নাগরিক মতামতশিরোনাম

রমজানের দ্বিতীয় দশক-মাগফেরাত ও করণীয়

রমজান মাসের দ্বিতীয় ১০ দিন হচ্ছে মাগফিরাত। যখন আপনি  মাগফিরাত অতিবাহিত করেন, তখন রাহমানুর রাহিম বান্দার গুনাহখাতা মাফ করে দেন। হাদিস শরিফে বর্ণিত আছে যে, ‘মাহে রমজানের প্রতি রাতেই একজন ফেরেশতা ঘোষণা করতে থাকেন: ‘হে পুণ্য অন্বেষণকারী! অগ্রসর হও। হে পাপাচারী! থামো, চোখ খোলো।’ তিনি আবার ঘোষণা করেন, ‘ক্ষমাপ্রার্থীকে ক্ষমা করা হবে। অনুতপ্তের অনুতাপ গ্রহণ করা হবে। প্রার্থনাকারীর প্রার্থনা কবুল করা হবে।’

মাগফেরাতের দশকে আপনি সবোর্চ্চ ক্ষমা প্রদর্শন করুন। রমজান মাসের মধ্য দশক যেহেতু মাগফেরাত বা ক্ষমার, সুতরাং এই ১০ দিন আমাদের করণীয় হবে আল্লাহপাকের ক্ষমা সংক্রান্ত নামসমূহের জ্ঞান হৃদয়ঙ্গম করে এর ভাব ও বৈশিষ্ট্য অজর্ন ও অধিকার করে নিজের মধ্যে আত্মস্থ করার চেষ্টা করা এবং আজীবন তার ধারক–বাহক হয়ে তা দান করা বা বিতরণ করা তথা আল্লাহর গুণাবলী নিজের মাধ্যমে তার সৃষ্টির কুলের কাছে পৌঁছে দেওয়া।

আল্লাহ তাআলার ক্ষমা সুলভ নামগুলো হলো : আল গাফিরু (ক্ষমাশীল), আল গফূরু (ক্ষমাময়), আল গফফারু (সর্বাধিক ক্ষমাকারী), আল আফুউ (মার্জনাকারী), আল খফিদু (বিনয় পছন্দকারী), আশ শাকূরু (কৃতজ্ঞ/ কর্মের মূল্যায়রকারী/ প্রতিফল প্রদানকারী), আল বাররু (সদাচারী), আল হালীমু (সহিষ্ণু), আস সবূরু (ধৈর্য্যশীল), আত তাউওয়াবু (তওবা কবুলকারী) ইত্যাদি। হাদীস শরীফে আছে, রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন : অপরাধ স্বীকারকারী নিরপরাধ ব্যক্তির মতো। (বুখারী শরীফ, মুসলমি শরীফ ও তিরমিযী)। মহানবী হযরত মুহাম্মাদুর রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেছেন : সকল মানুষ ভুলকারী; আর ভুলকারীদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ হলো যারা তওবাকারী। (বাইহাকী শরীফ)। অন্য হাদীসে রসূলুল্লাহ সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন : তুমি ক্ষমা করো; তোমাকেও ক্ষমা করা হবে। (তিরমিযী শরীফ)।

আপনি ক্ষমা লাভ করেছেন বা ক্ষমার অধিকারী হয়েছেন তা বোঝা যাবে আপনার আচরণে যদি ক্ষমা প্রকাশতি হয়; নয়তো নয়।

অপর হাদিসে নবী করিম (সা.) বলেছেন, ‘এ মাসে চারটি কাজ অবশ্যকরণীয়। দুটি কাজ এমন যে তার দ্বারা তোমাদের প্রতিপালক সন্তুষ্ট হন। অবশিষ্ট দুটি এমন, যা ছাড়া তোমাদের কোনো গত্যন্তর নেই। এই চারটির মধ্যে একটি হলো কালেমায়ে শাহাদাত পাঠ করা, দ্বিতীয়টি হলো অধিক পরিমাণে ইস্তেগফার বা ক্ষমা প্রার্থনা করা। এই দুটি কাজ আল্লাহর দরবারে অতি পছন্দনীয়। তৃতীয় ও চতুর্থ হলো জান্নাত লাভের আশা করা ও জাহান্নাম থেকে পরিত্রাণের প্রার্থনা করা। এই দুটি এমন বিষয়, যা তোমাদের জন্য একান্ত জরুরি।’ (ইবনে খুজাইমা)

রাসুল (সা) আরও বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজান মাস পেয়ে নিষ্পাপ হতে পারল না, তার মতো হতভাগ্য এই জগতে আর কেউ
নেই।’সুতরাং, মাহে রমজান আত্মশুদ্ধির মাস, আত্মসংযমের মাস। এমাসে সকল মুসলিমের সকল গুনাহখাতা মাফ হওয়ায় একান্ত কাম্য।

-নাদিম সিনা

বিষয়: রমজান, ফজিলত

Close