বাগমারাশিরোনাম-২

বাগমারায় যৌতুকের জন্য গৃহবধুকে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ

আব্দুল মতিন বাগমারা (রাজশাহী)প্রতিনিধি: রাজশাহীর বাগমারায় যৌতুকের বলি হলেন গৃহবধু মুক্তি খাতুন  (১৭)। তিনি উপজেলার ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাদীপুর মহল্লার আব্দুর রহিমের কন্যা। ওই ঘটনায় থানায় হত্যা মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে।

নিহত মুক্তি খাতুনের পরিবার ও এলাকার লোকজন সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বড়বিহানালী ইউনিয়নের কুলি বাড়ী গ্রামের আব্দুর সাত্তারের ছেলে সোহেল রানার সাথে ভবানীগঞ্জ পৌরসভার সাদীপুর মহল্লার আব্দুর রহিমের নাবালিকা কন্যা মুক্তি খাতুনের প্রেমের সর্ম্পক গড়ে উঠে। প্রেমের সর্ম্পকের সূত্র ধরে গত তিন বছর পূর্বে সোহেল রানা প্রেমিকা মুক্তি খাতুনকে বাড়ি থেকে পালিয়ে নিয়ে যায় এবং বিয়ে করে। বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করার কারনে বাবা আব্দুর রহিম মুক্তি খাতুন ও তার স্বামী সোহেল রানাকে মেনে নেয়নি। বিয়ের কিছু দিন পর থেকেই সোহেল রানা মুক্তি খাতুনকে তার বাবা আব্দুর রহিমের কাছ থেকে যৌতুকের টাকা আনতে বলে। মুক্তি খাতুন যৌতুকের বিষয়টি এড়িয়ে গেলে স্বামী সোহেল রানা স্ত্রী মুক্তি খাতুনকে শারীরিক ভাবে নির্যাতন করে। দীর্ঘদিন থেকে এই ভাবেই মুক্তি খাতুন স্বামী সোহেল রানার নির্যাতন সহ্য করে আসছে। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ এপ্রিল) রাতের খাবার খেয়ে বাড়ির লোকজনের সাথে মুক্তি খাতুন ঘুমিয়ে পড়ে। রাত ১২ টার দিকে সোহেল রানা বাড়িতে ফিরে স্ত্রী মুক্তি খাতুনকে ঘুম থেকে ডেকে তোলে আবারো বাবার বাড়ি থেকে যৌতুকের টাকা আনতে বলে। মুক্তি খাতুন টাকা আনতে অস্বীকৃতি জানালে স্বামী সোহেল রানা তাকে মারপিট শুরু করে। মুক্তি খাতুন জ্ঞান হারিয়ে ফেললে সোহেল রানা ও তার পরিবারের লোকজন তার মুখে বিষ ঢেলে দেয়। মুক্তি খাতুন মৃত্যুর কোলে ঢোলে পড়লে রাতেই তাকে পল্লী চিকিৎসক আব্দুর জব্বারের কাছে নিয়ে যায়। চিকিৎসক আব্দুল জব্বার স্বামী সোহেল রানার পরিবারকে মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। মুক্তি খাতুনের বাবা আব্দুর রহিমের অভিযোগ রাত সাড়ে ১২ টার দিকে সোহেল রানার পরিবারের সদস্যরা মুক্তি খাতুন বিষ পান করেছে বলে তাদেরকে জানায়। রাতেই তারা মেয়েকে বাঁচানোর জন্য পরিবারের সদস্যরা ছুটে যায় এবং মুক্তি খাতুন মারা গেছে বলে জানতে পারে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, জামাই সোহেল রানা ও তার পরিবারের সদস্যরা তার মেয়েকে হত্যা করে মুখে বিষ ঢেলে দিয়েছে। মুক্তি খাতুনের পরিবারের সদস্যরা রাতেই বিষয়টি বাগমারা থানার পুলিশকে অবহিত করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যান এবং মুক্তি খাতুনের লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়ে দেন।

এ ব্যাপারে যোগাযোগ করা হলে বাগমারা থানার ওসি আতাউর রহমান জানান, বিষয়টি জানার সাথে সাথে তিনি পুলিশকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়ে লাশটি উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠিয়েছেন। আসামীদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ বিভিন্ন স্থানে হানা দিচ্ছে বলে তিনি জানিয়েছেন।বরেন্দ্র বার্তা/হাপি

Close