নওগাঁশিরোনাম

পত্মীতলায় যৌতুকের দাবিতে গৃহবধুকে অমানুষিক নির্যাতন

নিজস্ব প্রতিবেদক: যৌতুকের টাকা না পেয়ে সুরাইয়া পারভীন (৩৪) নামে এক গৃহবধুকে মধ্যযুগীয় শারীরিক নির্যাতনের অভিযোগ স্বামী ও শ্বশুর বাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি ঘটেছে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুর উপজেলার পার্শবর্তী পত্নীতলার বাদ পুইয়া গ্রামে।
নির্যাতনের শিকার গৃহবধূ সুরাইয়া পারভীন এখন মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি রয়েছেন। পা ধরে অনুনয়-বিনয় ও বহু কান্নাকাটি করার পরও অমানুষিক নির্যাতন থেকে রক্ষা পাননি ওই গৃহবধূ।
মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন গৃহবধূ সুরাইয়া পারভীন জানান, বিয়ের পর থেকেই কখনো নগদ টকা, কখনো মোটরসাইকেল, কখনো মোবাইল ফোন বাবার বাড়ি থেকে এনে দেওয়ার জন্য বিভিন্ন সময় শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছিল। গত ৫ জুন বুধবার বিকেলে নির্যাতন না করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বাবার বাড়ি থেকে আমার স্বামী আমাকে তার বাড়িতে নিয়ে যায়। ওই দিন রাত থেকে শুরু হয় আবারো যৌতুকের দাবিতে মারপিট। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করলে আমার স্বামী মকবুল হোসেন (৩৬) ও তার দুই ভাই নজরুল কবীর (৩২) এবং বেলাল হোসেন (৩০) রাতে আমার মুখ কাপড় দিয়ে বাঁধে। এরপর রাতভর চালানো হয় মধ্যযুগীয় কায়দায় শারীরিক নির্যাতন। সারা শরীরে কিল-ঘুষিসহ লাঠি দিয়ে পেটানো হয়। এ সময় আর্তচিৎকারে কেউ উদ্ধারে এগিয়ে আসেনি। পরদিন ৬ জুন বৃহস্পতিবার আমাকে ঘরে আটক রাখা হয়। যৌতুকের টাকার জন্য নির্যাতন করে ঘরে আটকে রাখার বিষয়টি ওই দিন আমার ছোট মাকে জানালে পরিবারের সদস্যরা পত্নীতলা থানা পুলিশের সহযোগিতায় আমাকে উদ্ধার করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।
নির্যাতিত গৃহবধূর মা আছিয়া খাতুন জানান, সে সময় জামাতাকে যৌতুক হিসেবে নগদ এক লাখ টাকা, স্বর্ণালংকার, খাট, আলমিরাসহ প্রায় দুই লক্ষাধিক টাকার মালামাল দেওয়া হয়।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০১০ সালে পত্নীতলা উপজেলার বাদ পুইয়া গ্রামের মকবুল হোসেনের (৩৬) সঙ্গে পাশের মহাদেবপুর উপজেলা সদরের স্কুল পাড়া এলাকার আব্দুর রহিমের মেয়ে সুরাইয়া পারভীনের (৩৪) পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকে স্বামী যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে প্রায়ই শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে আসছে। বাবার পক্ষে যৌতুকের টাকা দেওয়া সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেওয়া হলে নির্যাতনের মাত্রা আরো বেড়ে যায়। এ ব্যাপারে স্থানীয়ভাবে একাধিকবার গ্রাম্য সালিস হয়েছে। তবুও থামেনি নির্যাতন। পরে নির্যাতন সইতে না পেরে ২০১৮ সালে বাবার বাড়ি ফিরে যান সুরাইয়া পারভীন।
অভিযুক্ত মকবুল হোসেনের বক্তব্য গ্রহণের জন্য বিভিন্ন মাধ্যমে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন থাকার সত্যতা নিশ্চিত করে মহাদেবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আখতারুজ্জামান আলাল জানান, গুরুতর আহত অবস্থায় ওই গৃহবধূকে তার স্বজনরা হাসপাতালে ভর্তি করে। তার শরীরে মারপিটের চিহ্ন রয়েছে।
নির্যাতিতার ছোট বোন নাবিয়া সুলতানা জানান, খবর পেয়ে তাৎক্ষণিক স্থানীয় সাংবাদিক বরুণ মজুমদরকে সাথে নিয়ে ওই বাড়িতে যাওয়ার পর ভগ্নিপতি ও তার স্বজনরা আমাদের গালাগাল করে এবং মারধর করার জন্য উদ্যত হয়। এরপর থানায় জানালে পুলিশ ওই বাড়িতে গিয়ে গুরুতর আহত অবস্থায় সুরাইয়া পারভীনকে উদ্ধার করেন। এ ব্যাপারে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলেও জানান তিনি।
পত্নীতলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) পরিমল চক্রবর্তী জানান, খবর পেয়ে ওই গৃহবধূকে উদ্ধার করে তার পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হয়েছে। এ বিষয়ে এখনো কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে অবশ্যই তদন্তপূর্বক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close