জাতীয়শিরোনাম-২

এগিয়ে যাওয়া অপ্রতিরোধ্য নারী

অর্ণব পাল সন্তু :গৃহস্থালি কাজের মাধ্যমে পারিবারিক ক্ষেত্রে তো বটেই আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রেখে চলেছে নারীরা। একজন নারী প্রতিদিন গড়ে ১৬ থেকে ২০ ঘণ্টা কাজ করা সত্ত্বেও অর্থনীতিতে তার অবদানের প্রকৃত মূল্যায়ন হচ্ছে না।

নারী .শ্রমজাতিসংঘের সর্বশেষ সংশোধিত জাতীয় আয়ের পরিমাপ সমাজে নারীর অদৃশ্য অবদানের বিষয়টি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে। এ হিসাবে দেখা গেছে, পরিবারে তৈরি হয়ে পরিবারেই ব্যবহৃত হয় এ রকম জিনিসের বাজার দাম অনুযায়ী সারা দুনিয়ায় মোট ১৬ ট্রিলিয়ন ডলার তথা ১৬ লাখ কোটি ডলার মূল্যের দ্রব্য উৎপন্ন হয়। এর মধ্যে ১১ ট্রিলিয়ন ডলার উৎপাদন করে নারীরা।

বিশ্বের মোট উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে নারীদের গৃহকর্ম থেকে ১০ থেকে ৩৫ শতাংশ উৎপাদিত হয় । যার জন্য তারা আলাদা কোনো দাম পায় না।

জাতিসংঘের অপর এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, নারীরা সংসারে যে কাজ করে তার দাম দিতে হলে এবং তা সংশ্লিষ্ট দেশের জাতীয় আয়ে অন্তর্ভুক্ত করলে সমস্ত পৃথিবীর মোট উৎপাদনের পরিমাণ ২০ থেকে ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।পুরুষরা পরিবারের ভরণপোষণের জন্য শ্রমশক্তি বিক্রি করে আয় অর্জন করে। আর জীবনধারণের জন্য অত্যাবশ্যকীয় বাকি সব কাজ অর্থাৎ গৃহস্থালি বা সাংসারিক কর্মকাণ্ডের বোঝা বহন করে নারীরা। যার অর্থনৈতিক মূল্য ধরা হয় না বলে তা স্বীকৃতিহীন অদৃশ্য অবদান হিসেবে থাকে।

বাংলাশের প্রশাসনের উচ্চপদে ৫৩৫ নারী,৯ জেলার ৯ নারী ডিসি,চ্যালেঞ্জিং পেশা পুলিশে  নারীর অংশগ্রহন ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে সবক্ষেত্রে নারীর জয়-জয়কার এবং সফলতার সাথেই।গবেষণায় এসেছে রাজনৈতিক বৈষম্য যে ৬টি দেশে ৫০ শতাংশ কমে এসেছে, তার মধ্যে বাংলাদেশে অন্যতম। বাংলাদেশে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে, তা তো অস্বীকার করার উপায় নেই।

নারীর ক্ষমতায় বাড়ছে বটে। তবে কর্তৃত্বের প্রশ্নে নারীও নিপীড়কের ভূমিকায় থাকছেন, যা পুরুষতান্ত্রিকেরই নামান্তর।

বিসিএস উইমেন নেটওয়ার্কের এক তথ্যে দেখা গেছে, নারী বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারে ২১ শতাংশ, পুলিশ ক্যাডারে ৯ শতাংশ, পররাষ্ট্র ক্যাডারে ২৫ শতাংশ, স্বাস্থ্য ক্যাডারে ১৭ শতাংশ, শিক্ষা ক্যাডারে ২৭ শতাংশ, পরিবার পরিকল্পনা ক্যাডারে ১৩ শতাংশ, কর ক্যাডারে ১১ দশমিক ২ শতাংশ, অডিট ক্যাডারে ২০ শতাংশ, পরিসংখ্যান ক্যাডারে ৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

দেশের ৬৪ জেলায় ৬৪ জন ডিসি রয়েছেন। সরকারের উপসচিব পদমর্যাদার কর্মকর্তাদের জেলা প্রশাসক নিয়োগ দেয়া হয়।ডিসি. নারী

বর্তমানে ৯ জেলায় নারী ডিসিরা দায়িত্ব পালন করছেন। তারা হলেন- সিরাজগঞ্জের ডিসি কামরুন নাহার সিদ্দীকা, নড়াইলের আনজুমান আরা, নরসিংদীর সৈয়দা ফারহানা কাউনাইন, মুন্সিগঞ্জের সায়লা ফারজানা, ফরিদপুরের উম্মে সালমা তানজিয়া, পঞ্চগড়ের সাবিনা ইয়াসমিন, নীলফামারীর নাজিয়া শিরিন, কুড়িগ্রামের মোছা. সুলতানা পারভীন এবং শেরপুরের ডিসি আনার কলি মাহবুব।

বর্তমানে প্রশাসনের উচ্চপদে ৫৩৫ জন নারী দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো ক্যাডারের নয় সরকারের পদ হিসেবে বিবেচিত উপসচিব থেকে সচিব পর্যন্ত পদগুলোতে এ নারী কর্মকর্তারা দায়িত্ব পালন করছেন।

নারী কর্মকর্তা ও সিভিল সার্ভিসের নারী কর্মকর্তাদের সংগঠনের নেতারা জানিয়েছেন, নীতি-নির্ধারণী হিসেবে বিবেচিত এসব পদে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে নারীরা ভালো অবস্থানে রয়েছেন।

বর্তমানে প্রশাসনে সিনিয়র সচিব, সচিব ও ভারপ্রাপ্ত সচিব রয়েছেন ৭৮ জন। এরমধ্যে নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ৬ জন। নারীদের হার প্রায় ৮ শতাংশ।

বৃহস্পতিবারের (৭ মার্চ) তথ্য অনুযায়ী, নারী অতিরিক্ত সচিব রয়েছেন ৮১ জন, মোট অতিরিক্ত সচিবের সংখ্যা ৫২৬ জন। ৭৩৮ জন যুগ্ম-সচিবের মধ্যে নারী রয়েছেন ৮৭ জন। প্রশাসনে নারী উপসচিব রয়েছেন ৩৬১ জন, বর্তমানে মোট উপসচিবের সংখ্যা এক হাজার ৮৪০ জন।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়ে সর্বশেষ ২০১৭ সালের পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে। সেই পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সরকারি চাকরিতে মোট নারীর সংখ্যা ৩ লাখ ৬৮ হাজার ৮১৯ জন।

নারীদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির সরকারি চাকরিতে কর্মরত রয়েছেন ৩০ হাজার ৪২ জন, দ্বিতীয় শ্রেণিতে ৪০ হাজার ৫৬৩ জন। সবচেয়ে বেশি নারী রয়েছেন তৃতীয় শ্রেণির সরকারি চাকরিতে, এ স্তরে নারীর সংখ্যা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৭৮০ জন। চতুর্থ শ্রেণির চাকরিতে নারীদের সংখ্যা ৪৯ হাজার ৪৩৪ জন।

১৯৭৪ সালে প্রথম আট নারী কনস্টেবল নিয়োগ দেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। তবে তারা কাজ করতেন সাদা পোশাকে। এরপর পুলিশি পোশাকে নারী সদস্যদের নিয়োগ শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। সে সময় মাত্র ১১ নারী সদস্য নিয়োগের মাধ্যমে যে পথচলা শুরু সে সংখ্যাটা আজ ১৩ হাজার ছাড়িয়েছে।

চ্যালেঞ্জিং পেশা পুলিশে অভাবনীয় সাফল্য পেয়েছে নারীরা। মিলেছে স্বীকৃতিও। অপরাধ দমন ও নিরাপত্তায় তারা সমানতালে এগিয়ে যাচ্ছে। পিছিয়ে নেই জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনেও।

পুলিশ সদর দফতর সূত্রে জানা গেছে, জানুয়ারি ২০১৯ এর হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত মোট নারীর সংখ্যা ১৩ হাজার ১৭৭ জন। যা পুলিশের মোট জনবলের শতকার ৬.৯৬৫ শতাংশ। কর্মরত নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত প্রায় ১:১৩।নারী. পুলিশ

পুলিশ সদর দফতরের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশ পুলিশের উচ্চ পর্যায়ে অর্থাৎ বিভিন্ন ইউনিটে কর্মরত প্রথম শ্রেণির নারী কর্মকর্তা রয়েছেন ২৭৪ জন। এদের মধ্যে অতিরিক্ত আইজিপি একজন, অতিরিক্ত ডিআইজি চারজন, পুলিশ সুপার ৭২, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ১০১ এবং সহকারী পুলিশ সুপার রয়েছেন ৯৬ জন। ১৯৮৬ সালে প্রথম সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) পদে ফাতেমা বেগমের যোগদানের মাধ্যমে পুলিশে উচ্চ পর্যায়ে (বিসিএস) নারীদের নিয়োগ শুরু হয়। বর্তমানে পুলিশে উচ্চ পর্যায়ে (বিসিএস) কর্মরত নারীর সংখ্যা মোট বিসিএস কর্মকর্তার দশ শতাংশের বেশি। এতে নারী ও পুরুষের সংখ্যার অনুপাত ১:১০।

পুলিশ বাহিনীর বিভিন্ন ইউনিটে নারী সদস্যরা দায়িত্ব পালন করলেও আগে ট্রাফিক সার্জেন্ট পদে দেখা যায়নি। ২০১৭ সালে ২৮ নারী সার্জেন্ট পদে যোগদানের মধ্য দিয়ে রাজপথে কাজ শুরু করেন নারী পুলিশ সদস্যরা।

বর্তমানে শুধু ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগে কাজ করছেন ১৭৬ নারী সদস্য। এছাড়া সিএমপিতে ২০, আরএমপিতে ছয়, এসএমপিতে ৯, কেএমপিতে আট, বিএমপিতে দুই, আরএমপি ও জিএমপিতে একজন করে নিয়োজিত রয়েছেন।

নারী পুলিশের বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, নেতৃত্ব ও দক্ষতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যকে সামনে রেখে ২০০৮ সালে চালু করা হয়েছে ‘উইমেন পুলিশ নেটওয়ার্ক।’ ২০১২ সালে বাংলাদেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে নারী পুলিশের আন্তর্জাতিক সম্মেলন। ওই সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের নারী পুলিশের ভূমিকা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে।

১৯৮৯ সাল থেকে জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা কার্যক্রমে অন্যান্য বাহিনীর পাশাপাশি অংশ নিচ্ছেন পুলিশ সদস্যরা। এ পর্যন্ত শান্তিরক্ষা মিশনে প্রায় আট হাজার পুলিশ অংশ নিয়েছেন। চলতি বছরের সর্বশেষ তথ্যমতে ১২৭ নারী পুলিশ সদস্য জাতিসংঘ মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন।

বর্তমানে পুলিশের অতিরিক্ত আইজিপি হিসেবে পুলিশ স্টাফ কলেজের রেক্টরের দায়িত্ব পালন করছেন রউশন আরা বেগম। অন্যদিকে সিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার (ডিআইজি) আমেনা বেগম এবং র‌্যাব-৮ এর সিও হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অতিরিক্ত ডিআইজি আতিকা ইসলাম।

খাদ্যে ভেজাল, ওজনে কম। সবমিলিয়ে প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী মিলছে না পণ্য ও সেবা। বাড়তি মুনাফার লোভে এভাবে নানা কৌশলে ভোক্তাদের ঠকাচ্ছে কিছু অসৎ ব্যবসায়ী। এ ধরনের অপরাধ দমনে মাঠে কাজ করছেন ৮ সাহসী নারী কর্মকর্তা।অভিযোগ নিষ্পত্তিতেও এসব নারী কর্মকর্তারা সুনাম কুড়িয়েছেন। সংসার সামলেও পুরুষের সঙ্গে সমানতালে কাজ করে বৈষম্য দূর করছেন।নারী. ম্যাজিষ্ট্রেস

এমনই একজন জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক শাহীন আরা মমতাজ। এছাড়াও রয়েছেন অধিদফতরের উপ-পরিচালক নুরজাহার বেগম, সহকারী পরিচালক শাহনাজ সুলতানা, আতিয়া সুলতানা, আফরোজা রহমান, ফাহমিনা আক্তার, রজবী নাহার রজনী, ইন্দ্রানী রয় ও জান্নাতুল ফেরদাউস।

Close