শিরোনাম-২সাহিত্য ও সংস্কৃতি

ভাবনার অদ্ভুত জগৎ

সবনাজ মোস্তারী স্মৃতি

অন্য সবার নিজের সাথে কথা বলতে কেমন লাগে সেটা আমার জানা নেই তবে নিজের সাথে নিজে কথা বলতে খুব ভালো লাগে আমার। তাই বেশির ভাগ সময় নিজের সাথে কথা বলেই সময় কাটিয়ে দিই।
আজও তাই করছিলাম ছাদে বসে আকাশের দিকে তাঁকিয়ে নিজের সাথে নিজেই কথা বলছিলাম। হঠাৎ আম্মুর ডাক শুনে নিচে নেমে এসে দেখি মেহমান এসেছে সাথে আছে কয়েকটা পিচ্চিপাচ্চা। আমার কোনো সময় ছোট বাচ্চাকাচ্চা পছন্দ নয়। তেমনি ছোট বাচ্চারাও আমাকে তেমন পছন্দ করে না কারন বাচ্চাদের নিয়ে আমি বেশি মাতামাতি করি না। মাতামাতি করাও পছন্দ করি না। আর একটা কারন আছে সেটা হচ্ছে আমার চোখের বড় একটা চশমা। যেটা দেখে ছোট বাচ্চারা খুব ভয় পায়।
বাড়িতে যখন মেহমান এসেছে তখন তো আর কিছু করার নেই তাই একটা বাচ্চার দিকে দাঁত কেলিয়ে হেসে হাত বাড়িয়ে দিলাম কলে নেবার জন্য। বাচ্চাটা আমার হাত বাড়িয়ে দেওয়া দেখে কেঁদে উঠল সাথে আমার মনও নেচে উঠল খুশিতে। কারন বাচ্চাদের জ্বালাতে আর কাঁদাতে আমার বেশ মজা লাগে।
তাই আবারও দাঁত কেলিয়ে হেসে মোবাইলটা দেখিয়ে কোলে নিতে গেলাম। আবারও সেই একি ভাবে কেঁদে উঠল। আমি আর কিছু না বলে রান্নাঘরে গিয়ে ফ্রিজের ভেতর থেকে একটা কোকের বোতল বের করে খেতে খেতে আর দাঁত কেলিয়ে হাসতে হাসতে বাচ্চা তিনটার কাছে গিয়ে বসলাম। একটা বাচ্চা আমার দিকে একটু করে তাকাচ্ছে আর একটু করে কেঁদে উঠছে।
সেটা দেখতে বেশ মজা লাগছে আমার। আর একটা বাচ্চাকে জ্বালানোর জন্য ঐ বাচ্চাটার মত করেই বললাম “তলো আমলা মালামালি কলি” আমার এমন ভাবে কথা বলা দেখে বাচ্চাটা বলে উঠল “মালামালি কলবো”
তারপর আমার উপর ঝাপিয়ে পড়লো। আমিও আর কিছু না বলে দিলাম জ্বরে একটা চিমটি। আর প্যাঁ করে কেঁদে উঠল। সাথে সাথে আম্মু খালা মনি এরা সবাই ঘরে ঢুকে জিজ্ঞেস করলো কি হলো আমি চুপচাপ লক্ষী মেয়ের মত করে উওর দিলাম দেখো না তিনটাতে মিলে মারামারি করছিলো আমি যে বারন করতে গেলাম তিনজনেই কেঁদে উঠল। তারপর ঘর থেকে বের হয়ে নিজের ঘরে গিয়ে হাত পা ছেড়ে শুয়ে শিলিং এর দিকে তাঁকিয়ে ভাবনার জগতে প্রবেশ করলাম।
আমি আর কিছু পারি আর না পারি ভাবনার জগতে গিয়ে উদ্ভট ভাবনা ভাবতে খুব ভালো পারি।
তখন আমি ভাবছিলাম পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধের কথা। আমি যদি পানি পথের দ্বিতীয় যুদ্ধের সময় থাকতাম তবে সেখানে কি করতাম। তার পর ভাবতে শুরু করলাম ১৭৫৭ সালের পলাশি যুদ্ধের কথা। সিরাজুদ্দৌলার জায়গায় আমি থাকলে ঘষেটি বেগম আর মীর জাফরকে কেমন করে পরাজিত করতাম তাই ভাবতে শুরু করলাম।
আমার ভাবনায় বিচ্ছেদ ঘটালো এক পিচ্চি। নাম মমিন। আমার ঘরে ঢুকে আমার চুল টেনে বলে “তলো মালামালি কলি”
ভাবনা বিচ্ছেদ করার জন্য মেজাজটা গেলো আমার খারাপ হয়ে। মমিনের মাথার উপর দিলাম একটা চটাস করে মেরে। আবারও কাঁদতে কাঁদতে ঘর থেকে বের হলো।
আমি আবারও ভাবনার জগতে প্রবেশ করলাম।
এবার ভাবতে শুরু করলাম আপুর বিয়ে পর যখন আপুর বাচ্চা হবে তখন নতুন পদ্ধতিতে মারতে হবে তা নাহলো আপু তার বাচ্চাকে আমার কাছে আসতেই দিবে না। তার পর ভাবতে শুরু করলাম আপুর তো এখনও বিয়ে হয়নি বাচ্চাকাচ্চা মেলা দুরে। ইলা আপুর বিয়ে হয়েছে হয়তো কিছুদিন পর তার একটা বাচ্চা হবে। আল্লাহ ইলা আপুর পেট ফুলে থাকবে তখন কেমন হাস্যকর লাগবে ভাবতে ভাবতেই চিৎকার করে হাসতে শুরু করলাম আর আপু এসে এক ধমক দিয়ে বলল পাগলের মত হাসিস কেন বাচ্চাগুলোকে মেরে।
আমি তো টাসকি খেয়ে বললাম আমি কেনো মারবো বাচ্চারা আমাকে দেখে ভয় পায় এটা তো তুমি জানো আপু।
আপু বলল চুপ তুই। তোর সব বাদরামি আমি জানি। বাচ্চাদের আগে ভয় দেখিয়ে পরে আদর করতে গেলে সব বাচ্চারাই ভয় পাবে। আর কিছু বলতে না দিয়েই আমি আপুকে বললাম আপু আমি না তোমার দশটা নয়, পাঁচটা নয় একটা মাত্র বোন। জানো তো আমি বাচ্চা পছন্দ করি না। তাই এমনটা করি। তুমি আবার কাউকে কিছু বলো না। আপু আমার কথা শুনে আর কিছু না বলে হাসতে হাসতে ঘর থেকে চলে গেলো। আমি আবারও ভাবনার জগতে প্রবেশ করলাম।

Close