অর্থ ও বাণিজ্যমহানগরশিরোনাম

নগরীতে গরু ও ভার্মি কম্পোষ্ট সারের খামার করে স্বাবলম্বী বোরহান

ফজলুল করিম বাবলু : গরু ও ভার্মি কম্পোষ্ট সারের খামার করে স্বাবলম্বী নগরীর হড়গ্রাম পদ্ম কামিনী রোডের বাসিন্দা বোরহান উদ্দিন আহম্মেদ টিপু। তিনি ২০০২ সালে মাত্র দুইটি গরু দিয়ে মোল্লাপাড়ায় আহম্মেদ দুগ্ধ খামার ও আহম্মেদ ভার্মি কম্পোষ্ট সারের খামার শুরু করেন। শুরুতে তিনি গরু দিয়ে খামার শুরু করেন।
পরে ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন শুরু করেন। এর পর থেকে তাঁকে আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি। এখন তাঁর ৫২ শতক জমির উপর খামারে ২৩ টি জার্সি জাতীয় গাভী রয়েছে। এই গাভী থেকে তিনি প্রতিদিন পঞ্চাশ লিটার করে দুধ পাচ্ছেন। যার বাজার মুল্য ৩২৫০ টাকা। মাসে তিনি শুধু দুধ থেকে আয় করছেন গড়ে ৯৭,৫০০ টাকা। শুধু তাই নয় গরুর গোবর থেকে বায়ো গ্যাস এবং ভার্মি কম্পোষ্ট সার (কেঁচো সার) তৈরী করছেন। ২০১৪ সালের নভেম্বর মাস থেকে তিনি এই সার উৎপাদন শুরু করেন। শুরুতে তিনি ২ লক্ষ কেঁচো ক্রয় করে ৩২টি হাউজ দিয়ে শুরু করলেও এখন তার সারের হাউজ রয়েছে ৫০০টি এবং কেঁচোর সংখ্যা হয়েছে প্রায় ৬০লক্ষ। ক্রমন্বয়ে এর সংখ্যা বাড়ছে বলে জানান টিপু।
তিনি আরো বলেন, শুরুতে দুই লক্ষ টাকা মুলধন নিয়ে শুরু করলেও এখন তাঁর খামারে মুলধন রয়েছে প্রায় ৮০ লক্ষ টাকা। প্রতিদিনি তিনি সার উৎপাদন করেন এক হাজার কেজির উপরে। যার পাইকারী বাজার মুল্য ১৫,০০০টাকা। তিনি প্রতি কেজি ১৫ টাকা করে বিক্রি করেন। এই খামার থেকে প্রতিনিয়ত জেলার বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা তাঁর এই সার ক্রয় করে নিয়ে যান। এখন তিনি মাসে ৪লক্ষ টাকার অধিক আয় করেন। ব্যয় হচ্ছে সব মিলিয়ে ৩ লক্ষ টাকার মত। সেইসাথে কর্মচারী, গরুর খাবার এবং অন্যান্য খরচ বাদে ভাল লাভ তিনি এখান থেকে করছেন। তাঁর এই খামারে নিয়মিত ৭জন কর্মচারী রয়েছে।
টিপু বলেন, তিনি একজন শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান। তিনি ১৯৮৩ সালে ঠিকাদারী শুরু করেন। পরে ১৯৯২ সাল থেকে ধান চাউলের ব্যবসা আরম্ভ করেন। এই ধান চাউলের ব্যবসা থেকেই গরুর খামার করার বিষয় তাঁর মাথায় আসে বলে জানান তিনি। আর ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদন সম্পর্কে উদ্বুদ্ধ হোন বায়োগ্যাস প্ল্যান মিস্ত্রির নিকট হতে। এরপর বাংলাদেশ ভার্মি কম্পোষ্ট সার বিষয়ে বিশেষজ্ঞ বদরুল হায়দারের নিকট হতে পরামর্শ নিয়ে তিনি এই সার উৎপাদন শুরু করেন। এর পরে রাজশাহী কৃষি অধিদপ্তরের কর্মকর্তাগণ তাঁর খামার পরিদর্শন করেন এবং তাঁকে আরো সাহস ও উৎসাহ প্রদান করেন বলে জানান টিপু। এছাড়াও তিনি খামারের পতিত জমিতে বেশ কিছু মালটা ও আম গাছ রোপন করেছেন।
টিপু আরো বলেন, অনেক দুর্যোগ তার উপর দিয়ে চলে গেছে। শুরুতে হোচট খেলেও তিনি থেমে থাকেননি। সকল প্রকার বাধা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবেলা করে তিনি এই পর্যন্ত আসতে পেরেছেন। সরকার যদি এই ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদনে সহজ শর্তে ঋণ প্রদান করেন তাহলে দেশের সব থেকে সেরা ভার্মি কম্পোষ্ট সার উৎপাদনকারী হিসেবে নিজেকে তুলে ধরতে পারবেন তিনি। এছাড়াও এখানে অনেক বেকার মানুষের কর্ম সংস্থান হবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেন। তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশ কৃষি প্রধান দেশ। এদেশের মাটিতে সোনা ফলে। কিন্তু রাসায়নিক সারের প্রভাবে দিন দিন মাটির উর্ববরা শক্তি কমে আসছে। এছাড়াও একটি জমিতে বছরে তিন থেকে চারটি ফসলের চাষ করছেন কৃষকরা। এতে করে মাটির জৈবিক খাবার কমে আসছে। এই অবস্থা থেকে পরিত্রান পেতে জৈব সারের কোন বিকল্প নাই। দেশে যেভাবে গার্মেন্টস থেকে সরকার কোটি কোটি রাজশ্ব আদায় এবং দেশ প্রচুর পরিমানে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করছে তেমনি এই সেক্টর থেকেও সরকার কোন অংশে কম আয় করবেন না বলে আশা করেন তিনি। সেইসাথে বিদেশে রপ্তানীও করা সম্ভব বলে তিনি উল্লেখ করেন। টিপু এখন এই ব্যবসার উপর নির্ভর করে সংসার পরিচালনাসহ বাসস্থানের জায়গা ও বাড়ি করে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে সুখে জীবন যাপন করছেন। দেশের অনেক খামারীর নিকট টিুপ এখন অনুকরণীয় একজন সফল উদ্যোক্তা।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close