বাগমারাশিরোনাম

বাগমারায় এসিল্যান্ডের অভিযানে কয়েক কোটি টাকার সরকারী সম্পদ উদ্ধার

আব্দুল মতিন, বাগমারা প্রতিনিধি : রাজশাহীর বাগমারা উপজেলায় বিভিন্ন হাটবাজার ও জলমহালের সরকারী সম্পত্তি উদ্ধারে মাঠে নেমেছেন  সহকারী কমিশনার (ভুমি, এসিল্যান্ড) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াত। গত প্রায় দেড় মাসে উপজেলার কয়েকটি হাটবাজার ও জলমহালে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সরকারী কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি উদ্ধার করেছেন বলে জানা গেছে। এছাড়াও আবাদী কৃষি জমিতে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত রাখায় আবাদী কৃষি জমির ধরন অপরিবর্তিত রয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল হায়াতের অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছেন বাগমারার সচেতন মহল। এলাকার সাধারন লোকজন তার অভিযান অব্যাহত রাখার জোর দাবী জানিয়েছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত প্রায় দেড় মাস পূর্বে বাগমারায় সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াত যোগদান করেন।  যোগদানের পর থেকে তিনি কৃষি জমির রকম পরিবর্তন করে অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া শুরু করেন। তার অভিযানে বাগমারায় শত শত একর আবাদী জমি পুকুর খননকারীদের হাত থেকে রক্ষা পায়। তিনি নিজ কার্যালয়ে দায়িত্ব পালন করেও উপজেলার বিভিন্ন
এলাকায় অবৈধ ভাবে কৃষি জমিতে পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে আইনশৃংখলা বাহিনীূর সদস্যদের নিয়ে অভিযান অব্যাহত রেখেছেন। অবৈধ পুকুর খননকারীরা রাতের বেলায় গোপনে পুকুর খননের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিল। বিষয়টি তার নজরে আসলে তিনি আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে তাৎক্ষনিক ভাবে অভিযান চালিয়ে অনেক স্থানে পুকুর খননের কাজ ভেস্তে দেয়। তার এমন অভিযানে অবৈধ পুকুর খননকারীরা টিকতে না পেরে পুকুর খননের কাজ বন্ধ করে দেয়। ওই সকল সুবিধাভোগীরা নিজেদের স্বার্থ সিদ্ধীর জন্য সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল হায়াতের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে কিছু মহলে ধরনা দেয়া শুরু করেছে বলেও জানা গেছে। পুকুর খনন বন্ধের পাশাপাশি তিনি হাটবাজারে সরকারী জমি উদ্ধারে তৎপরতা শুরু করেন। সরকারী জমি উদ্ধারে উপজেলার কয়েকটি হাটবাজারে অভিযান চালিয়ে কোটি টাকার সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার করেন।

জানা যায়, তার এমন তৎপরতায় গত এক মাসে উপজেলায় ভুমি অফিসে রাজস্ব আদায়ের হার বৃদ্ধি পেয়েছে। এরই মাঝে তিনি হাটগাঙ্গোপাড়া হাট, একডালা হাট, মাদারীগঞ্জ হাট, মোহনগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন হাট বাজারে অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার করেন। এছাড়াও কাচারীকোয়ালীপাড়া, বড়বিহানালীসহ কয়েকটি ইউনিয়নের কয়েক কোটি টাকার সরকারী দীঘি ও পুকুর অবৈধ দখলদারদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। তার এমন কার্যক্রমে বিরাগভাজন হয়ে স্বার্থান্বেষী একটি মহল তাকে বদলীর জন্য জোর প্রচেষ্টা করছেন বলেও গুঞ্জন উঠেছে। এদিকে এসিল্যান্ডের উদ্ধার অভিযান অভ্যাহত থাকায় উপজেলার সাধারন মানুষ ও সচেতন মহল সন্তোষ প্রকাশ করছেন।

এ ব্যাপারে উপজেলা সরকারী কমিশনার (ভুমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবুল হায়াত এর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, সরকারী কাজে দায়িত্ব পালন করতে আমাকে বাগমারায় পাঠানো হয়েছে। আমি শুধু সরকারের দেয়া দায়িত্ব পালন করছি। এর বেশী তিনি আর কিছুই বলতে চাননি।
এবিষয়ে বাগমারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জাকিউল ইসলাম বলেন, সহকারী কমিশনার (ভুমি) আবুল হায়াত বাগমারায় যোগদানের পর থেকে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার ও অবৈধ পুকুর খননকারীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানোর কারনে সরকারী সম্পত্তি উদ্ধার ও সরকারের রাজস্ব ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে। তিনি সরকারী দায়িত্ব সুষ্ঠ ও সুন্দর ভাবে পালন করছেন বলে তিনি জানিয়েছেন।

বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close