মহানগরশিরোনাম

অধ্যাপক শফিউল হত্যার মামলার রায়: ৩ জনের ফাঁসি , খালাস বাকিরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : অধ্যাপক ড. একেএম শফিউল ইসলাম লিলন হত্যা মামলার রায় প্রদান করা হলো আজ।রায়ে  তিন জনের ফাসী ও বাকীদের খালাস দিয়েছে রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল।

দণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন, বিনপি কর্মী আব্দুস সালাম পিন্টু,  যুবদল নেতা আরিফুল ইসলাম মানিক ও সবুজ শেখ। এর মধ্যে পলাতক রয়েছেন সবুজ।

আজ সকাল ১১ টায় রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক শফিউল ইসলাম লিলন হত্যাকাণ্ডের রায় ঘোষণা করা হয়। বিচারক অনুপ কুমার এ রায় ঘোষণা করেন।

লালনভক্ত ড. শফিউল ইসলাম মুক্তমনা ও প্রগতিশীল আদর্শের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত ছিলেন। ২০১৪ সালের ১৫ নভেম্বর বিকালে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন চৌদ্দপাই এলাকায় তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক মুহাম্মদ এন্তাজুল হক অজ্ঞাত ব্যক্তিদের আসামি করে মতিহার থানায় হত্যা মামলা করেন।

তদন্তে বেরিয়ে আসে ব্যক্তিগত কোন্দলের জেরেই খুন হন এই শিক্ষক শফিউল ইসলাম। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা নাসরিন আখতার রেশমা।

হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে ২৩ নভেম্বর রেশমার স্বামী ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি আবদুস সামাদ পিন্টুসহ ৬ জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব।

পরে গোয়েন্দা পুলিশ রেশমাকেও গ্রেফতার করে। হত্যাকাণ্ডের দায় স্বীকার করে রেশমা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা ১১ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগ দাখিল করেন।

গত ৪ এপ্রিল রাজশাহী দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে এ মামলার যুক্তিতর্ক শেষে রায়ের দিন ধার্য করেন বিচারক অনুপ কুমার।

এ মামলায় মোট ৩৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করা হয়েছে। গত ১৩ মার্চ সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের সময় তিনি আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি করেছেন। কারণ এ ঘটনার সঙ্গে সবার সম্পৃক্ততা প্রমাণ করা গেছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা বলেছেন, হত্যাকাণ্ডে আসামিরা যে জড়িত তা প্রমাণে রাষ্ট্রপক্ষ ব্যর্থ হয়েছেন। ফলে রায়ে আসামিরা বেকসুর খালাস পাবেন।

আসামিদের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করেন অ্যাডভোকেট একরামুল হক, মিজানুল ইসলাম, আবু বাক্কার, রইসুল ইসলাম, আব্দুল মালেক রানা প্রমুখ।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close