ট্রাভেল ও ট্যুরিজমশিরোনামসিরাজগঞ্জ

তাড়াশে সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইমামবাড়ি

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: বিস্মৃতির অতলে হারিয়ে যেতে বসেছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশ উপজেলায় প্রায় ৫শত বছরের পুরনো ইসলামের বানীবাহক শাহ ইমাম (র.) এর ইমাম বাড়িটি। উপজেলার বারুহাস ইউনিয়নের বারুহাস গ্রামে অবস্থিত ইমাম বাড়িটি অযত্ম, অবহেলা, আর সংস্কারের অভাবে পুরনো ইমাম বাড়ির একটি মসজিদ সম্পুর্নরুপে ধ্বংস হয়ে গিয়েছে, শুধু গম্বুজের মতো ছোট একটি ঘর এখনো ঐতিহাসিক চিহৃ হিসেবে দন্ডায়মান থাকলেও তা একটি বৃক্ষের নিচে পড়ে রয়েছে।
সম্রাট জাহাঙ্গীরের তত্ত্বাবধায়নে নির্মিত শাহ ইমাম (র.) এর এই ইমামবাড়িটির জায়গা উদ্ধার করে স্থাপনাগুলো পুনর্নির্মাণ করে ঐতিহাসিক ৫শ বছরের পুরনো ইসলামের প্রচারক শাহ ইমাম (র.) এর স্মৃতি সংরক্ষণ করার দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
ইতিহাস অনুসন্ধান আর লোকইতিহাস থেকে জানা যায়, সম্রাট জাহাঙ্গীর সিংহাসন আরোহনের পর সরাটের বিভিন্ন অঞ্চল পরিদর্শন করেন। সেই সময়ে চলনবিল এলাকায় ব্যাসপরগনা পরিদর্শনের সময় বারুহাস গ্রামে এই অবস্থান করেছিলেন। সেই স্থানে পানিতে ঘেরা একটি উম্মুক্ত ভিটায় জুব্বা-পাগড়ীপরা সাথী সঙ্গীসহ শাহ ইমাম (র.) কে লক্ষ করে সম্রাটের জলযান সেখানে ভিড়ানো হয়।ইসলামের এই প্রচারককে সম্রাট সাদরে অভ্যর্থনা জানান।তাড়াশে সম্রাট জাহাঙ্গীরের ইমামবাড়ি
সম্রাট জাহাঙ্গীর এ অঞ্চলে ইসলাম প্রচারের অগ্রতিতে ইমাম সাহেবের ভূমিকা জানতে পেরে সেখানে একটি মসজিদ নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন। শাহ ইমাম (র.) এর এবাদতের জন্য কয়েকটি পাকাঘর নির্মাণ ও পুকুর খনন করারও ব্যবস্থা করেন। এছাড়া ইসলাম প্রচারের জন্য ৮০ একর জমি নিস্কর হিসেবে দান করেন।
শাহ ইমাম (র.) এর জন্মস্থান ইয়েমেনে। তিনি বাংলাদেশে আসার পর চলনবিলের নিভৃত পল্লী বারুহাস গ্রামে স্থায়ী হন। সেই সময়ে এ এলাকার অধিবাসীরা ছিল হিন্দু সম্প্রদায়ের। তিনি তাদের মধ্য ইসলামের বাণী ও আদর্শ প্রচার করে অনেককে ইসলাম গ্রহণ করান।
তিনি চলনবিলের উত্তর ও মধ্যম স্থানটিকে ইসলাম প্রচারের স্থান হিসেবে বেছে নেন। সম্রাট জাহাঙ্গীরের পাঠানো কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধায়নে মসজিদ নির্মাণের পর এখানেই তার ইসলাম প্রচারের কেন্দ্রস্থল ছিল। জীবনের শেষ পযর্ন্ত শাহ ইমাম (র.) এখানেই বসবাস করছেন। ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদের পূর্ব-উত্তর পাশে তার মাজার ও কয়েজন শিষ্যের মাজার রয়েছে।
বর্তমান শাহ ইমাম (র.) এর ইমামবাড়ি স্বেচ্ছায় দেখভাল করছেন বারুহাস গ্রামের এসএম গাজী হাসান ফরিদ।
তিনি জানান, ৩০ শতক জায়গার পর পীর সাহেবের মাজার রয়েছে। সেখানে ছোট একটি মাজার ছাড়া সবগুলো স্থাপনাই বিলুপ্তি হয়েছে গেছে। তাছাড়া মাজারের সামনে সাড়ে আট বিঘা আয়তনের একটি পুকুর রয়েছে। সেই পুকুরটি ওই এলাকার কিছু লোক দখল করে নিয়েছে।অবিলম্বে এই ঐতিহাসিক স্থাপনা উদ্ধার, সংস্কার করে শাহ ইমাম (র.) এর স্মৃতি সংরক্ষণ করার প্রানের দাবি তাড়াশের অধিবাসীদের।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close