বিনোদনশিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

নাট্যজন, ভাষাসৈনিক, অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের জীবন সংকটাপন্ন

বিনোদন ডেস্ক: দেশের অন্যতম নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদের জীবন সংকটাপন্ন। রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাকে রাখা হয়েছে।
শনিবার (১ জুন) রাতে এই নাট্যজনের ভাগ্নে শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মামার অবস্থা ভালো নয়। বেশ সংকটাপন্ন। যদিও এই বিষয়গুলো মিডিয়ায় শেয়ার করা পারিবারিকভাবে অনেক চাপের বিষয়। সবার কাছে তার জন্য দোয়া প্রত্যাশা করি।’এদিকে মমতাজউদদীন আহমদের ছেলে সেজান মাহমুদ তিতাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে।
মমতাজউদদীন আহমদের ঘনিষ্ঠজন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী জানান, গত ১৬ মে থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই নাট্যজন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার শরীরও অক্সিজেন পাচ্ছে না, কার্বন ডাই–অক্সাইড বেরিয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্কে পানি জমে গেছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
মমতাজউদদীন আহমদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে। রাজশাহী সরকারি কলেজে পড়ার সময়ই তিনি রাষ্ট্রভাষার আন্দোলনে যুক্ত হয়ে পড়েন। রাজশাহীর তৎকালীন ছাত্রনেতা ভাষাসৈনিক গোলাম আরিফ টিপুর সান্নিধ্যে ছাত্র রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়ে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে ভাষার দাবিতে আন্দোলন সংগঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জেলও খেটেছেন একাধিকবার।
কর্মজীবনে মমতাজউদদীন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও পরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন। তার লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজার অনুস্বারের পালা’ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল। নাট্যচর্চায় অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক দেয়। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও আলাউল সাহিত্য পুরস্কারও। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close