নাগরিক মতামতমহানগরশিরোনাম

রাজশাহী পৌরসভা থেকে সিটি কর্পোরেশনের ১৪৪ বছর

অর্ণব পাল সন্তু

 

রাসিকের মনোগ্রাম

রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন পৌরসভা হিসেবে তার যাত্রা শুরু করে ১৮৭৬ সালে এবং ১৯৯১ সালে তা পূর্ণতা লাভ করে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়।আজ ১ এপ্রিল ২০১৯ পৌরসভা-সিটি কর্পোরেশন পাক্কা ১৪৪ বছরে পা দিল।
১৬৮৮ খৃষ্টাব্দে সর্বপ্রথম মাদ্রাজে পৌর কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠা লাভ করে। ১৭২৬ খৃষ্টাব্দে কলকাতা ও বোম্বাইতে পৌর কর্পোরেশন প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৭৯৩ খৃষ্টাব্দে বৃটিশ পার্লামেন্টে তৎকালীন ভারতের পৌর প্রশাসন সম্পর্কে প্রথম আইন পাশ হয়। ১৮৪২ খৃষ্টাব্দে পৌর প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে আর একটি আইন প্রণীত হয়। এতে বলা হয় যে, কোন শহরের অধিবাসী ইচ্ছে করলে পৌরসভা প্রতিষ্ঠা করতে পারে।
১৮৫০ খৃষ্টাব্দে ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র পৌরসভা প্রতিষ্ঠার জন্য আইন পাশ করা হয়। এ আইনের আওতায় ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা ও ময়মনসিংহে পৌরসভা প্রতিষ্ঠ লাভ করে। ১৮৬৪ খৃষ্টাব্দে মিউনিসিপ্যাল উন্নয়ন আইন নামে আর একটি আইন প্রণয়ন করা হয়। এ আইন অনুসারে সরকার ৭জন স্থায়ী বাসিন্দাকে পৌরসভার কমিশনার হিসেবে নিয়োগ করার বিধান প্রণয়ন করে। তখন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন, জেলা প্রকৌশলী এবং ৭জন মনোনীত কমিশনার নিয়ে পৌরসভা গঠন করা হয়।
১৮৬৮ খৃষ্টাব্দে প্রণীত জেলা শহরে পৌরসভা গঠন আইন বলে ১৮৬৯ খৃষ্টাব্দের ১ মে রংপুর পৌরসভার গোড়া পত্তন হয়।
১৮৭৬ সালে এবং ১৯৯১ সালে তা পূর্ণতা লাভ করে সিটি কর্পোরেশনে রূপান্তরিত হয়। প্রায় ৯৬ বর্গ কিঃমিঃ এলাকাজুড়ে বিস্তৃত রাজশাহী সিটি কর্পোরেশন এর সদর দপ্তর নগর ভবন এ অবস্থিত। ভুবন মোহন পার্কের টিনশেড এর দুই রুমে জন্ম নেয়া রাজশাহী পৌরসভা আজ গোটা দেশের তৃতীয় বৃহত্তম সিটি কর্পোরেশন।
১৮৭৬ সালের ১ এপ্রিল ভুবন মোহন পার্কের অভ্যন্তরে টিন সেডের দুটি কক্ষে রাজশাহী পৌরসভা (রামপুর-বোয়ালিয়া মিউনিসিপ্যালিটি) কাযর্ক্রম শুরু করে। পরে ভুবন মোহন পার্ক থেকে রাজশাহী কলেজের একটি বৃহৎ কক্ষে পৌরসভা দপ্তর স্থানান্তর করা হয়। রাজশাহী পৌরসভার কাযর্ক্রম পরিচালনার জন্য রাজশাহী কলেজের অধ্যক্ষ হর গোবিন্দ সেনকে প্রথম চেয়ারম্যান করে মোট ৭ সদস্য বিশিষ্ট প্রথম টাউন কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সকল সদস্যই ছিলেন সরকার মনোনীত। জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, মহকুমা প্রশাসক ও মেডিক্যাল অফিসার ছিলেন পদাধিকার বলে সদস্য। পরবর্তীতে পৌর নিবার্চনের মাধ্যমে কমিটি গঠনের পদ্ধতি প্রবতর্ন করা হয়।
চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যান কমিশনারগণের ভোটে নির্বাচিত হতেন। বেশির ভাগ কমিশনারই করদাতাদের ভোটে নিবার্চিত হতেন। ১৮৮৪ সালে মিউনিসিপ্যালিটি অ্যাক্টের ৩নং ধারা মতে ২১ জন কমিশনারের সমন্বয়ে কমিটি গঠন করা হয়েছিল। তম্মধ্যে ১৪জন ছিলেন নিবার্চিত এবং ৭ জন মনোনীত। ১৯২১ সালে সোনাদীঘির পাড়ে বতমান পৌর ভবনটি নির্মিত হলে রাজশাহী কলেজ থেকে পৌরসভা দপ্তর, সিটি ভবনে স্থানান্তরিত হয়। পৌর সেবা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার উদ্দেশ্যে ১৯৩০ সালে ৮টি পৌর কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটিগুলো প্রথকভাবে অর্থ, গণপূর্ত, আলো, পানি পয়ঃপ্রণালী ও স্বাস্থ্য, শিক্ষা, আপীল (Appeal) এবং রাজা টি. এন. রায় প্রতিষ্ঠিত সদর হাসপাতাল কাযক্রম পরিচালনা করত। নির্বাচিত পরিষদের সভায় কমিটি গুলোর সুপারিশ আলোচনা করে সিদ্ধান্ত গৃহীত হতো। এক বছর মেয়াদে কমিটি গঠিত হতো এবং পৌর এলাকা ছিল ৭টি ওয়ার্ডে বিভক্ত।
১৮৭৬ সালে যখন পৌরসভা প্রতিষ্ঠিত হয় তখন লোক সংখ্যা ছিল মাত্র ১০ হাজার জন। ১৮৭৬ সালে পৌরসভার একটি মিউনিসিপ্যাল বোর্ডও গঠিত হয়। ১৯৫৯ সালে মৌলিক গনতন্ত্র আদেশের বিধান অনুযায়ী মিউনিসিপ্যাল বোর্ডই মিউনিসিপ্যাল কমিটি হিসাবে কাজ করে আসছিল। মিউনিসিপ্যাল কমিটির নিয়ন্ত্রণাধীন এলাকার আয়তন ছিল ৬.৬৪ বর্গ মাইল পশ্চিমে হড়গ্রাম বাজার থেকে পূবে রুয়েট পযর্ন্ত ছিল এর এলাকা। লোকসংখ্যা ৫৬৮৮৩ জন। ১৯৫৮ সালের ৫ অক্টোবর তৎকালীন জেলা ম্যাজিস্ট্রেট কে. এম. এস রহমান সরকারি নির্দেশে মিউনিসিপ্যাল কমিটি ভেঙ্গে দিয়ে প্রশাসক নিয়োগ করেন।নগর ভবন
১৯৭৪ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি পযর্ন্ত মরহুম এ্যাডভোকেট মুজিবুর রহমান এম. এ. এল এল. বি স্বাধীন বাংলাদেশের প্রথম নিবার্চিত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। পট পরিবতর্ন হয়ে ১৯৮৭ সালের সালের ১৩ আগষ্ট রাজশাহী পৌরসভা পৌর কর্পোরেশনে উন্নীত হয় এবং এ্যাভোকেট আব্দুল হাদি সরকার কতৃর্ক প্রশাসক মনোনীত হন। ১৯৮৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বর পৌর কর্পোরেশন সিটি কর্পোরেশনে পরিণত হলে জনাব আব্দুল হাদি প্রথম মেয়র মনোনীত হন। পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনে উন্নীত হওয়ার এর আয়তন ও জনসংখ্যা বৃদ্ধি পায়। ১৯৯১ সালে সিটি কর্পোরেশন এ রূপ নেয়া এ নগর এর বর্ত্তমান আধুনিকায়ন প্রক্রিয়া একে বাংলাদেশের অন্যতম উন্নতম সিটি কর্পোরেশন হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে।

Close