উন্নয়ন বার্তাশিরোনাম-২শিশু বার্তা

শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতা সেশন অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ ১২ জুন বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস। দিবসটি উপলক্ষ্যে সারা দেশের ন্যায় রাজশাহীতে পালিত হচ্ছে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস -২০১৯। “ শিশু শ্রম নয় – শিশুর জীবন হোক স্বপ্নময় ” শ্লোগানে বেসরকারী উন্নয়ন ও মানবাধিকার সংস্থা লেডিস অর্গানাইজেশন ফর সোসাল ওয়েলফেয়ার (লফস) এর আয়োজনে বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম (বিএসএএফ) এর সহযোগিতায় পবা উপজেলার দামকুড়া ইউনিয়নের ধুত্রাবন গ্রামে শিশু অধিকার ও শিশু সুরক্ষা বিষয়ে কমিউনিটি ভিত্তিক সচেতনতা মূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় সভাপতিত্ব করেন লফস এর নির্বাহী পরিচালক, সাবেক মহিলা কমিশনার ও বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরামের নির্বাহী কমিটির সদস্য শাহনাজ পারভীন। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সুপ্র রাজশাহী জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও লফস এর সহ সভাপতি আজিজুর রহমান। উপস্থিত ছিলেন সংস্থার প্রোগ্রাম ম্যানেজার সালাউদ্দিন ও সমাজসেবী মোসা: জোসনা বেগম।
সভায় শিশু শ্রম বিষয়ে আলোচনা হয়। সংস্থার নির্বাহী পরিচালক শাহানাজ পারভীন বলেন যে বয়সে একটি শিশুর বই, খাতা, পেন্সিল নিয়ে স্কুলে যাওয়া, আনন্দচিত্তে সহপাঠিদের সাথে খেলাধুলা করার কথা সেই বয়সে শিশুকে নেমে পড়তে হয় জীবিকার সন্ধানে। দারিদ্রের কষাঘাতে একজন পিতা যখন পরিবারের ভরণপোষণে ব্যর্থ হয় তখন ঐ পিতার পক্ষে তার সন্তানদের পারিবারিক বন্ধনে আবদ্ধ রাখা সম্ভব হয় না। এভাবে একটি শিশু একবার পারিবারিক বন্ধন ছিন্ন হবার পর সে হারিয়ে যায় অগনিত মানুষের মাঝে। এদের কেউ হোটেল- রেষ্টুরেন্টে, কেউ ফ্যাক্টরী-ওয়ার্কশপে, কেউবা বাসা-বাড়িতে কাজ নেয়। অনেক ক্ষেত্রে শিশুরা না বুঝে অথবা বাধ্যহয়ে ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত হয়ে পড়ে। আবার কখনও কাজ না পেয়ে কেউ আবার ’টোকাই’এ পরিনত হয়।
পিতা-মাতা স্বল্প শিক্ষা ও অসচেতনতার কারনে তারা শিক্ষাকে একটি অলাভজনক কান্ড মনে করে। সন্তানদের ১০/১৫ বৎসর ধরে লেখা পড়ার খরচ চালিয়ে যাওয়ার ধৈর্য্য হারিয়ে ফেলে। শিক্ষা উপকরণ ও সুযোগের অভাব এবং শিশু শ্রমের কুফল সম্পর্কে অবিভাবকদের অসচেতনতা/উদাসীনতা শিশুশ্রমকে তীব্রতর করছে। বাংলাদেশের শিশু শ্রমের আর একটি অভিশপ্ত দিক হলো, শহর জীবনের গৃহস্তালির বাসায় কাজের লোকের উপর অতি মাত্রায় নির্ভরশীলতা। গতানুগতিক সংস্কৃতিক কারনে গ্রামে লেখা পড়ায় মগ্ন শিশুটিকেও নিয়ে আসা হয় শহরে বাসায় কাজের জন্যে। আবার এক শ্রেনীর প্রতারক কর্মের প্রলোভন দেখিয়ে শিশুকে ঘর থেকে বের করে গ্রাম থেকে শহরে এবং অবশেষে শহর থেকে বিদেশে পাঁচার করে। এভাবে পাঁচার হওয়া মেয়ে শিশুদের পতিতাবৃত্তি ও পর্ণোগ্রাফী এবং ছেলে শিশুদের বিভিন্ন অসামাজিক/অমর্যাদাকর ও ঝুঁকিপূর্ণ কাজের ব্যবহার করা হয়ে থাকে। সভায় সম্মানিত অতিথি বলেন শিশুশ্রম বিষয়ে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার নজরদারী বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা, শিশুদের শ্রমে নিয়োজিত হতে না হয় এমন পরিবেশ তৈরী করা, কর্মরত শিশুদের জীবনকে পরবর্তী সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে রক্ষার সুব্যবস্থা করা, গ্রাম থেকে শিশুদের শহরে অভিবাসন রোধ করা, শিশুদের কর্ম পরিবেশের উন্নয়ন ঘটিয়ে শিশুদের জীবনের ঝুঁকি কমানো, শ্রমে নিয়োজিত শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ শ্রম থেকে নিরাপদে রাখা, কর্মঘন্টা, মজুরীসহ সকল নায্য অধিকার নিশ্চিত করা, শিশু পাচার রোধ করার মাধ্যমে আমাদের মতো দেশে শিশু শ্রম একবারে বন্ধ না করা গেলেও ঝুকিঁপূর্ন শ্রম থেকে আমাদের ভবিষ্যত প্রজন্ম শিশুদের রক্ষা করা সম্ভব। আসুন আমরা শিশুদের প্রতি মানবিক হই। শিশুদেও প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টি ভঙ্গি গড়ে তুলি। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন অন্যার মধ্যে সংস্থার প্রোগ্রাম অফিসার চম্পা খাতুন ও প্রোগ্রাম এ্যাসিসটেন্ট সুলতানা রিজিয়া। সভায় উক্ত মহল্লার প্রায় ৫০ জন নারী ও শিশু সভায় অংশ গ্রহন করেন। এছাড়া বিশ^ শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে শিশুদের নিয়ে পোষ্টার ক্যাম্পেইন অনুষ্টিত হয়। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close