অর্থ ও বাণিজ্য

চাহিদা থাকলেও পর্যাপ্ত সরবরাহ নেই দেশী বীজের

অর্থ-বাণিজ্য ডেস্ক :বিদেশি বীজে এখন সয়লাব দেশীয় বাজার। চাহিদা থাকলেও বাজারে দেশীয় বীজের সরবরাহ একেবারেই কম। আগে রাজধানীসহ আশপাশের এলাকায় অহরহ দেশি শস্যের বীজ মিললেও এখন তা দুষ্প্রাপ্য।

আর বেশি ফসলের আশায় মানুষ নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে বিদেশ থেকে আমদানিকরা বীজের ওপর। ফলে দিন দিন দোকানগুলোতে দেশীয় বীজ কম পাওয়া যাচ্ছে।

রাজধানীর সিদ্দিক বাজার হান্নান ম্যানশন কৃষি মার্কেট সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, বীজের দোকানগুলোতে চায়না, ভিয়েতনাম, ভারত, মালয়েশিয়া, মিয়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, ইতালিসহ বিভিন্ন দেশের উচ্চফলনশীল জাতের বীজ দোকানের তাকে সাজিয়ে রেখেছেন বিক্রেতারা। এ ছাড়া বিদেশি বীজে সয়লাব হয়ে গেছে ওই মার্কেটের প্রায় সবকটি বীজের দোকান, যা বাহারি মোড়কের এ সব বীজ দেদার বিক্রি করতে দেখা গেছে। মার্কেটে হাইব্রিড বীজের প্রতিও ক্রেতাদেরও আগ্রহ ছিল অনেক। এদিকে দোকানগুলোতে স্থানীয় প্রজাতির শুধু বরবটি, বেগুন ও পুঁইশাকের বীজ বিক্রি করতে দেখা গেছে।

এদিকে বাসার ছাদে শখ করে শাক-সবজি চাষ করেন রাজধানীর পুরান ঢাকার বাসিন্দা মো. আজিজুল হক। দেশীয় লাউয়ের বীজ সংগ্রহ করতে এসেছেন রাজধানীর সিদ্দিক বাজার হান্নান ম্যানশন কৃষি মার্কেটে। কিন্তু কোথাও দেশীয় বীজ না পেয়ে তিনি হতাশ। একইভাবে দেশি টমেটো, শসা, মিষ্টিকুমড়ার বীজও খুঁজে পাননি তিনি। শেষ পর্যন্ত বিদেশি বীজ নিয়েই বাড়িতে ফিরতে হয়েছে তাকে।অন্যদিকে ধামরাই থেকে সিদ্দিক বাজার হান্নান ম্যানশন কৃষি মার্কেটে সবজির বীজ ক্রয় করতে এসেছেন কৃষক মো. জামিল। তিনি বলেন, প্রথম দিকে আমি দেশীয় বীজের খোঁজ করতাম। তখন দেশীয় বীজ দিয়েই চাষাবাদ করতাম। কিন্তু বর্তমানে দেশি বীজ পাওয়া যাচ্ছে না। তাই বিদেশি হাইব্রিড বীজ দিয়েই চাষ করছি।

একই স্থানে কেরানীগঞ্জ কোনাখোলা থেকে আসা ইকবাল ভূঁইয়া বলেন, বাজারে দেশীয় বীজ নেই, যা আছে উচ্চ ফলনশীল হাইব্রিড জাতের বীজ। অনেক নামি-বেনামি বিদেশি হাইব্রিড বিজ বিক্রি হচ্ছে। তাই একটু চিন্তিত। কোন বীজ ভালো বা খারাপ তা নির্ণয় করা যাচ্ছে না। তাই বিক্রেতার কথা বিশ্বাস করে বীজ কিনতে হচ্ছে।

সিদ্দিক বাজার কৃষি মার্কেটের চাঁদ সীড-এর স্বত্বাধিকারী মো. আবদুল জলিল বলেন, দেশি প্রজাতির বীজের চাহিদা শতভাগ কমে গেছে। যার কারণে স্থানীয় প্রজাতির বীজ দোকানে রাখা হচ্ছে না। অন্যদিকে চাহিদা বেড়েছে আমদানিকরা বাহারি মোড়কের হাইব্রিড বীজের। তিনি আরও বলেন, দশ বছর আগেও ৪০ থেকে ৫০ ধরনের দেশি বীজ বিক্রি করতেন তিনি। বর্তমানে তার দোকানে দেশি বীজ রয়েছে শুধু তিন জাতের।

একই মার্কেটের সালমা কৃষি সীডের স্বত্বাধিকারী জহিরুল ইসলাম বলেন, একটা সময় ছিল যখন চাষীরা নিজের জমিতে ফলানো ফসল থেকে ভালো জাতের বীজটি সংরক্ষণ করত। পরবর্তী মৌসুমে আবার তা থেকেই ফসল ফলাত। কিন্তু এখন তা আর কেউ করে না। করলেও অনেক কম। যার কারণে কৃষকরা হাইব্রিড বীজের ওপরই নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে। আর সে কারণেই কৃষকদের জন্যই আমদানিকৃত হাইব্রিড বীজ বেশি রাখতে হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক পর্যায়ের এক কর্মকর্তা যুগান্তরকে বলেন, বাজারে দেশীয় বীজ নেই এটা যেমন সত্য। তেমনি সব মানুষের মুখে খাবার তুলে দেয়া জরুরি এটাও সত্য। তাই হাইব্রিড সবজি দেশের উৎপাদনের হার ব্যাপক হারে বাড়িয়েছে, ফলে সবজি মানুষের জন্য সহজলভ্য হয়েছে, যা আগে ছিল না।

তবে একটু চিন্তার বিষয়, বাজারে বিভিন্ন কোম্পানির বিদেশি বীজ পাওয়া যাচ্ছে। তাই কিছু কোম্পানির বীজের গুণগত মান নিয়ে আমাদের প্রশ্ন থাকতেই পারে।এদিকে দেশি বীজ সংরক্ষণ ও সরবরাহ করার রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বিএডিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশি বীজের চাহিদা কমে যাওয়ায় তারা এখন দেশেই হাইব্রিড বীজ উৎপাদন করছে। বিএডিসির আবিষ্কৃত টমেটোর বীজটি কৃষকদের মাঝে ব্যাপক সাড়া ফেলেছিল। তাই দেশে নতুন আরও কয়েক প্রজাতির হাইব্রিড বীজ তুলতে চান তারা।সুত্র: যুগান্তর

Close