অর্থ ও বাণিজ্যনাগরিক মতামতশিরোনাম-২

পাশে নেই সরকার, এবার কেমন হবে কৃষকের ঈদ?

সামাউন আলী

রাজিয়া খাতুন চৌধুরাণী’র কবিতা পড়েছিলাম “চাষী” সব সাধকের বড় সাধক আমার দেশের চাষা, আজ কেন জানি মনে হচ্ছে কবিতার এ চরণটি মিথ্যা।
এখানে বলা যায়, সবচেয়ে বড় অবহেলিত আমার দেশের চাষা!
এদেশে রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হয়ে যায় এমপি মন্ত্রীরা। তারা ধনী হওয়ার পথ হিসেবে রাজনীতিকেই বেছে নেয় কিন্তু রাজনীতি কি ধনী হওয়ার জন্য? না জনসেবার জন্য?
দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ীরা পণ্য স্টকে রেখে মূল্য বৃদ্ধি করে দেখার কেউ নাই। তারা কি দেশের সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী?
কৃষি অফিস সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত মূল্যে ধান ক্রয় করেনা। তারা ধান ক্রয় করে ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে অথবা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একটি মহলের কাছ থেকে, কিন্তু কেন?
অথচ, এদেশের কৃষকরা রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান বা অন্যান্য ফসল চাষাবাদ করে। চাষাবাদের সময় তেল, সার, কীটনাশক, শ্রমিক খরচ বেশি কিন্তু ফসল বিক্রির সময় খরচের চেয়েও দাম কম। শ্রমিক না পাওয়ার কারণে এদেশে ফসল পানিতে ডুবে যায়, ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় কৃষক কষ্টার্জিত ধানে আগুন দেয় আর সরকার বিদেশ থেকে চাল আমদানি করে! গম আমদানি করে! কেন এদেশ থেকে ন্যায্য মূল্যে ক্রয় করা যায়না?
ঈদে সরকারী কর্মকর্তা কর্মচারীদের দেয়া হবে বেতনের পাশাপাশি বোনাস! তারা রাজধানী সহ দেশ-বিদেশের বড় বড় শপিং মলে যাবে কেনাকাটা করতে। একটা পাঞ্জাবি কিনতে যাবে সিঙ্গাপুরে, চুল কাটতে যাবে জাপানে, সেভ করতে যাবে মালয়েশিয়ায়।
অথচ এদেশের কৃষকরা ঈদের কেনাকাটা করতে যাবে কোথায়??
বিঘাপ্রতি ধান হয়েছে সর্বোচ্চ ১৮ থেকে ২০ মণ।
১ মণ ধানের দামে একজন শ্রমিক,
১ মণ ধানের দামে এক কেজি খাসির গোস্ত, সোয়া কেজি গরুর গোস্ত, ১ মণ ধানের দামে ১৫ কেজি শসা, ১ মণ ধানের দামে ৫ কেজি তেল, ১ মণ ধানের দামে ৪ কেজি লাচ্ছা-সেমাই, ১ মণ ধানের দামে কৃষকের ১০ দিনের বিদ্যুৎ বিল, ২ মণ ধানের দামে ১টা শাড়ি, ২ মণ ধানের দামে ১টা পাঞ্জাবি, তাহলে এবার কেমন হবে কৃষকের ঈদ??
এক বিঘা জমির ধান আবাদ করতে খরচ ১৪ হাজার টাকা, ধান বিক্রি হচ্ছে ১৩-১৪ হাজার টাকা।
কতটা কষ্ট সহ্য করে একজন কৃষক তার কষ্টার্জিত ধানে আগুন দিচ্ছে আর সেটাতে নিয়ে মশকরা করে অামার দেশের খাদ্যমন্ত্রী, ধানের ন্যায্য মূল্যের দাবিতে সারাদেশে রাস্তায় ধান ছিটিয়ে প্রতিবাদ হচ্ছে, আমার দেশের কৃষিমন্ত্রী বলে ধানের মূল্য বৃদ্ধি করার সুযোগ নেই, তাহলে অাপনার পদত্যাগ করার সুযোগ তো আছে নাকি??
দেশের ৮০ শতাংশ মানুষ কৃষি কাজের উপর নির্ভরশীল, যেখানে দেশের বড় একটা আয় আসে কৃষি থেকে সেখানে কৃষকদের নিয়ে ভাবার বিষয়ে কারও যেন কোন ভূমিকাই নেই।
আশ্চর্য এক দেশে বসবাস করি আমরা!
কৃষকদের সাথে মশকরা করার জন্য এর ন্যায্য বিচার ও সেই সাথে ধানের ন্যায্য মূল্য দিতে সংশ্লিষ্ট সকলের সুদৃষ্টি কামনা করছি।বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close