গোদাগাড়িচারঘাটতানোরদূর্গাপুরপুঠিয়াবাগমারাবাঘামহানগরমোহনপুরশিরোনাম

উপজেলা নির্বচনের প্রস্তুতি সম্পন্ন : রাজশাহীর আট উপজেলায় ভোট গ্রহন রোববার

পঞ্চম উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের প্রথম দফার ভোট গ্রহণের প্রস্তুতি সম্পন্ন। প্রথম দফায় আগামিকাল রোববার ভোটগ্রহণ করা হবে রাজশাহীর আট উপজেলায়। তফশিল ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতের স্থগিতাদেশে জেলার পবা উপজেলায় নির্বাচন হচ্ছে না। এক বছরের জন্য স্থগিত রয়েছে সেখানকার ভোট। নির্বাচনের তফশিল অনুযায়ী, শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টায় প্রার্থীদের প্রচার-প্রচারণার সময় শেষ হয়েছে। এখন ভোটকেন্দ্রগুলো ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা নিচ্ছে আইনশৃংখলারক্ষা বাহিনী।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন এই নির্বাচনে ৩ স্তরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। এতে দায়িত্বপালন করবেন জেলা পুলিশের প্রায় ২ হাজার সদস্য। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় নেয়া হয়েছে বিভিন্ন কৌশল। ভোটগ্রহণ হবে জেলার ৫২২ কেন্দ্র। নিরাপত্তা পরিকল্পনায় এর মধ্যে ঝুঁকিপূর্ণ (গুরুত্বপূর্ণ) ভোটকেন্দ্র ধরা হয়েছে ২১৬টি। বাকি ৩০৬টি কেন্দ্র সাধারণ ধরে নিরাপত্তা ছক তৈরী করা হয়েছে।

শনিবার সকাল ১০টা থেকেই বলবৎ হয়েছেবিশেষ এই নিরাপত্তা। নির্বাচনে মোতায়েনকৃত পুলিশ কর্মকর্তাদের নিয়ে শুক্রবার বিকেলে জেলা পুলিশ লাইন মাঠে বৈঠক করেছেন জেলার পুলিশ সুপার মো. শহিদুল্লাহ । সেখানে শতভাগ নিরপেক্ষতার সাথে দায়িত্বপালনে কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন তিনি।

রাজশাহীতে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে অংশ নিতে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছিলেন মোট ৮৯ জন প্রার্থী। যাচাই-বাছাইকালে এদের মধ্যে মনোনয়নপত্র বাতিল হয় ১৬ জনের। এক চেয়ারম্যান, এক ভাইস-চেয়ারম্যান ও দুই মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান প্রার্থী আবার নির্বাচনে ফেরেন হাইকোর্টের সিদ্ধান্ত। ভোটের মাঠে রয়েছেন ১৮ চেয়ারম্যান, ৩১ ভাইস-চেয়ারম্যান এবং ২০ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান প্রার্থী।

গোদাগাড়ী, মোহনপুর, বাগমারা ও চারঘাট উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও সিনিয়র জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। ইতিমধ্যে ভোট গ্রহণের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপজেলা পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। সেখান থেকে শনিবার সন্ধ্যার মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর উপস্থিতিতে নির্বাচনী সরঞ্জাম পৌঁছে যাবে ভোটকেন্দ্রে। রোববার সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ হবে। এখন পর্যন্ত নির্বাচন ঘিরে অপ্রীতিকর ঘটনার খবর নেই।

রাজশাহীর অন্য চার উপজেলা নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক জুলকার নায়ন জানান, জেলার তানোরে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৪৩, গোদাগাড়ীতে ২ লাখ ৩৮ হাজার ৪৩, মোহনপুরে এক লাখ ২৯ হাজার ২৪৮, বাগমারায় ২ লাখ ৭৮ হাজার ১৪, পুঠিয়ায় এক লাখ ৬০ হাজার ৭২৪, দুর্গাপুর এক লাখ ৪১ হাজার ১০৫, চারঘাটে এক লাখ ৫৯ হাজার ৭২৫ এবং বাঘায় এক লাখ ৪৪ হাজার ৫৭৩ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচন সুষ্ঠু হবে বলেই আশা করছেন সবাই।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের আওতাধীন ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১৬টি। এর মধ্যে পুঠিয়া উপজেলায় ভোটকেন্দ্র রয়েছে ১১টি এবং চারঘাটে ৫টি। নগর পুলিশের প্রত্যেক ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ বলছে নির্বাচন কমিশন। এসব ভোটকেন্দ্র ঘিরে বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছে নগর পুলিশ।

জেলা পুলিশের মুখপাত্র আবদুর রাজ্জাক খান বলেন, নির্বাচনে কোথাও কোন নিরাপত্তার শঙ্কা নেই। তারপরও জনগণের নিরাপত্তায় সবধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। নির্বাচনে কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা বরদাস্ত করা হবে না। তিনি বলেন, প্রত্যেক সাধারণ ভোটকেন্দ্রে একজন পুলিশ সদস্যের সাথে ১২ জন আনসার সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। আর গুর্বত্বপূর্ণ কেন্দ্রে কেবল বাড়বে একজন পুলিশ সদস্য।

নির্বাচনে প্রতি ইউনিয়ন ও পৌর এলাকায় দুটি করে মোট ১০৯টি মোবাইল টিম দায়িত্ব পালন করবে। প্রত্যেক থানায় থাকবে একটি করে স্ট্রাইকিং টিম। প্রস্তুত থাকবে জেলা পুলিশের কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি)। তাছাড়া পর্যাপ্ত পুলিশ সদস্য থাকবে রিজার্ভে। নির্বাচনে নগর পুলিশও পর্যাপ্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।

রাজশাহীর গোদাগাড়ী ও তানোর উপজেলায় কিছুটা সংশয় থেকেই যাচ্ছে । নির্বাচন কমিশনের ভাষায়, গুরুত্বপূর্ণ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি গোদাগাড়ী উপজেলায়। তারপরেও সব স্থানে ভোট শান্তিপূর্ণ করতে সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তারা।গোদাগাড়ী-তানোরে দলীয় প্রার্থিদের জেতাতে মরিয়া স্থানীয় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরী। আচরণবিধি ভেঙে এলাকায় থেকে অংশ নেন সভা-সমাবেশে। এক সভা থেকে গোদাগাড়ীর বিদ্রোহী প্রার্থীকে মারধরের নির্দেশ দিয়ে উত্তেজনা ছড়ান তিনি। ওমর ফারুক চৌধুরী গোদাগাড়ীর কলেজ শিক্ষক, যারা নির্বাচনে সহকারী প্রিজাইডিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের সঙ্গে পিকনিকে অংশ নিয়েও বিতর্কের জন্ম দেন। তাই এ দুই উপজেলায় শান্তিপূর্ণ ভোট নিয়ে আওয়ামী লীগ ব্যাতিত অন্য প্রার্থী এবং ভোটারদের মনে রয়েছে সংশয়।

তানোর উপজেলায় সবচেয়ে বেশি এগিয়ে আছেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টি মনোনীত ‘হাতুড়ি’ প্রতিকের প্রার্থী শরিফুল ইসলাম। এ নির্বাচনে তার পক্ষে গণজোয়ার সৃষ্টি হয়েছে। জনবান্ধব উপজেলা পরিষদ ও সন্ত্রাসমুক্ত আধুনিক তানোর গড়ার শ্লোগানে প্রচারে থাকা শরিফুল বিপুল ভোটে নির্বাচিত হবেন বলে আশা করছেন দলটির নেতাকর্মী ও স্থানীয় ভোটাররা।

স্থানীয় এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর নিকটাত্বীয় বলে উপজেলা নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী লুৎফর হায়দার রশীদ ময়না গত ১০ বছর ধরে তানোর ‘শাসন’ করে আসছেন। ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান থাকাকালে তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতিরও অভিযোগ আছে।

জেলার তানোর উপজেলায় ভোটগ্রহণ হবে ৫১ কেন্দ্রে। ২৮টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৩টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র রয়েছে এ উপজেলায়। গোদাগাড়ী উপজেলায় ৯৮ ভোট কেন্দ্রের ৩৬টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৫৮টি সাধারণ। মোহনপুর উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে মোট ভোটকেন্দ্র ৪৪টি। বাগমারায় জেলার সর্বাধিক ১০৬টি ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২৭টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৭৯টি সাধারণ। দুর্গাপুরের ৫৩ ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ১৫টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ৩৮টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। জেলার পুঠিয়ায় ৫২ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এর মধ্যে ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২৯টি সাধারণ ভোটকেন্দ্র। চারঘাট উপজেলায় ২৩টি ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ মিলিয়ে ভোটকেন্দ্র রয়েছে ৪৪টি। এছাড়া বাঘা উপজেলার ৫৯ ভোটকেন্দ্রে ভোটগ্রহণ হবে। এখানকার ২২টি ভোটকেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ এবং ২১টি সাধারণ ধরে নিরাপত্তা কৌশল ঠিক করেছে পুলিশ বিভাগ।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close