শিরোনামসম্পাদকীয়-কলাম

আত্মশুদ্ধি ও আত্মসংযমের মাস রমজান

রমজান হল ইসলামী বর্ষপঞ্জিকা অনুসারে নবম মাস, রমজান মাসে রোজাপালন ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের মধ্যে তৃতীয়তম।

এ মাসে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মুসলিম ব্যক্তির উপর সাওম পালন ফরয, কিন্তু অসুস্থ, গর্ভবতী, ডায়বেটিক রোগী, ঋতুবর্তী নারীদের ক্ষেত্রে তা শিথিল করা হয়েছে। রোজা বা সাওম হল সুবহে সাদিক থেকে সুর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার পানাহার, পঞ্চইন্দ্রিয়ের দ্বারা গুনাহের কাজ এবং (স্বামী-স্ত্রীর ক্ষেত্রে) যৌনসংগম থেকে বিরত থাকা। এ মাসে মুসলিমগণ অধিক ইবাদত করে থাকেন। কারণ অন্য মাসের তুলনায় এ মাসে ইবাদতের সওয়াব বহুগুণে বাড়িয়ে দেওয়া হয়। এ মাসের লাইলাতুল কদর নামক রাতে কুরআন নাযিল হয়েছিল, যে রাতকে আল্লাহ তাআলা কুরআনে হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম বলেছেন। এ রাতে ইবাদত করলে হাজার মাসের ইবাদতের থেকেও অধিক সওয়াব পাওয়া যায়। রমজান মাসের শেষদিকে শাওয়াল মাসের চাঁদ দেখা গেলে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে মুসলমানগণ ঈদুল-ফিতর পালন করে থাকে যেটি মুসলমানদের দুটি প্রধান ধর্মীয় উৎসবের মধ্যে একটি।

আত্মশুদ্ধির মাস হচ্ছে রমজান। রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস হিসেবে পরিচিত রমজানে মুসলমানদের মধ্যে মাসব্যাপী রোজা পালিত হয়। এ মাসে অপ্রাপ্ত বয়স্ক, রোগী, মুসাফির, পাগল, হায়েজ-নেফাস সম্পন্না মহিলা ও শরিয়তের পরিভাষায় অক্ষম ব্যতীত প্রত্যেক নর-নারীর জন্য রোজা পালন করা ফরজ। পবিত্র কোরআন শরিফের বাণী—‘হে ইমানদারগণ, তোমাদের ওপর রোজা ফরজ করা হলো, যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তী লোকদের ওপর। নির্দিষ্ট কয়েক দিনের জন্য যেন তোমরা খোদাভীতি অর্জন করতে পার। অতঃপর তোমাদের মধ্যে যে অসুস্থ থাকবে অথবা সফরে থাকবে, তবে অন্য সময়ে এ সংখ্যা পূরণ করে নিবে। আর এটি যাদের জন্য অপারগ হয়, তারা এর পরিবর্তে একজন মিসকিনকে খাদ্যদান করবে। যে ব্যক্তি খুশির সঙ্গে সৎ কাজ করে, তা তার জন্য কল্যাণকর।’

হজরত সালমান ফারসি (রা.) বর্ণনা করেন, শাবান মাসের শেষদিনে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহিও সাল্লাম আমাদের উদ্দেশ্যে বলেন, হে মানবজাতি! একটি মহান ও মোবারক মাস তোমাদের কাছাকাছি। এ মাসে একটি রাত রয়েছে যা হাজার মাস অপেক্ষা উত্তম। আল্লাহ তোমাদের প্রতি এ মাসের রোজা ফরজ করেছেন, আর রাতে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়াকে অতিরিক্ত ইবাদত বলে বর্ণনা করেছেন। এ মাসে যদি কেউ ভালো কাজ করে, তবে তা হবে অন্য মাসে ফরজ আদায়ের সমতুল্য। রমজান হচ্ছে ধৈর্যের মাস আর ধৈর্যের বিনিময় হচ্ছে জান্নাত। রমজান হচ্ছে সহানুভূতির মাস। যে মাসে মোমিনের রিজিক বর্ধিত করে দেওয়া হয়। যে ব্যক্তি এ মাসে রোজাদারকে ইফতার করাবে, তা তার জন্য গুনাহ এবং দোজখের আগুন থেকে উদ্ধারের মাধ্যম হবে। আর তাঁকে রোজাদারের সমান প্রতিদান দেওয়া হবে। এতে রোজাদারের সওয়াব হ্রাস পাবে না।’

হজরত সাহাল (রা.) থেকে বর্ণিত, নবী করিম (সা.) রোজাদারদের শ্রেষ্ঠত্ব সম্বন্ধে বলেন, জান্নাতের একটি ফটকের নাম হলো রাইয়্যান। কিয়ামতের দিন এ ফটক দিয়ে রোজাদার ব্যক্তিরা প্রবেশ করবেন। অন্য কেউ এ ফটক দিয়ে প্রবেশ করতে পারবে না। রোজাদারকে চিহ্নিত করে আহ্বান করা হবে এবং তারা এদিকে অগ্রসর হবেন, অন্য কেউ এদিকে প্রবেশ করতে পারবে না। রোজাদারগণ প্রবেশ করার পর তা বন্ধ করে দেওয়া হবে। (বোখারি)

হজরত সালমান ইবনে আমির দাববী সাহাবি (রা.) থেকে বর্ণিত নবী আকরাম (সা.) বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন ইফতার করে তখন তাকে খেজুর দিয়ে ইফতার করা উচিত। তবে যদি সে খেজুর না পায়, তাহলে পানি দিয়ে ইফতার করা উচিত। কারণ পানি হচ্ছে পবিত্র (তিরমিজি )।

-নাদিম সিনা

Close