মহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে কালবৈশাখীর তান্ডব

নিজস্ব প্রতিবেদক: সারাদেশ সহ রাজশাহীতে গতকালকের কালবৈশাখীর দাপটে ব্যপক ক্ষয়-ক্ষতি ও প্রানহানীর ঘটনা ঘটেছে। সাময়িক রেল যোগাযোগও বন্ধ হয়ে যায়।
ঝড়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে ছোট বড় বেশ কয়েকটি গাছপালা ভেঙে পড়ে। ঝড়ে ক্যাম্পাসের একটি গগন শিরিষ গাছ উপড়ে গিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের প্রাচীরের উপর পড়ে। এতে প্রাচীরের একাংশ ভেঙে যায়।
জেলা শহর থেকে শুরু করে নয়টি উপজেলাতেই ঝড়-বৃষ্টি হয়। ঝড়ে আমসহ বিভিন্ন ফসলের ব্যাপক ক্ষতি হয়। বিশেষ করে আম ঝরে পড়েছে ব্যাপক হারে।
বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে সরেজমিনে দেখা গেছে, ঝড়ে ক্যাম্পাসের প্যারিস রোডের দুই পাশের বড় বড় বেশ কয়েকটি গাছ ভেঙে সড়ক ও বৈদ্যুতিক খুঁটির উপর পড়ে। এতে বৃষ্টির থেমে যাওয়ার পর ওই সড়ক দিয়ে চলাচল বন্ধ হয়ে যায় এবং বৈদ্যুতিক তারগুলো ছিড়ে যায়। ফলে ক্যাম্পাসে দীর্ঘক্ষণ বিদ্যুৎ সংযোগে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। এতে ভোগান্তিতে পড়েন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। এ ছাড়াও ক্যাম্পাসের মাদার বখশ্ হল, শহীদ জিয়াউর রহমান হল, শহীদ হবিবুর রহমান হলসহ বিভিন্ন হলের আশেপাশের গাছ ও গাছের ডালপালা ঝড়ে ভেঙে পড়ে। একটি গাছ উপড়ে গিয়ে উপাচার্যের বাসভবনের প্রাচীরের উপর পড়ায় প্রাচীরের একাংশ ভেঙে যায়।
ঝড়-বৃষ্টি থেমে যাওয়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আব্দুস সোবহান, রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এম এ বারী, প্রক্টর অধ্যাপক লুৎফর রহমান ক্ষতিগ্রস্ত স্থানগুলো পরিদর্শন করেন।
শুক্রবার, ইফতারের আগে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও নওগাঁ জেলায় ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে চারজন নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিয়াডাঙ্গা ইউনিয়নের শ্রীরামপুর এলাকায় বজ্রপাতে দুইজন ও পোরশা উপজেলার গানুইর গ্রামে মালিপুকুর মাঠে দুইজন নিহত হন। এছাড়াও ঝড়ের সময় মাথায় ইট পড়ে রাজশাহীর বানেশ্বরে একজন নিহত হয়েছে।
নিহতরা হলেন- পুঠিয়ার উপজেলার বানেশ্বর ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আব্দুস সোবহান সরকার (৬৫), চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার শ্রীরামপুর গ্রামের মৃত হজরত আলীর ছেলে রেজাউল হোসেন (৪০) ও মোতালেব হোসেনের ছেলে মো. মুসা (৩৫), পোরশা উপজেলার নিতপুর ইউনিয়নের গানুইর গ্রামের আজাদ হোসেনের ছেলে শফিনুর রহমান বিষু (৩২) এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ থানার পিঠাইল গ্রামের মতিউর রহমানের ছেলে হাসান আলী (৩০)।
এ সময় আহত হয়েছেন চাঁপাইনবাগঞ্জের হজরত আলী (৬০) ও পোরশার বুলবুল হোসেন। হজরতকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ও বুলবলুকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শুক্রবার বিকেল সোয়া ৪টার দিকে ধানের জমিতে কাজ করার সময় বজ্রপাত হলে রেজাউল ও মুসা ঘটনাস্থলেই মারা যান। এ সময় আহত হজরত আলীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর হাসপাতালে ভর্তি করে।
অপরদিকে নওগাঁর পোরশা উপজেলায় বজ্রপাতে দুই ধানকাটা শ্রমিক নিহত হয়েছেন হয়েছেন। শুক্রবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে উপজেলার গানুইর গ্রামে মালিপুকুর মাঠে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গানুইর গ্রামের মালিপুকুর মাঠে ধান কাটার কাজ করছিলেন বুলবুল হোসেন, শফিনুর রহমান ও হাসান আলীসহ কয়েকজন। দুপুরের পর ছিল আকাশ মেঘাচ্ছন্ন। বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে অন্ধকার নেমে আসে এবং ঝড়-বৃষ্টি শুরু হয়। এতে শ্রমিকরা মাঠ থেকে বাড়ি ফিরছিল। হঠাৎ করেই বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই শফিনুর রহমান ও হাসান আলী মারা যান। এ সময় বুলবুল হোসেন আহত হন। তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
অন্যদিকে, পাবনার ভাঙ্গুড়া উপজেলায় কালবৈশাখী ঝড়ে রেল লাইনের ওপর প্রায় ৩০/৪০টি গাছ ভেঙে পড়েছে। এতে ঢাকার সঙ্গে উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের রেল যোগাযোগ সোয়া তিন ঘণ্টা বন্ধ থাকে। শুক্রবার (১৭ মে) বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। গাছ সরানোর পর রাত সোয়া ৯টা থেকে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়।
ভাঙ্গুড়া স্টেশন মাস্টার মো. আব্দুল মালেক বলেন, বিকাল ৫টা ৫০ মিনিটে ভাঙ্গুড়া স্টেশন থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যায়। ঝড়ের রেল লাইনের ওপর বেশ কয়েকটি বড় বড় গাছ ভেঙে পড়ায় ৬টা থেকে পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনটি শরৎনগর স্টেশনে থেমে থাকে।
ভাঙ্গুড়া থানার এএসআই মাসুদ রানা জানান, ফায়ার সার্ভিস এবং স্থানীয়দের মাধ্যমে রেল লাইনে উপড়ে পড়া গাছ কেটে সরিয়ে ফেলা হয়। রাত সোয়া ৯টায় ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস উপজেলা শরৎনগর স্টেশন থেকে ছেড়ে যায়।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close