বাগমারাশিরোনাম-২

২০ লাখ টাকা নিয়ে উধাও ‘জনকল্যাণ সংস্থা’

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় মাড়িয়া ইউনিয়নের শীতলাই গ্রামে ‘জনকল্যাণ সংস্থা’ নামে প্রতিষ্ঠান খুলে সহজ শর্তে ঋণের প্রলোভন দেখিয়ে স্থানীয়দের কাছ থেকে ২০ লাখ টাকা নিয়ে চার প্রতারক উধাও হয়েছে।ফলে প্রচন্ড বিপাকে পড়েছেন ‘জনকল্যাণ সংস্থা’ এ অর্থ লগ্নিকারীরা।
অর্থ লগ্নিকারী ভূক্তভোগীরা জানান, সম্প্রতি দুই ব্যক্তি এলাকায় নিজেদের ‘জনকল্যাণ সংস্থা’ নামে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা পরিচয় দেন। এই পরিচয়ে তারা শীতলাই গ্রামের সাইদুর রহমানের বাড়ি ভাড়া নেন। কথা ছিল তারা সাইদুরকে পাঁচ লাখ টাকা এবং মাসিক ১০ হাজার টাকা ভাড়া দেবেন।রোববার সাইদুরকে সবটাকা পরিশোধ করার কথা ছিল। এনিয়ে একটি চুক্তিও করেন প্রতারকরা।
বাড়ি ভাড়া নিয়ে এক সপ্তাহ আগে প্রতিষ্ঠানের সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে কার্যক্রম শুরু হয়। এরপর আগের দুজনের সঙ্গে যুক্ত হন আরো দুজন। এই চারজন মিলে উপজেলার মাড়িয়া, গোয়ালকান্দি ও হামিরকুৎসা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা থেকে দুই শতাধিক গ্রাহক সংগ্রহ করেন। সহজ শর্তে ৫০ হাজার থেকে সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা ঋণ দেয়ার প্রলোভন দেখান ওই চারজন। এ জন্য গ্রাহকের কাছে প্রতি লাখের জন্য ১০ হাজার ২০০ টাকা করে জামানত দিয়ে প্রতিষ্ঠানের নির্দিষ্ট ফরম পূরণের কথা বলেন। রোববার ঋণ দেয়ার কথা ছিল।
গ্রাহকদের জানানো হয়েছিল, ঋণ দেয়ার সময় তারা জামানতের টাকাও ফেরত পাবেন।এলাকার অন্তত দুই শতাধিক গ্রাহক এই ফাঁদে পড়েন।
রোববার সকালে ঋণ নেয়ার জন্য তারা সংস্থার অফিসে গিয়েছিলেন। কিন্তু গিয়ে দেখতে পান তালা ঝোলানো। অর্থ আদায়কারী চার ব্যক্তির হদিস নেই। এই খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে প্রতারিত লোকজন ভীড় করেন।কথিত জনকল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তাদের দেয়া পাঁচটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ পাওয়া যায়।
ওই বাড়ির মালিক সাইদুর রহমান বলেন, কখন ভাড়াটিয়ারা চলে গেছেন, তিনি টের পাননি। তারা এমন প্রতারক কোনোভাবেই বুঝতে পারেননি তিনি।
উপজেলার কাঁঠালবাড়ি গ্রামের গিয়াস উদ্দিন সমিতিতে জামানত দিয়েছিলেন। প্রতারিত হয়ে তিনি বলেন, লোভে পড়েই প্রতারিত হয়েছেন তারা। অনেকেই নিজের এমনকি পরিবার পরিজনের নামেও বিপুল অংকের জামানত দিয়ে প্রতারিত হয়েছেন।
এই বিষয়ে কথিত জনকল্যাণ সংস্থার কর্মকর্তাদের দেয়া পাঁচটি মুঠোফোন নম্বরে যোগাযোগ করা হলে তা বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি।
এদিকে জনকল্যাণ সংস্থা নামে কোনো এনজিও বা প্রতিষ্ঠানের বাগমারায় কাজ করার বিষয়টি উপজেলা প্রশাসনের জানা নেই বলে জানান বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম।
তিনি বলেন, ওই প্রতিষ্ঠানটির কোনো কাগজপত্র তার দফতরে নেই। প্রতারিত হওয়া ব্যক্তি ও সংস্থাটির কাজ করার বিষয়ে কেউ আগে জানায়নি। তবে তিনি খোঁজ নিয়ে আইনত ব্যবস্থা নেবেন।
মাড়িয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য আবদুল আজিজ জানান, বাড়ির মালিক তাকে সংস্থার বিষয়ে জানিয়েছিলেন। সংস্থার সঙ্গে রোববার মালিকের যে চুক্তি হওয়ার কথা ছিল সেখানে তারও হাজির থাকার কথা ছিল।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close