অর্থ ও বাণিজ্যচারঘাটশিরোনাম

চারঘাটে আমের ব্যবসায় লাভবান হচ্ছে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা

মো: সজিব ইসলাম, চারঘাট : রাজশাহীর চারঘাটে আমের ব্যবসায় বেশিভাগ লাভবান হচ্ছে ক্ষুদ্র আম ব্যবসায়ীরা। প্রতি আম মৌসুমে এই ব্যবসায় স্বল্প পূজি খাটিয়ে উপজেলার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা প্রত্যেকেই ব্যপক লাভবান হওয়ার রেকর্ড রয়েছে। যার কমতি ঘটেনি এবারও। এর ফলে বর্তমানে তাদের অনেক ব্যস্ত সময় কাটছে। এরা বাজার মূল্য দেখে সেই মোতাবেক আম ক্রয় করে বাজারে বেশি মূল্যে বিক্রি করে থাকেন। তাই বড় ব্যবসায়ীদের মতো লোকশান গুনতে হয়না তাদের।
উপজেলার গ্রামে-গ্রামে ফেরি করে আম ক্রয়, অথবা ক্ষুদ্র পরিসরে দু’একটি চুক্তি ভিক্তিক আম গাছ ক্রয়, এরপর বাজারে এনে আড়ৎ-এ বিক্রি। এটা তাদের প্রতিদিনের চিত্র। এ সকল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে আমের বাজারও ভালো। তারা বিক্রিও করছেন আশানরুপ। এতে করে তাদের এখন ভালো সময় কাটছে। স্থানীয় সূত্র মতে, রাজশাহীর জেলার কয়েকটি থানার মধ্যে আম প্রধান এলাকা হিসাবে (চারঘাট- বাঘা) ব্যপক পরিচিত।
প্রতি বছরই আমের মৌসুমে অত্র এলাকার ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক আম ব্যবসায়ীরা ব্যস্ত সময় কাটান। এখানে বড়-বড় ব্যবসায়ীরা চুক্তি মূল্যে বাগান কিনে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে আম চালান করলেও পাশা-পাশি ক্ষদ্র ব্যবসায়ীরা একেবারে বসে থাকে না। তারা আম ফেরি করে গ্রামে গ্রামে ক্রয় করেন। এরপর ছোট বাজার ও স্বল্প পরিসরে নিকটতম শহরে নিয়ে তা বিক্রি করে থাকেন। এ সকল ব্যবসায়ীরা বলছেন, বর্তমানে আমের বাজার ভালো। এ কারণে তাদের লাভও ভালো হচ্ছে। আমের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী রাওথা গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানালেন, তিনি সাইকেলে করে প্রতিদিন বিভিন্ন গ্রামে ঘুরে আম ক্রয় করে থাকেন। তার মত এখানে আরো অনেকেই এই ব্যবসা করেন। যারা প্রত্যেকেই বিভিন্ন এলাকার বাগান মালিক ও বাগান প্রহরীদের বাড়ি-বাড়ি ঘুরে কাঁচা-পাকা আম ক্রয় করেন। এরপর সেগুলো উপজেলা সদরসহ এর বাইরে পার্শবর্তী বিভিন্ন শহরে নিয়ে বিক্রি করেন। অপর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী মতিউর রহমানের ছেলে রতন আলী জানান, বর্তমানে বাগান মালিকদের বাড়িতে যে আম ১৮-২০ টাকা। তারা সেই আম-ই বাজারে এনে বিক্রী করছেন ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজি দরে। এমনি ভাবে সে প্রতিদিন গড়ে ১০০ কেজির উপরে আম বিক্রি করছেন বলে জানান। এ থেকে তার যা আয় হচ্ছে তা দিয়ে ভালমত সংসার চলছে। রায়পুর গ্রামের ক্ষুদ্র আম ব্যবসায়ী আলতাফ হোসেন বলেন, তিনি ভ্যানে করে বিভিন্ন গ্রামে আম ক্রয় করে থাকেন। এরপর সেগুলো চারঘাট ছাড়াও পুঠিয়া এবং রাজশাহী শহরের বিভিন্ন জায়গায় গিয়ে ফেরি করে বিক্রি করেন। এ থেকে বছরের এই সময় টাতে তার স্বল্প পরিসরে আম কিনে বিক্রি করায় ভাল লাভ হয়ে থাকে। তার মতে, চারঘাটের আমের সুনাম থাকার কারণে আমের কাটতি হয় ভালো। সামনে আরো দেড়-দুই মাস এই ব্যবসা ভালো চলবে বলে তিনি জানান। এ প্রসঙ্গে চারঘাটের পিরোজপুর গ্রামের বাগান মালিক জিয়ার উদ্দীন বলেন, অত্র এলাকায় যারা চুক্তি ভিত্তিক আমের বাগান কিনে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে ট্রাক যোগে আম চালান দেয় তাদেরকে আমরা স্থানীয় ভাষায় আমের ব্যাপারী কিংবা ব্যাবসায়ী বলে থাকি। অথচ যারা বাড়ি-বাড়ি ঘুরে স্বল্প পূজি খাটিয়ে গাছ থেকে ঝরে পড়া অথবা পাকা আম কিনে হাটে বাজারে বিক্রি করে তাদের বলি হকার। বাস্তব অর্থে এরা হকার না, এরা ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী। একদিন না একদিন চেষ্টা করলে এরাও বড় ব্যাপারী হতে সক্ষম হবে। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাবিনা বেগম বলেন, এ উপজেলায় সাড়ে ৩ হাজার ৮০০ হেক্টর আম বাগান রয়েছে। প্রতি বছর অত্র অঞ্চলের বাগান মালিক ও ব্যবায়ীরা প্রাকৃতিক কোন দুর্যোগ না হলে তারা আর্থিক ভাবে ব্যাপক লাভবান হন। তিনি আম পরিচর্যার জন্য বাগান মালিকদের নানা রকম কৃষি বিষয়ক পরামর্শ দিয়ে থাকেন বলে জানান। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close