতে না পারে। এরপর বিঘাপ্রতি প্রায় ছয় মন করে দেশী (ছাঁচি) জাতের পেঁয়াজের আল জমিতে রোপন করতে হয়। আল রোপনের সময় বিঘাপ্রতি পরিমান মত জৈব সার, দস্তা ২ কেজি, পটাশ ২০ কেজি, বরুন ২ কেজি ও ইউরিয়া সার ১০ কেজি প্রয়োগ করতে হয়। এতে চারা ভাল হয় এবং বীজও ভাল ও উন্নত মানের হয়।
তিনি আরো বলেন, পেঁয়াজে ফুল আসা মাত্রই মশা, জাব পোকা ও ল্যাদা পোকার আক্রমণ হয়। এরমধ্যে ল্যাদা পোকা সবথেকে মারাত্বক । এই পোকা পেঁয়াজের থোপা বা কদম (স্থানীয় ভাষায়) কেটে মাটিতে ফেলে দেয়। এই পোকা দমনে ডাসবান জাতীয় কীটনাশক অথবা উপসহকারী কৃষি অফিসারের মতামত নিয়ে তিনি সপ্তাহে একবার করে বিষ প্রয়োগ করেন বলে জানান। প্রতি বিঘা জমিতে বিষ, ছত্রাকনাশক, দিনমজুর, সার, সেচসহ পাকা কদম কেটে বাড়িতে নেওয়া পর্যন্ত চলতি মৌসুমে তার জমি লিজসহ একত্রিশ হাজার টাকা খরচ হবে বলে জানান। প্রতিবিঘা জমিতে আড়াই থেকে তিন মন করে বীজ উৎপাদন হয়। কোন কোন বছর সামান্য কমও হয়। বর্তমানে বাজারে প্রতিমন বীজের মূল্য প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার থেকে পঞ্চাশ হাজার টাকা। দুই বছর পূর্বে প্রতিমন বীজের মূল্য ছিলো নব্বই থেকে পঁচানব্বই হাজার টাকা। একবিঘা জমিতে বর্তমান বাজার মূল্যে সব খরচ বাদ দিয়ে পঁয়ষট্টি থেকে সত্তর হাজার টাকা লাভ হবে বলে জানান রফিকুল। বিগত বছরের এর থেকেও বেশী টাকা তিনি রাভ করেছেন বলে জানান।
রফিকুল আরো বলেন, ২ ছেলে ২ মেয়ে সহ তাঁর পরিবারে মোট সদস্য সংখ্যা ছয়জন। এরমধ্যে বড় ছেলে কয়েকমাস পূর্বে সেনাবাহিনীতে চাকরী পেয়েছেন। আর অন্য ছেলে মেয়েরা কেউ কলেজে আবার কেউ স্কুলে লেখাপড়া করছেন। তিনি এই ফসল চাষ করে স্বাচ্ছন্দে এখন সংসার পরিচালনা করছেন। সন্তানদের সঠিকভাবে লেখাপড়া করাচ্ছেন। তাঁর ইচ্ছা নিজে অক্ষরজ্ঞানহীন হলেও প্রতিটি সন্তানকে লেখাপড়া করিয়ে মানুষের মত মানুষ করে গড়ে তুলবেন। সেইসাথে পেঁয়াজের বীজ উৎপাদন করার জন্য অন্যান্য কৃষকদের এগিয়ে আসার আহবান জানান রফিকুল ইসলাম। বরেন্দ্র বার্তা/ফকবা/অপস

Close