বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারার ৪০ চরমপন্থী আত্মসমর্পণ করছেন

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার অন্তত ৪০ জন চরমপন্থী নেতা আত্মসমর্পন করছেন। এদেরকে মাওবাদী অনুসারী নকশালপন্থী সর্বহারা পার্টির সদস্য বলা হয়ে থাকে।
বাগমারা অঞ্চলের এক সময়ের নকশালপন্থী সংগঠন ‘লাল পতাকার (সর্বহারা) নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবুর নেতৃত্বে চরমপন্থীরা আগামী ৯ এপ্রিল আত্মসর্মপণ করবেন।
আর্ট বাবু বাগমারা উপজেলার তাহেরপুর পৌরসভার চৌকিপাড়া মহল্লার নুরুল হুদার ছেলে। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় চারুকলা বিভাগের প্রাক্তণ ছাত্র আর্ট বাবু দীর্ঘ সময় কারাগারেও ছিলেন। তিনি ‘লাল পতাকা’র দ্বিতীয়সারির নেতা ছিলেন। সম্প্রতি তিনি চঞ্চল কুমার নামে স্থানীয় এক যুবলীগ নেতাকে হত্যা মামলারও আসামি হয়েছেন। সে মামলায় তিনি এখন জামিনে।
বাগমারা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নাছিম উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের কাছে চরমপন্থীদের যে তালিকা আছে সেটি থেকেই তাদের আত্মসমর্পণের আহ্বান জানানো হয়। আমরা বাগমারা থেকে ৪০ জনের একটা তালিকা তৈরি করেছিলাম। জানা মতে, ৯ এপ্রিল পাবনা জেলা স্টেডিয়ামে রাজশাহী বিভাগের ১৬ জেলা এবং কুষ্টিয়া মিলে মোট ১৭ জেলার চরমপন্থী সংগঠনের সদস্যরা আত্মসমর্পণ করবেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘তালিকায় বাগমারার চরমপন্থী নেতা হিসেবে পরিচিত আব্দুর রাজ্জাক ওরফে আর্ট বাবুর নাম রয়েছে। মূলত তার নেতৃত্বেই এখানকার চরমপন্থী সদস্যরা আত্মসমর্পণ করবেন। তাদের আত্মসমর্পণের সব ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।
সম্প্রতি আর্ট বাবুর বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া হত্যা মামলার বিষয়ে ওসি বলেন, ‘সে মামলায় আর্ট বাবু জামিনে রয়েছে। আত্মসমর্পণে কোনো বাধা নেই।’
পুলিশ জানায়, সরকার ঘোষিত আত্মসমর্পণের সুযোগ গ্রহণের অংশ হিসাবে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতেই বাগমারার সর্বহারা সদস্যরা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ৯ এপ্রিল পাবনা জেলা স্টেডিয়ামে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জমান খান কামালের কাছে তারা আত্মসমর্পন করবেন। অনুষ্ঠানে পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মোহাম্মদ জাবেদ পাঠোয়ারীসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকবেন।
আত্মসমর্পণ তালিকায় নাম থাকা বাগমারার হামিরকুৎসা এলাকার এক সময়ের চরমপন্থী দলের এক সদস্য জানান, তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে চান। তাই আর্ট বাবুর নেতৃত্বে আত্মসমর্পণ করবেন। পুনর্বাসন এবং তাদের নামে বিভিন্ন সময় দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার করে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়ার জন্য সরকার সুযোগ দেয়ায় তারা আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করে রাজশাহীর পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ বলেন, ‘চরমপন্থী সদস্যদের আত্মসমর্পণ করানোর উদ্যোগ নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। আত্মসমর্পণের সঙ্গে সঙ্গে যাদের কাছে অস্ত্র আছে তারা সেটি জমা দেবেন। সাধারণ ক্ষমায় তারা আত্মসমর্পণের সুযোগ পাচ্ছেন। পরবর্তীতে অন্য কোনো জঙ্গি গোষ্ঠির সদস্যরা আত্মসমর্পণের সুযোগ চাইলে সরকার তাদেরকেও সুযোগ দিতে পারে।’
আত্মসমর্পণকারীদের কী ভাবে পুর্নবাসন করা হবে জানতে চাইলে এসপি বলেন, ‘চরমপন্থী সদস্যরা আত্মসমর্পণের পর তাদের মামলাগুলো দেখে সে অনুযায়ী পুনর্বাসনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। তবে যারা অস্ত্র জমা দেবেন তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। আর যাদের বিরুদ্ধে মামলা চলমান, সেসব মামলা দ্রুত নিষ্পত্তির বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।’
রাজশাহী-৪ (বাগমারা) আসনের এমপি এনামুল হক বলেন, ‘২০০৮ সালের আগের অশান্ত বাগমারাকে আজকের শান্ত অবস্থায় আনতে ব্যাপক পরিশ্রম করতে হয়েছে। শান্তির ধারা অব্যাহত রাখতে অপরাধীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসার সুযোগ পেলে উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে।’বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close