অর্থ ও বাণিজ্যমহানগরশিরোনাম-২

ঈদ উপলক্ষে ব্যস্ত সময় পার করছেন রাজশাহীর ফুটপাতের খলিফাগণ

ফজলুল করিম বাবলু: পুর্বে মানুষ এক সময়ে সভ্যতা কি তা জানত না। ফলে তারা জন্ম পোশাকে চলাফেরা করত। এরপর কিছু সভ্যতা আসলে গাছের পাতা, বাকল ও লতা জড়িয়ে নিজের লজ্জা নিবারন করত। কালের পরিক্রমায় পৃথিবী জুড়ে সভ্যতা ছড়িয়ে পড়ে। মানুষ নিজের ভালমন্দ বুঝতে শেখে। নিজের সৌন্দর্য বাড়াতে বিভিন্ন ধরনের পোশাক তারা পড়তে শেখে। আর এই পোষাক তৈরীতে মুখ্য ভূমিকা রাখেন টেইলার্স কারীগরগণ। যাদের প্রচলিত ভাষায় খলিফা বলা হয়ে থাকে। এই খলিফাগণ কেউ সুন্দর করে শোরুম বানিয়ে, মনোরম ডেকোরেশন করে সেলাইয়ের কাজ করছেন। আবার অনেক খলিফা বংশ পরম্পরায় ফুটপাতে সেলাই করে সংসার পরিচালনা করছেন।
রাজশাহীর সাহেব বাজারের কাপড়পট্টি ঘিরে এমন প্রায় ২০জন খলিফা ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের কাপড় সেলাই করে আসছেন যুগ যুগ ধরে। এরমধ্যে বাদল নামে একজন খলিফা বলেন, প্রায় ৪৫ বছর ধরে এই কাপড়পট্টিতে সেলাইয়ের কাজ করে যাচ্ছি। আমি সকল ধরনের কাজ জানি। কিন্তু অর্থের অভাবে দোকান নিয়ে বড় আকারে এই ব্যবসা চালানোর মত ক্ষমতা আমার নেই। তাই আমি এ পর্যন্ত এখানেই কাজ করে সংসার পরিচালনা করছি। তিনি আরো বলেন, অনেক কাস্টমার আছেন তারা আমাদের ঘৃনা করেন। মনে করেন ভাল কাজ আমরা করতে পারিনা। কিন্তু আমরা অল্প মজুরীতে ভাল পোষাক তৈরী করতে পারি বলে জানান বাদল। তিনি আরো বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এখানে বসে কাজ করছি। কোনদিন তাদের কেউ এখান থেকে উঠে যেতে বলেনি। এবার সিটি কর্পোরেশেনের ম্যাজিস্ট্রেট তাদের উঠে যেতে বলেছেন বলে জানান তিনি। এই স্থান ছেড়ে দিয়ে তারা কোথায় যেয়ে দাঁড়াবে। কিভাবে তাদের সংসার চলবে। এনিয়ে এখন তারা খুব চিন্তিত বলে জানান বাদল।
আরেক খলিফা নওশাদ বলেন, স্বাধীনতার ২দিন পর থেকে এই স্থানে এই কাজ শুরু করেছি। আজ অবধি চালিয়ে যাচ্ছি এই কাজ। তার বাপ-দাদার কাজ বলে জানান তিনি। তিনি আরো বলেন, রোজার সময়ে কাজে সামান্য ক্ষতি হয়। অনেক কাস্টমার এসে কাপড়ের মাপ জানতে চায়। এটা বানাবো এতবড় ঝুলের হবে, কতটুকু কাপড় লাগবে আরো নানা প্রশ্ন। এই সকল প্রশ্নের জবাব দিতে দিতে তারা হিমশিম খান বলে জানান তিনি। তবে তার দেওয়া পরিমাপের মাধ্যমেই কাপড় কিনে কাস্টমার চলে যান বড় ট্রেইলার্সের দোকানে। তখন একটু খারাপ লাগে। তবে ভালও লাগে যে কাস্টমারগণ অন্যদিক দিয়ে হলেও তাদের মূল্যায়ণ করেন।
এছাড়াও বাজারে সুলতান, সোহরাব, খোকন, নুরুল, শফিকুল, তসলিম ও বাবুসহ অন্যান্য খলিফাগণ বলেন, এভাবেই তাদের জীবন অতিবাহিত হতে চলছে। স্বাধীনতার পূর্ব ও পরে অনেক ঘাতপ্রতিঘাত পেরিয়ে এই কাজ করতে করতে তারা এই বয়সে এসে পৌঁছেছেন ।
এখন আর দোকান নিয়ে শোরুম করে ব্যবসা করার মনমানসিকতা আর নেই। পরিবারের অন্য সদস্যদেরও এই পেশায় নিয়ে আসতে চান না তারা। আগে খলিফাদের কদর থাকলেও এখন আর তেমন কদর নেই। টাকা দিলেই রেডিমেট পোষাক পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি লুঙ্গি পর্যন্ত এখন কোম্পানীগুলো সেলাই করে বিক্রি করছে। এভাবে চলতে থাকলে বেশদিন লাগবেনা তাদের পেশা পরিবর্তন করে অন্য পেশায় যেতে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close