অর্থ ও বাণিজ্যশিরোনামস্বাস্থ্য বার্তা

আগামী বাজেটে তামাকের ওপর কর বাড়ানোর দাবি

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক : দেশে তামাকের ব্যবহার হ্রাস করতে ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বাজেটে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর কর বাড়ানোর দাবি করেছে কয়েকটি সংগঠন। তারা বলছে, কর আরোপ মাধ্যমে তামাকের প্রকৃত মূল্য ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পেলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে তামাকের ব্যবহার ৫ শতাংশ হ্রাস পায়। তবে কার্যকর করারোপের অভাবে বাংলাদেশে তামাকপণ্যের প্রকৃত মূল্য বাড়েনি, বরং সস্তা হচ্ছে।

প্রজ্ঞা ও অ্যান্টি টোব্যাকো মিডিয়া অ্যালায়েন্সের (আত্মা) উদ্যোগে তামাকবিরোধী সংগঠন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন, ঢাকা আহছানিয়া মিশন, অ্যাসোসিয়েশন ফর কমিউনিটি ডেভেলপমেন্ট (এসিডি), ইয়ং পাওয়ার ইন সোশ্যাল অ্যাকশন (ইপসা) এবং তামাকবিরোধী নারী জোট আজ রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে তামাকের ওপর কর বাড়ানোর দাবি করেছে। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন আত্মার সহআহ্বায়ক নাদিরা কিরণ। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক চেয়ারম্যান ও দুদকের কমিশনার নাসির উদ্দিন আহমেদ।

লিখিত বক্তব্যে নাদিরা কিরণ বলেন, ২০০৯ সালের গ্যাটসের হিসাব অনুযায়ী বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ, অর্থাৎ প্রায় ৪ কোটি ১৩ লাখ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন। ২৩ দশমিক ২ শতাংশ ধূমপায়ী এবং ৩১ দশমিক ৭ শতাংশ ধোঁয়াবিহীন তামাক (জর্দা ও গুল) ব্যবহারকারী। ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে বেশি। তিনি বলেন, ১৩-১৫ বছরের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে তামাক সেবনের হার ৯ দশমিক ২ শতাংশ। তামাক ব্যবহারজনিত রোগে দেশে প্রতিবছর প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ অকালে মৃত্যুবরণ করেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যানুযায়ী, তামাক খাত থেকে সরকার যে পরিমাণ রাজস্ব পায়, তার বিপরীতে তামাক ব্যবহারের কারণে অসুস্থ রোগীর চিকিৎসায় সরকারের স্বাস্থ্য খাতে দ্বিগুণ অর্থ ব্যয় হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আগামী অর্থবছররে বাজেটে সিগারেট, বিড়ি, জর্দা ও গুলের ওপর শুল্ক বাড়ানোর সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয় সংগঠনগুলো। তারা বলছে, নিম্নস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৬০ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ এবং উচ্চস্তরে ১০ শলাকা সিগারেটের সর্বনিম্ন মূল্য ১০০ টাকা নির্ধারণ করে ৬৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হোক। এ ছাড়া বিড়ির ক্ষেত্রে ফিল্টার ও ননফিল্টার বিভাজন তুলে দিয়ে প্রতি ২৫ শলাকা বিড়ির সর্বনিম্ন মূল্য ৩০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ৬ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে তারা।

অন্যদিকে, প্রতি ২০ গ্রাম ধোঁয়াবিহীন তামাকপণ্যের সর্বনিম্ন মূল্য ৫০ টাকা নির্ধারণ করে ৪৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক এবং ১০ টাকা সুনির্দিষ্ট কর আরোপের প্রস্তাব দিয়েছে তামাকবিরোধী সংগঠনগুলো।

এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, তামাকে কর বাড়ালে সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে। তবে করহার বাড়ানোর প্রস্তাব সংসদে পাস হতে হয়। সে জন্য এনবিআর যেসব প্রস্তাব নিয়ে যায়, তার সব পাস করতে পারে না। তা ছাড়া বেশ কয়েকজন সাবেক সচিব ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকোর উচ্চপর্যায়ে আছেন। সরকারেরও শেয়ার রয়েছে। এসব হচ্ছে স্বার্থের সংঘাত। সে জন্য তামাকের ওপর কর বেশি বাড়বে না বলে মন্তব্য করেন তিনি।

নাসির উদ্দিন আহমেদ বলেন, এনবিআরের মোট রাজস্বের ১০ শতাংশ এবং ভ্যাটের ৩০ শতাংশ সিগারেট থেকে আসে। বিড়ি থেকে বেশি কর আসে না, মাত্র ৪ শতাংশ। তা ছাড়া ধোঁয়াবিহীন তামাক থেকে মাত্র শূন্য দশমিক ২ শতাংশ কর আসে।

সাবেক এই এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, এনবিআরের বড় দুর্বলতা হচ্ছে করজাল বাড়ানো যায়নি। সে জন্য রাজস্ব আদায়ে তারা সিগারেট কোম্পানির ওপর নির্ভরশীল থাকে। সে জন্য কোম্পানিগুলোর কিছু দাবি এনবিআরকে মানতে হয়। এটিকে তামাক নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধতা হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য দেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক আব্দুল মালিক, ভাইটাল স্ট্র্যাটেজিসের বাংলাদেশ কান্ট্রি অ্যাডভাইজার শফিকুল ইসলাম, দ্য ইউনিয়নের টেকনিক্যাল অ্যাডভাইজার সৈয়দ মাহবুবুল আলম, ক্যাম্পেইন ফর টোব্যাকো ফ্রি কিডসের গ্রান্টস ম্যানেজার (বাংলাদেশ) মাহফুজুর রহমান ভূঁইয়া, আত্মার আহ্বায়ক লিটন হায়দার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ কার্যালয়ের কর্মকর্তা সৈয়দ মাহফুজুল হক। প্রথম অলো

Close