নাগরিক মতামতশিরোনাম

রাজনীতি ও ক্ষমতার মূল স্রোতে পিছিয়ে রয়েছে নারী

অর্ণব পাল সন্তু : নারীরা কি শুধু সংরক্ষিত আসনেই থাকবে? না দলের নেতৃত্বে থেকে মূল রাজনীতিতে অংশ নেবে এ বিষয়টি এখন রাজনীতির এজেন্ডায় আসা উচিৎ।

জাতীয় সংসদে আসন সংরক্ষিত ও সংসদ সদস্য নির্ধারণ করার মধ্য দিয়ে হয়তো নারীদের অংশগ্রহণ বাড়ছে।অতীতের তুলনায় নারীর ক্ষমতায়ন এগিয়ে গেলেও রাজনীতি ও ক্ষমতার মূল স্রোতে তারা পিছিয়ে রয়েছে ।  অনেক ক্ষেত্রেই এ অংশগ্রহণ প্রকৃতপক্ষে নারীদের রাজনৈতিকভাবে ক্ষমতায়িত করছে না।

বিভিন্ন রাজনৈতিক দলে নারী নেতৃত্বের হিসেবে দেখা যায়, কেন্দ্রীয় নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ১৮ দশমিক ৫১ শতাংশ, সিপিবি ১৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ, বিএনপি ১৩ দশমিক ০৫, জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল জাসদ ১১ দশমিক ৯২ শতাংশ ও জাতীয় পার্টি আট দশমিক ৪৮ শতাংশ কোটা পূরণ করেছে।

১৯৯৭ সালের ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে নারী প্রার্থীর সংখ্যা ছিল ১১০ জন। তবে জয়লাভ করেন ২৩ জন। ২০১১ সালে ইউপি নির্বাচনে ২২৬ জন প্রার্থী হয়ে জয়ী হন ২৩ জন। ২০১৪ সালে ৪৫৮ ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীর সংখ্যা ছিল এক হাজার ৫৬০ জন। ২০১৬ সালে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদে মাত্র ২৯ জন চেয়ারম্যান পদে বিজয়ী হন।

২০০৯ সালের উপজেলা নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী নারীর সংখ্যা ছিল দুই হাজার ৯০০ জন। ২০১৪ সালের ৪৫৮টি উপজেলা নির্বাচনে তা কমে দাঁড়ায় এক হাজার ৫০৭ জনে। এ হিসাবে ২০০৯ সালে প্রতি উপজেলায় ৭-৯ জন নারী প্রতিনিধিত্ব করেন। ২০১৪ সালে এ হার গড়ে দাঁড়ায় ৩-৪ জনে। একইভাবে ২০১৫ সালে অনুষ্ঠিত পৌরসভা নির্বাচনে মাত্র এক দশমিক ৬৩ শতাংশ নারী মেয়র পদে জয়লাভ করেন।

২০১৪ সালে অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদে ২৭টি আসনে নারী প্রার্থী ছিলেন ২৮ জন। জয় পান ২৩ আসনে। এরমধ্যে আওয়ামী লীগ ১৯, জাতীয় পার্টি তিন ও জাসদ একটি পায়। ২০০৮ সালের নির্বাচনে চূড়ান্ত প্রার্থীদের মধ্যে নারী প্রার্থীর হার ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ। যা মোট এক হাজার ৫৬৬ জনের মধ্যে মাত্র ৫৭ জন, জয়লাভ করেন মাত্র ১৯ জন। যা জনসংখ্যার অর্ধেক জনগোষ্ঠী হিসেবে মাত্র ছয় শতাংশ আসনে নারীদের বিজয়।

২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত একাদশ জাতীয় সংসদে সরাসরি ২৩টি আসন থেকে নির্বাচিত হন নারীরা। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের ২০টি, জাতীয় পার্টির দুইটি ও জাসদের একটি রয়েছে।

নিজেরা করি সম্পাদক খুশি কবীর বলেন, ‘আমি মনে করি সরাসরি আসনগুলো থেকে ৫০ ভাগ নারীদের মনোনয়ন দেয়া উচিত। যদি তা না হয় তাহলে ওই ৩৩ শতাংশ অন্তত দেয়া উচিত। তাহলে আলাদাভাবে সংরক্ষিত আসনের দরকার হতো না। সংরক্ষিত আসন যদি রাখতেই হয় অবশ্যই নির্বাচন হতে হবে।’

Close