চাঁপাই নবাবগঞ্জবিনোদনশিরোনামসাহিত্য ও সংস্কৃতি

না ফেরার দেশে ভাষাসৈনিক, নাট্যজন, অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত নাট্যকার, অভিনেতা ও অধ্যাপক মমতাজউদ্দীন আহমদ আর নেই।
রবিবার (২ জুন) দুপুর ৩টা ৪৮ মিনিটে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি।
এরআগেও বেশ কয়েকবার লাইফ সাপোর্টে রাখা হয় প্রখ্যাত এই নাট্যকারকে।
এদিকে, গুণী এ ব্যক্তিত্বের মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বেশ কিছুদিন ধরে শারীরিক অসুস্থতায় ভোগা মমতাজউদদীন ১৫ দিন ধরে হাসপাতালে থেকে চিরবিদায় নিলেন। মৃত্যুকালে তিনি দুই ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য গুণগ্রাহী ও শুভানুধ্যায়ী রেখে গেছেন।
তার চার সন্তান হলেন- ডা. তিতাস মাহমুদ, তমাল মাহমুদ, তিয়াসা আহমেদ ও তাহিতি আহমেদ।
প্রখ্যাত নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদকে তার চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার গ্রামের বাড়িতে বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত করা হবে। তার আগে ঢাকার রূপনগরের বাসায় প্রথম নামাজে জানাজা এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে
হাসপাতাল থেকে এই কিংবদন্তির মরদেহ গুলশানের আজাদ মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তাকে গোসল করানো হবে। এরপর বাদ এশা তার মরদেহ রূপনগরের বাসার পাশে মদিনা মসজিদে নিয়ে যাওয়া হবে। সেখানে তার প্রথম নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে।
এরপর সোমবার (৩ জুন) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ প্রাঙ্গণে মরহুমের দ্বিতীয় নামাজে জানাজা সম্পন্ন হবে। সেখান থেকে তাকে চাঁপাইনবাগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার গ্রামে নিয়ে গিয়ে বাবার কবরের পাশে চিরশায়িত করা হবে। তার শেষ ইচ্ছে ছিল, বাবার কবরের পাশেই যেন দাফন করা হয়।
এর আগে দেশের অন্যতম নাট্যকার, নির্দেশক ও অভিনেতা অধ্যাপক মমতাজউদদীন আহমদেকে রাজধানীর অ্যাপোলো হাসপাতালের নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) তাকে রাখা হয়।
শনিবার (১ জুন) রাতে এই নাট্যজনের ভাগ্নে শাহরিয়ার মাহমুদ বলেন, ‘চিকিৎসকরা জানিয়েছেন মামার অবস্থা ভালো নয়। বেশ সংকটাপন্ন। যদিও এই বিষয়গুলো মিডিয়ায় শেয়ার করা পারিবারিকভাবে অনেক চাপের বিষয়। সবার কাছে তার জন্য দোয়া প্রত্যাশা করি।’এদিকে মমতাজউদদীন আহমদের ছেলে সেজান মাহমুদ তিতাস যুক্তরাষ্ট্র থেকে দেশে এসেছেন বাবার অসুস্থতার খবর পেয়ে।
মমতাজউদদীন আহমদের ঘনিষ্ঠজন অধ্যাপক রতন সিদ্দিকী জানান, গত ১৬ মে থেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন এই নাট্যজন। শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। তার শরীরও অক্সিজেন পাচ্ছে না, কার্বন ডাই–অক্সাইড বেরিয়ে যাচ্ছে। মস্তিষ্কে পানি জমে গেছে। তাকে ৪৮ ঘণ্টার পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। এর পর আজ রবিবার দুপুরে তার জীবনাবসান হয়।
মমতাজউদদীন আহমদের জন্ম ১৯৩৫ সালের ১৮ জানুয়ারি চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাট উপজেলার হাবিবপুর থানার আইহো গ্রামে।কলেজে পড়ার সময়ই ভাষা আন্দোলনে যোগ দেন তিনি। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাতে রাজশাহী সরকারি কলেজের মুসলিম হোস্টেলের ইট ও কাদামাটি দিয়ে যে শহীদ মিনার গড়ে উঠেছিল, তাতে ভূমিকা ছিল মমতাজউদদীনেরও। দাবিতে আন্দোলন সংগঠনে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। জেলও খেটেছেন একাধিকবার।
কর্মজীবনে মমতাজউদদীন চট্টগ্রাম সরকারি কলেজ ও পরে ঢাকা ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা ও সংগীত বিভাগে অধ্যাপনা করেন। তার লেখা নাটক ‘কী চাহ শঙ্খচিল’ এবং ‘রাজার অনুস্বারের পালা’ কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্য তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হয়েছিল। নাট্যচর্চায় অবদানের জন্য ১৯৯৭ সালে বাংলাদেশ সরকার তাকে একুশে পদক দেয়। পেয়েছেন বাংলা একাডেমি, শিশু একাডেমি ও আলাউল সাহিত্য পুরস্কারও। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close