অর্থ ও বাণিজ্যমহানগরশিরোনামস্বাস্থ্য বার্তা

সকল প্রকার তামাক পণ্যের উপর সুনির্দিষ্ট এক্সাইজ ট্যাক্স আরোপ করতে হবে

- ফজলে হোসেন বাদশা, এমপি

নিজস্ব প্রতিনিধি: “তামাক জনস্বাস্থ্যের জন্য হুমকি স্বরুপ। তামাকের ব্যবহার মানবদেহে নানা রোগের সৃষ্টি করে। জনস্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির উপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করলে তামাকের ব্যবহার থেকে মানুষকে দূরে রাখতে হবে। আর এ জন্য প্রয়োজন সকল প্রকার প্রকার তামাকের মূল্য বৃদ্ধি। বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করে পর্যায়ক্রমিকভাবে বিড়ি উৎপাদন বন্ধ করতে হবে। তামাকের উপর বিদ্যমান কর কাঠামো পরিবর্তন করে একটি একক কর নীতিমালা প্রণয়ন করতে হবে। তামাকের কর বাড়িয়ে তামাকজাত দ্রব্য গ্রহণ থেকে বিরত রাখা সম্ভব। ” -প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাজশাহী-০২ আসনের সংসদ সদস্য ফজলে হোসেন বাদশা একথা বলেন।

তামাকের কর নীতিমালা গ্রহণ এবং আসন্ন বাজেটে সকল তামাকজাত পণ্যের খুচরা মূল্যের সুনির্দিষ্ট পরিমাণ স্পেসিফিক এক্সাইজ ট্যাক্স নির্ধারণ ও তামাকের ওপর আরোপিত স্বাস্থ্য উন্নয়ন সারচার্জ ১ শতাংশ থেকে বৃদ্ধি করে ২ শতাংশে উন্নীত করার দাবিতে গতকাল বুধবার সকাল ১১টায় নগরীর বসরকারী সংগঠন এ্যাসোসিয়েশন ফর কম্যুনিটি ডেভেলপমেন্ট-এসিডির অনুষ্ঠিত এডভোকেসি সভা অনুষ্ঠিত হয়। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও এসিডির সভাপতি প্রফেসর ড: চৌধুরী সারওয়ার জাহানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় মুল বক্তব্য উপস্থাপন করেন এসিডি’র এডভোকেসি অফিসার শরিফুল ইসলাম শামীম। এডভোকেসি সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন এসিডির নির্বাহী পরিচালক সালিমা সারোয়ার, শিক্ষক শ্যামাপদ স্যানাল, দৈনিক সোনালী সংবাদের সম্পাদক লিয়াকত আলী, নগরীর ৫ নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর কামরুজ্জামান কামরু, ভোলানাথ হিন্দু একাডেমীর প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্রনাথ সরকার, শাহ মুখদুম কলেজের শিক্ষক সৈয়দুল আজম নিঠু, রাজশাহী জেলা মহিলা পরিষদের সভাপতি কল্পনা রায়, বাংলানিউজ ২৪.কমের সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট শরীফ সুমন, দৈনিক নতুন প্রভাতের বার্তা সম্পাদক সোহেল মাহবুব, দৈনিক ইত্তেফাকের স্টাফ রিপোর্টার আনিসুজ্জামান, দৈনিক সংবাদের রাজশাহী প্রতিনিধি সুব্রত দাস, বাংলাভিশনের স্টাফ রিপোর্টার পরিতোষ চৌধুরী আদিত্য, দৈনিক সোনার দেশের প্রতিনিধি দুলাল আবদুল্লাহ, বরেন্দ্র বার্তা প্রতিনিধি শরিফুল হাসান সমাপ্ত, এসিডির প্রকল্প সমন্বয়কারী এহসানুল আমিন ইমন, প্রোগ্রাম অফিসার কৃষ্ণা রানী বিশ্বাস, তুহিন ইসলাম প্রমুখ।

বক্তারা বলেন, তামাক ও তামাকজাত পণ্য স্বাস্থ্যের জন্য হানিকর হওয়া সত্তে¡ও বাংলাদেশে ৪৩ শতাংশ অর্থাৎ ৪ কোটি ১৩ লক্ষ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ তামাক সেবন করেন, যার মধ্যে ২ কোটি ১৯ লক্ষ ধূমপানের মাধ্যমে তামাক ব্যবহার করেন এবং ২ কোটি ৫৯ লক্ষ ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহার করেন। এই ধোঁয়াবিহীন তামাক ব্যবহারের হার নারীদের মধ্যে অনেক বেশি।

বাংলাদেশে তামাকের উপর শুল্ক-কাঠামো অত্যন্ত জটিল যেমন: সিগারেটের ক্ষেত্রে ভিন্ন ভিন্ন মূল্যস্তর, গুল-জর্দার ক্ষেত্রে এক্স-ফ্যাক্টরি প্রাইস ইত্যাদি প্রথা চালু আছে। মাথাপিছু আয়বৃদ্ধি ও মুদ্রাস্ফীতিকে বিবেচনা করে তামাক পণ্যকে মানুষের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে নিয়ে যাওয়ার জন্য যে হারে তামাক কর আরোপ করা প্রয়োজন এ জটিল কাঠামোর কারণে তা কার্যকরভাবে প্রয়োগ করা যাচ্ছে না। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ২০১৪ সালের তথ্য বলছে, পৃথিবীর যেসব দেশে তামাকপণ্যের দাম অত্যন্ত সস্তা বাংলাদেশ তার মধ্যে অন্যতম। ফলে সামগ্রিকভাবে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে সরকার, ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে জনস্বাস্থ্য, পক্ষান্তরে লাভবান হচ্ছে তামাক কোম্পানি।

প্রস্তাবিত তামাক কর সংস্কারের ফলে অতিরিক্ত রাজস্ব আয় অর্জিত হবে এবং নতুন রাজস্ব সৃষ্টির দ্বার উন্মোচিত হবে, যা দিয়ে সরকার দেশের স্বাস্থ্য ও উন্নয়ন অগ্রাধিকারসমূহে অর্থায়ন করতে পারবে। একইসাথে তামাকপণ্যের সহজলভ্যতা হ্রাস পাবে, যা সরকার এবং জনগণ উভয়ের জন্যই লাভজনক।বরেন্দ্র বার্তা/ শহাস/এই

Tags
Close