শিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

কবিতার শেষবিন্দু

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

আকাশের সাথে হিমাদ্রীর আলাপ হয় ফেসবুকে।আকাশ খুব ভালো লেখালেখি করে। হিমাদ্রীও একটু আধটু লেখালেখি করে।
সেদিন ফেসবুক ঘাটাঘাটি করতে গিয়ে বইপোকা পেজে আকাশের লেখা “ইচ্ছে” গল্পটা পড়ে হিমাদ্রীর খুব ভালো লাগে তাই কিছু না ভেবেই আকাশকে হিমাদ্রী ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট পাঠায়।
কিছু সময় পর হিমাদ্রীর প্রোফাইলে আকাশের ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট এক্সেপ্ট করার নোটিফিকেশন আসে।
হিমাদ্রী নোটিফিকেশন দেখে আকাশকে একটা মেসেজ পাঠাই আপনার “ইচ্ছে” গল্পটা পড়ে আমার খুব ভালো লেগেছে তাই আপনাকে ফ্রেন্ড রিকুয়েষ্ট পাঠিয়েছিলাম এক্সেপ্ট করার জন্য ধন্যবাদ।
আকাশ সাথে সাথেই মেসেজ সিন করে রিপলে দেয় স্বাগতম।
হিমাদ্রী ভেবেছিলো হয়তো আকাশ মেসেজ দিবে অনেক পরে আর তা না হলে কোনো মেসেজ দিবে না। কারন সাধারনত ফেসবুকের ভালো লেখকেরা সহজে কারো সাথে কথা বলে না।যেমনটা হিমাদ্রী নিজে। তাকে অনেক মেসেজ করে তার গল্প পড়ে ভালো লাগার জন্য কিন্তু সে খুব একটা কারো মেসেজের রিপলে দেয় না।
আকাশের মেসেজের রিপলে পেয়ে হিমাদ্রীর ভালোই লাগে।
এভাবে শুরু হয় আকাশ আর হিমাদ্রীর কথা বলা।
আকাশ শুরু থেকেই হিমাদ্রীকে তুমি করে বলত। আর এর ব্যাখ্যা ও দিয়ে দিয়েছিলো। ইংরেজিতে you এর তুমি। এখানে আলাদা ভাবে তুমি বা আপনি নেই সে থেকেই আকাশ প্রথম থেকেই হিমাদ্রীকে তুমি করে বলে।
আর হিমাদ্রীকেও তুমি করে বলতে বলে।
হিমাদ্রীর অবশ্য আপনি করে কথা বলতে ভালো লাগে না। তার জন্য ভালোই হয়েছে তুমি করে বলার জন্য।
আস্তে আস্তে আকাশ আর হিমাদ্রীর কথা বলা বেড়ে যায়। দুইজনের মধ্যে একটা অদ্ভুত রকমের ভালো লাগা সৃষ্টি হয়।
দুইজনে অনেক ভালো লেখালেখি করে। সামনে বই মেলাতে তাদের দুইজনের বই প্রকাশ পাবে। যদিও আকাশের এর আগেও কয়েকটা বই প্রকাশ পেয়েছে।
হিমাদ্রী কবিতা শুনতে খুব ভালো বাসে।
আর আকাশের প্রথম প্রকাশিত বইটা কবিতার। তাই আকাশ প্রতিদিন একটা করে হিমাদ্রীকে কবিতা শোনায়।
আর হিমাদ্রী আকাশকে একটা করে রবীন্দ্র সংগীত শোনাই। কবিতা আর রবীন্দ্র সংগীতের মাধ্যমেই তাদের কথা হয়ে থাকে।
কারন আকাশ হিমাদ্রী দুজনেই খুব অদ্ভুত প্রকৃতির মানুষ।সাধারন মানুষের কাছে যে কাজগুলো খুব বিরক্তিকর সেগুলো হিমাদ্রী আর আকাশের কাছে খুব মজার বিষয়।
তাই হয়তো তাদের মধ্যে না দেখার এ ভালোলাগা।

Close