শিরোনামসম্পাদকীয়-কলাম

খাপড়াওয়ার্ড: উপমহাদেশের প্রথম জেল হত্যাকাণ্ড আজ

মুজাহেদুল ইসলাম সেলিম

১৯৭৫ সালে সংগঠিত জেল-হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে দেশবাসী কমবেশি অবহিত থাকলেও এবং সে দিনটি (৩ নভেম্বর) ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে বছর বছর পালিত হলেও, ১৯৫০ সালের প্রথম জেল-হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি অধিকাংশ দেশবাসীর কাছে আজ বহুলাংশে অজানা হয়ে আছে। পরিকল্পিতভাবেই তেমনটি ঘটানো হয়েছে। কমিউনিস্ট ও বামপন্থীরা ছাড়া কেউ সে দিবসটি (২৪ এপ্রিল) তেমন একটা পালন করে না। রাষ্ট্রের পক্ষ থেকেও সে বিষয়ে ন্যূনতম উদ্যোগ কখনো নেয়া হয়নি। কেবলমাত্র, স্বাধীনতার পরে বঙ্গবন্ধুর সরকারের আমলে রাজশাহী জেলের ‘খাপড়া ওয়ার্ডের’ চত্বরে একটি স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণ করা হয়েছিল এবং আজকাল প্রতি বছর ঐদিনে সিপিবি ও ওয়ার্কার্স পার্টির প্রতিনিধিদলকে সেই স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পমাল্য অর্পণের অনুমতি দেয়া হয়। এই দিনটিকে ‘প্রথম জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা রাষ্ট্রের কর্তব্য। কিন্তু সেরূপ কোনো উদ্যোগ কখনোই গ্রহণ করা হয়নি। এমনকি স্কুল-কলেজের পাঠ্য বইয়ে খাপড়া ওয়ার্ডের জেল-হত্যাকাণ্ডের উল্লেখ পর্যন্ত নেই। এই ‘অনুল্লেখ্য’ রাখাটা ও ‘ভুলিয়ে দেয়ার চেষ্টাও’ এক ধরনের ‘ইতিহাস বিকৃতি’।
১৯৫০ সালের খাপড়া ওয়ার্ডের জেল-হত্যাকাণ্ডের ঘটনাবলিই শুধু নয়, ১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে সংগঠিত জেল-হত্যাকাণ্ডের দিনটিকে ‘জেল হত্যা দিবস’ হিসেবে পালন করা হলেও সে দিনটির পটভূমি সম্পৃক্ত অনেক ‘অপ্রিয়’ প্রসঙ্গ সম্পর্কে এক ধরনের সচেতন নিরবতা রক্ষা করে চলা হয়। এটিও ‘ইতিহাস বিকৃতির‘ একটি নিদর্শন।
প্রথমে দৃষ্টি দেয়া যাক ১৯৫০ সালের খাপড়া ওয়ার্ডের জেল-হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটির প্রতি। সে সময়টাতে পাকিস্তানের সর্বত্র চলছিল মুসলিম লীগ সরকারের দমন-পীড়নের রাজত্ব। পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার ২/৩ বছরের মধ্যেই বাংলাদেশের (তত্কালীন পূর্ব পাকিস্তানের) কারাগারগুলো ভরে তোলা হয়েছিল কমিউনিস্ট বন্দিদের দ্বারা। সেসময় কমিউনিস্ট পার্টিই ছিল একমাত্র কার্যকর বিরোধীদল। তখনও আওয়ামী লীগ গঠিত হয়নি। আরো কিছুটা সময় পরে, যারা আওয়ামী লীগ গঠন করেছিলেন (প্রথমাবস্থায় আওয়ামী মুসলিম লীগ নামে) তারা প্রায় সবাই সেসময় ছিলেন পাকিস্তান আন্দোলনে নেতৃত্বদানকারী মুসলিম লীগ দলে। মুসলিম লীগের সেই দুর্দান্ত ও একচ্ছত্র শাসনের বিরুদ্ধে প্রথম লড়াইগুলো সূচনা করেছিল কমিউনিস্টরা। উত্তরবঙ্গে চলছিল ‘তেভাগা আন্দোলন’। ময়মনসিংহের গারো পাহাড়ের পাদদেশ জুড়ে গড়ে উঠেছিল ‘টংক আন্দোলন’। সিলেটে চলছিল ‘নানকার বিদ্রোহ’। শ্রমিকদের ট্রেড ইউনিয়ন আন্দোলন চলছিল দেশজুড়ে। এসব আন্দোলন-সংগ্রামকে স্তব্ধ করার জন্য কমিউনিস্ট ও কৃষক-শ্রমিক আন্দোলনের কর্মী ও প্রগতিশীল লেখক-সাহিত্যিক-শিল্পী-বুদ্ধিজীবীদের বিরুদ্ধে চলছিল প্রচণ্ড দমন-পীড়নের স্টিম রোলার। তাদেরকে হাজারে হাজারে গ্রেফতার করে ভরে ফেলা হয়েছিল কারাগারগুলো। তাদের কেউ কেউ আটক ছিলেন রাজশাহী জেলের খাপড়া ওয়ার্ডে।
বন্দি অবস্থাতেও কমিউনিস্টদের সংগ্রাম বন্ধ ছিল না। নিজেদের জন্য রাজবন্দির মর্যাদা, সুযোগ-সুবিধার নিশ্চয়তা ইত্যাদিসহ অন্য সব দণ্ডপ্রাপ্ত বন্দি ও হাজতিদের প্রতি অমানবিক আচরণ বন্ধ করা, ঘানি টানার কাজ বন্ধ করা ইত্যাদি দাবিতে তারা দেশের সব জেলখানায় আন্দোলন গড়ে তুলেছিলেন। একাধিকবার একটানা দীর্ঘ অনশন কর্মসূচি পালন করেছিলেন। ঢাকা জেলে অনশনরত শিবেন রায়কে ‘ফোর্স ফিডিং’ করাতে গেলে তিনি মৃত্যুবরণ করেছিলেন। রাজশাহী জেলেও সে আন্দোলন চলছিল। আন্দোলন দমনের জন্য জেল কর্তৃপক্ষ কয়েকজন নেতাকে স্থানান্তর করার উদ্যোগ নিলে উত্তেজনা চরমে ওঠে। ২৩ এপ্রিল রাতে খাপড়া ওয়ার্ডের বন্দিরা সারারাত ধরে পরিস্থিতি ও করণীয় নিয়ে আলোচনা চালিয়েছিলেন। ২৪ এপ্রিল সকালের চা-নাস্তা খাওয়ার পরে পরেই খাপড়া ওয়ার্ডে আসেন জেল সুপার মিস্টার বিল, দু’জন ডেপুটি জেলার, ডাক্তার, সুবেদার আকবর খাঁ, কয়েকজন মেটসহ প্রায় ত্রিশ-পঁয়ত্রিশজন সিপাই। সিপাহিদের হাতে লাঠি। জেলার ওয়ার্ডের পূর্ব দিকের এক বন্দির সঙ্গে কয়েকটি কথা বলেই ওয়ার্ডের মূল গেইটটি বন্ধ করে দিতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। ঘটনার আকস্মিকতায় দু’জন জেল কর্মকর্তাও ভেতরে আটকা পড়ে গিয়েছিলেন। শুরু হয়ে গিয়েছিল হামলা। রাইফেলধারী পুলিশ প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। তারা এসে যোগ দিয়েছিল আক্রমণে। বন্দিরা প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছিলেন। তারা দরজা-জানালা আটকিয়ে দিয়েছিলেন। ফলে জেল কর্তৃপক্ষের কেউ ভিতরে ঢুকতে পারেননি। এসবের মাঝেই এক পর্যায়ে শুরু হয়ে গিয়েছিল গুলিবর্ষণ। শত শত রাউন্ড গুলি। খই ফোটার মতো। ক্ষণিকের মধ্যে শহীদের রক্তের স্রোতে লাল হয়ে গিয়েছিল ‘খাপড়া ওয়ার্ড’।
সেদিনের সেই খাপড়া ওয়ার্ডের একজন বন্দি স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে লিখেছেন, “চকিত দৃষ্টিতে দেখলাম, খাপড়ার প্রায় পঞ্চাশটি জানালায় বন্দুকের নল লাগিয়ে সিপাহিরা দাঁড়িয়ে আছে। আমি তত্ক্ষণাত্ উপুড় হয়ে বালিশের নীচে মাথা গোঁজার সঙ্গে সঙ্গে রাইফেলের গর্জনে খাপড়ার ভিত যেন ফেটে চৌচির হতে চাইল। গেটের দিকে একটু চোখ পড়তেই দেখলাম ফিনকি দিয়ে রক্ত একেবারে ছাদ পর্যন্ত উঠছে। আমার মাথা একটি সাপোর্টিং ওয়ালের আড়ালে বালিশের নীচে গোঁজা ছিল, পা কনুই বাইরে ছিল। হঠাত্ লক্ষ্য করলাম হাঁটু দু’ফাঁক করে স্প্লিন্টার ঢুকে গেল। বালিশের নীচ থেকে দেখলাম পাশেই কমরেড হানিফের বাহুর উপরিভাগ ছিঁড়ে গেছে এবং সেখান থেকে অঝোরে রক্ত ঝরছে। একটু পরেই কমরেড হানিফকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়তে দেখি। যেন দেখলাম আমার অদূরেই কুষ্টিয়ার কমরেড নন্দ সান্যাল রক্তাক্ত শরীরে মেঝের উপর লুটিয়ে পড়েছে। আমার হুঁশ হারাবার পূর্বে যতটুকু মনে আছে দেখলাম খাপড়া ওয়ার্ডে রক্তের স্রোত বইছে। আমার শরীর বুক পর্যন্ত রক্তে ডুবন্ত।…গুলিবিদ্ধ বন্দিদের বীভত্স আর্তনাদের কথা আমার মনে আছে। যখন হুশ হল তখন বেলা দশটা। …সে দৃশ্য ভয়ঙ্কর। রক্তের গন্ধে মাছি এসে জুটেছে। মাছিগুলো আহতদের ঘিরে ধরেছে। …যদি কোনো কাল্পনিক নরকের ভয়াবহ চিত্র কেউ কোনোদিন কল্পনা করে থাকে তার কল্পনার সঙ্গে এই দৃশ্যের সাদৃশ্য থাকবে নিশ্চয়ই; মানুষ কর্তৃক রক্তের হোলি খেলার পর মাছি এবং বালুকণার আক্রমণ শুধু এই কথাটাই স্মরণ করিয়ে দেয়, পুঁজিবাদী সমাজে দেশপ্রেম এক বীভত্স অভিশাপ।” সংক্ষেপে এই ছিলো সেদিনের সেই বীভত্স হত্যাকাণ্ডের বর্ণনা।
সেদিন এই হত্যাকাণ্ডে যারা জীবন দিয়েছিলেন, তারা হলেন— দিনাজপুরের সর্বজন শ্রদ্ধেয় কৃষক নেতা কম্পরাম সিং, খুলনার দৌলতপুরের ছাত্রনেতা আনোয়ার হোসেন, ব্রিটিশবিরোধী সংগ্রামী সুধীন ধর, রেল শ্রমিক নেতা দেলোয়ার হোসেন, ময়মনসিংহের সুখেন ভট্টাচার্য, কুষ্টিয়ার হানিফ শেখ, আন্দামান ফেরত বিপ্লবী বিজন সেন। সবাই ছিলেন কমিউনিস্ট পার্টির সদস্য।
১৯৭৫ সালের ৩ নভেম্বরের জেল হত্যাকাণ্ড নিয়ে অনেক বিবরণ ও বিশ্লেষণ প্রকাশিত হয়েছে ও হচ্ছে। কিন্তু এসব বিবরণে সে সময়ে সরকারে কারা ছিল, রাষ্ট্রপতিসহ মন্ত্রিসভার প্রায় সব সদস্য কোনো দলের অন্তর্ভুক্ত ছিল— এই বিশেষ প্রসঙ্গটি একেবারেই অনুল্লেখিত রাখা হয়। এই জেল হত্যাকাণ্ড যে ১৯৭৫-এর ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর হত্যা ও পাকিস্তানি ধারা অভিমুখীন প্রতিক্রিয়াশীল রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের ধারাবাহিকতায় সংগঠিত হয়েছিল সে কথা খুবই পরিষ্কার। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর ক্যাবিনেটের সদস্যরা কী করছিলেন? দেখা গিয়েছিল যে তাদের সকলের মাঝে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধারা রক্ষার জন্য আদর্শিক ভিত্তি ছিল ভঙ্গুর। রাষ্ট্রীয় চার নীতির ধারায় দেশ পরিচালনার প্রশ্নে সকলে একাগ্র এবং এমনকি একমত ছিল না। ফলে ১৫ আগস্ট আঘাত আসার পর, জেলখানায় শহীদ হওয়া চারজন জাতীয় নেতা বাদে বাকি অন্যসব মন্ত্রীরা তত্ক্ষণাত্ খুনি মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগ দিয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে যার হাতে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব আইনত অর্পিত হওয়ার কথা, জাতীয় সংসদের সেই স্পিকার ক্ষমতার দাবি করার বদলে বিদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বললেন যে দেশ ‘ফেরাউনের হাত থেকে মুক্তি পেয়েছে’। অনেক নেতা সংসদ সদস্যদের বৈঠক ডেকে মোশতাকের প্রতি আনুগত্য ঘোষণার ব্যবস্থা করতে উদ্যোগী হয়েছিলেন। (আমরা সে বৈঠক অনুষ্ঠান ঠেকাতে না পারলেও পরিকল্পিত আনুগত্য প্রকাশ ঠেকাতে পেরেছিলাম)। অনেক সময় যুক্তি দেখানো হয়ে থাকে যে, এটি না করলে তাদের জীবনের হুমকি সৃষ্টি হতো। এ কেমন যুক্তি? জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লাখো মুক্তিযোদ্ধা কি মুক্তিযুদ্ধ করেননি? তাহলে তাদের মাঝে নেতৃস্থানীয় বলে দাবিদাররা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মুক্তিযুদ্ধের ধারা রক্ষার্থে মোশতাকের মন্ত্রিসভায় যোগদান থেকে বিরত থাকতে সক্ষম হলেন না কেন? এক্ষেত্রে আদর্শিক দুর্বলতা (এমনকি বৈপরিত্য) এবং কাপুরুষতা— দু’টোই কাজ করেছে। ফলে আম-জনতাকে এই বার্তাই দেয়া হয়েছিল যে বঙ্গবন্ধু জীবিত নেই বটে, তবে সরকার এখনো আওয়ামী লীগের হাতেই আছে। তাত্ক্ষণিক গণপ্রতিরোধ গড়তে এটিই প্রধান একটি অন্তরায়ে পরিণত হয়েছিল।
সেই কঠিন পরীক্ষার দিনগুলোতে সিপিবি-ন্যাপ-ছাত্র ইউনিয়ন কিন্তু মাঠ ছেড়ে যায়নি। আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের যে স্বল্পসংখ্যক নেতাকর্মীকে সঙ্গে পাওয়া সম্ভব হয়েছিল তাদেরকে সাথে নিয়ে তারাই প্রথম বঙ্গবন্ধুর হত্যাকাণ্ড ও পরে জেল হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল। ৩ নভেম্বরের জেল হত্যার ঘটনা জানতে জানতে গোটা একদিন পার হয়ে গেলেও, সে সম্পর্কে অবহিত হতে পারার পরে পরেই কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সমাবেশ থেকে আমি জেল হত্যার প্রতিবাদ ৫ নভেম্বর অর্ধদিবস হরতালের কর্মসূচি ঘোষণা করেছিলাম। হরতালের প্রচারে ঢাকায় মাইক নামিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু আওয়ামী লীগকে সেভাবে হরতাল পালনে নামানো যায়নি। তাদের বড় অংশের মাঝে ‘শেষ পর্যন্ত কোনো দিকে হাওয়া ঘুরে তা আগে দেখে নেই’ মনোভাব কাজ করছিল। খালেদ মোশারফের ক্যু’র পর খুনি মেজরগণ, মোশতাক, জিয়া প্রমুখ ক্ষমতা থেকে বিতাড়িত হওয়ার পরেও তারা রাস্তায় নামেননি। যদি নামতেন তাহলে ঘটনাবলীকে তখনই হয়তো অন্যখাতে প্রবাহিত করা সম্ভব হতো। পরিস্থিতি কখনোই এক জায়গায় বসে থাকে না। সুযোগ বার বার আসে না। নভেম্বরের ৪, ৫, ৬ তারিখে যে সুযোগ এসেছিল তা কাজে লাগাতে না পারায় প্রতিক্রিয়াশীল প্রতিপক্ষ ৭ নভেম্বরে প্রস্তুতি নিয়ে তাদের নীল নকশা অনুযায়ী অভিযান শুরু করতে সক্ষম হয়েছিল। এভাবে পরিস্থিতিকে তারা আবার তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে যেতে পেরেছিল। সেসময়ের এরূপ আরো অনেক দুঃখের কথা বলে শেষ করা যাবে না!
গত ২ নভেম্বর যখন দেখলাম যে ঢাকার রাস্তাঘাটে ট্রাফিক জ্যাম ঘটিয়ে লাখ লাখ মানুষকে ‘জেল হত্যা দিবসের’ জনসভায় ‘হাজির’ করানোর ‘ব্যবস্থা’ করা হয়েছে, তখন শুধু মনে হলো—১৯৭৫-এর সেই কঠিন দিনগুলোতে এদের হাজার ভাগের একভাগ মানুষকেও যদি সেদিন সঙ্গে পেতাম!

Close