গোদাগাড়িশিরোনাম

নৌকার পক্ষে থাকার আহবান এমপির, পাঁচ লাখ টাকা চাইলেন শিক্ষকেরা

নিজস্ব প্রতিবেদক :  শিক্ষক-কর্মচারীদের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে নৌকা প্রতীকের পক্ষে সবাইকে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন রাজশাহী-১আসনের সংসদ সদস্য ওমর ফারুক চৌধুরী।  শিক্ষকরা এমপিকে বলেছেন, পাঁচ লাখ টাকা দিলে তারা আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীকে জিতিয়ে দেবেন।

বুধবার দুপুরে গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ও মিলন উৎসবে এমপি ও শিক্ষকদের এই কথোপকথন হয়। এই শিক্ষকরাই উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাদের এ ধরনের প্রতিশ্রুতি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের অন্তরায় বলে মনে করছেন গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা।

শিক্ষকদের অনুষ্ঠানে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ওমর ফারুক চৌধুরী এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন। সভাপতিত্ব করেন গোদাগাড়ী উপজেলা শিক্ষক-কর্মচারী কল্যাণ সমিতির সভাপতি আমিনুর রহমান। বক্তব্য দেন, গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল মজিদ, সমিতির সাধারণ সম্পাদক শহিদুল ইসলাম শিবলী প্রমুখ। অনুষ্ঠানে এমপিপত্নী নিগার সুলতানা চৌধুরী ও গোদাগাড়ী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুর রশিদও উপস্থিত ছিলেন।

এমপি বলেন, ‘আমি একটি স্বপ্ন নিয়ে আপনাদের এই অ্যাসোসিয়েনটিকে গড়ে দিয়েছিলাম বা গড়ার চেষ্টা করেছিলাম। কিন্তু আজকে যখন শুনছি তিনশ কতজন মাত্র সদস্য তখন একটু একটু করে আমার মনের মধ্যে খারাপ লাগছে। আগামী বছরের পিকনিকের আগে সবাইকে এক জায়গায় নিয়ে আসার উদ্যোগ আপনারা নেবেন। যে সমস্ত কলেজের শিক্ষকরা বাকি আছেন, তাদের এই সংগঠনে আনুন।’

এ সময় সংগঠনের তহবিলে টাকা দেয়ার জন্য এমপির কাছে দাবি জানান শিক্ষকরা। এমপি প্রশ্ন করেন, ‘এক লাখ টাকা?’ একজন শিক্ষক বলেন, ‘গতবার তিন লাখ টাকা দিতে চেয়ে এমপি সাহেব ভুলে গেছেন।’ প্রতিউত্তরে এমপি বলেন, ‘নির্বাচনের কারণে সেটা পারিনি। বকেয়া তিন লাখ এবার পরিশোধ করে দেব।’ তখন শিক্ষকরা তাদের তহবিলে এমপির কাছে ছয় লাখ টাকা দাবি করেন।

এ সময় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী বলেন, ‘প্রিন্সিপাল রাজু বলছেন যে, আমরা উপজেলা নির্বাচনে চেয়ারম্যানকে (প্রার্থীকে) জিতিয়ে দিয়ে পাঁচ লাখ টাকা নিয়ে নেব, আপনি শুধু ঘোষণা দিয়ে দেন। কী, আপনারা পারবেন? কই জোর দেখছি না তো।’ তখন শিক্ষকরা একটু করতালি দেন। এমপি আবার বলেন, ‘জোর দেখছি না কিন্তু এখনও।’ শিক্ষকরা তখন আরও জোরে করতালি দেন।’ এমপি আবার বলেন, ‘কই? কই কই কই?’ শিক্ষকরা আরও আরও জোরে করতালি দিতে থাকেন। এমপি বলেন, ‘যাই হোক, এটা আমার প্রস্তাব না কিন্তু। আমি প্রস্তাব দিইনি। এটা প্রিন্সিপালদের পক্ষ থেকে প্রস্তাব এসেছে। সুতরাং আমি কিছু বলতে পারব না।’

আগামী ১০ মার্চ অনুষ্ঠেয় গোদাগাড়ী উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে এবার চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হয়ে নৌকা প্রতীক নিয়ে লড়ছেন উপজেলা যুবলীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম। আর মনোনয়ন না পেয়ে ‘বিদ্রোহী’ হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. বদিউজ্জামান। রাজশাহী নগরীর সীমান্ত নোঙরে শিক্ষকদের এই মিলনমেলাস্থলে জাহাঙ্গীর আলমের পোস্টার লাগানো একটি প্রাইভেটকার দেখা যায়।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে বদিউজ্জামান বলেন, ‘শিক্ষকরা নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অপিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাই পরিকল্পিতভাবে সমিতির নামে শিক্ষকদের নিয়ে পিকনিক-সমাবেশ করা হয়েছে। আগামী ১০ তারিখের নির্বাচনকে প্রভাবিত ও কারচুপি করার উদ্দেশ্যেই এই আয়োজন।’ তিনি বলেন, ‘এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নির্বাচনি এলাকায় প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা থাকায় তিনি শিক্ষকদের এলাকার বাইরে ডেকে তাদের সাথে আঁতাত করতে চাইছেন। তাদের উৎকোচ দিয়ে উপজেলা নির্বাচনকে কলুষিত করতে চাইছেন।’

এ বিষয়ে এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর সঙ্গে কথা বলা সম্ভব হয়নি। তবে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেছেন, নির্বাচনে বেসরকারি স্কুল-কলেজের শিক্ষকরা সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। এই সমিতির অধীনে তাদের সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকায় থাকা কোনো শিক্ষক আছেন কি না তা তারা দেখবেন। কেউ থাকলে তাকে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসারের তালিকা থেকে বাদ দেয়া হবে।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close