কর্মখালি

ঈদের পর এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকা

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: ঈদুল ফিতরের পর প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির চূড়ান্ত তালিকা যে কোনো দিন প্রকাশ করা হতে পারে। আর আসছে জুলাই মাস থেকে বেতন-ভাতা পাবেন নতুন এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা। শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে এ তথ্য।
২০১০ খ্রিষ্টাব্দে সর্বশেষ এক হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করেছিল সরকার। এর পর থেকে সেই প্রক্রিয়া বন্ধ। গত জাতীয় নির্বাচনের আগে তড়িঘড়ি করে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির কার্যক্রম শুরু করা হয়। তবে নতুন সরকার গঠনের পর পাঁচ মাস অতিবাহিত হলেও এখনও চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি সরকারের পক্ষ থেকে। ফলে সারাদেশের প্রায় ছয় হাজার নতুন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রায় ৮৫ হাজার শিক্ষক-কর্মচারী এ মুহূর্তে প্রহর গুনছেন প্রতীক্ষার।
জানতে চাইলে নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক-কর্মচারী ফেডারেশনের সভাপতি অধ্যক্ষ গোলাম মাহমুদুন্নবী ডলার দৈনিক শিক্ষাকে বলেন, ‘আমরা এমপিওভুক্তির প্রজ্ঞাপন দেখতে চাই। অধিকাংশ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা ১৫ থেকে ২০ বছর ধরে বিনা বেতনে চাকরি করছেন। অনেকের চাকরির বয়স আছে আর মাত্র পাঁচ থেকে সাত বছর। এ কারণে সরকারি স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সবাইকে একসঙ্গে এমপিওভুক্তি করে এই সমস্যার সমাধান করা হবে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনোভাবেই মোট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আংশিক এমপিওভুক্ত করা সমীচীন হবে না। আর স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে কিছুসংখ্যক প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করার উদ্যোগ নিলে অসুস্থ প্রতিযোগিতার আশঙ্কা রয়েছে। এ প্রতিযোগিতায় টিকতে না পেরে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে যাবে। এর সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা বেকার হয়ে পড়বেন। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির একটি সামগ্রিক স্বচ্ছ সমাধান চাই। প্রয়োজনে বর্তমান বাজেটে অর্থ বরাদ্দ যথেষ্ট না হলে শিক্ষকরা আপাতত কম বেতন নিতে রাজি আছেন। পর্যায়ক্রমে কয়েক বছরে পুরো বেতন সম্পন্ন করা হলেও আপত্তি নেই। তাই স্বীকৃতিপ্রাপ্ত সকল প্রতিষ্ঠানকেই একযোগে এমপিওভুক্তি করতে হবে।’
ইদুল ফিতরের আগেই এমপিওভুক্তির ঘোষণা আসছে কি-না? জানতে চাইলে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন দায়িত্বশীল কর্মকর্তা বলেন, ‘ঘোষণা ইদের আগে বা পরে যখনই হোক, জুলাই মাসে কার্যকর হবে এটা।’
বর্তমানে সারাদেশে এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ২৭ হাজার ৮১০টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা চার লাখ ৯৬ হাজার ৩৬২ জন। এ খাতে মাসে সরকারের ব্যয় হয় ৯৪২ কোটি টাকা। অন্যদিকে, দেশে একাডেমিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত নন-এমপিও শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে পাঁচ হাজার ২৪২টি। এসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারীর সংখ্যা ৮০ হাজার। একাডেমিক স্বীকৃতির বাইরেও আরও দুই হাজার নন-এমপিওভুক্ত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।বরেন্দ্র বার্তা/আবি/অপস

Close