নাগরিক মতামত

মাদকের দাবানলে পুড়ছে যুব সমাজ

বরেন্দ্র বার্তাঃ বাংলাদেশ কোনো মাদক উৎপাদনশীল দেশ না হয়েও শুধুমাত্র ভৌগোলিক অবস্থানগত কারণে আশির দশক থেকে বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে চোরাচালান হয়ে আসতে থাকে মাদক। ধীরে ধীরে তা বিরাট একটি জনগোষ্ঠীকে গ্রাস করে। যার প্রভাব পড়ে যুব সমাজের ওপর। আর এই মাদকে আকৃষ্ট হয়ে পড়ে দেশের তরুণ সমাজ। সাম্প্রতিককালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে জিরো টলারেন্স ঘোষণা করা হলেও এর তোয়াক্কা করছে না শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা। বিভিন্ন দেশ থেকে অবৈধভাবে চোরাচালান হয়ে আসছে মরণ নেশা মাদক। আর তা ছড়িয়ে পড়ছে দেশের রাজধানী সহ দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও পাড়া-মহল্লায় মরণ নেশা মাদক। এর  নিয়ন্ত্রক হিসেবে কাজ করছে রাজনৈতিক মহলকে পুজি করে মাদক ব্যবসা চালাচ্ছে দেশের  শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা।

এতে জড়িয়ে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কিছু সংখ্যক অসাধু কর্মকর্তা। দেশের মাদক ব্যবসায়ীরা আর আগের মতো নিজে নিজে মাদক বিক্রয় করে না। এর জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে দেশের স্বল্প শিক্ষিত ও উচ্চ শিক্ষিত তরুণদের। তরুণরা জড়িয়ে পড়ছে মাদকের নেশায় এবং অল্প পুজিতে বেশি লাভের আশায় শুরু করেছে মরণ নেশা মাদক ব্যবসা। এই তরুণদের পুজি করে মাদকের শীর্ষ ব্যবসায়ীরা বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ছড়িয়ে দিচ্ছে মাদকের দাবানল। এতে বাদ পড়েনি দেশের শিক্ষিত সমাজও। ছাত্র-ছাত্রীর পাশাপাশি এই মরণ নেশা মাদক সেবন ও ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরাও। সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে রাষ্ট্র।

একাধারে যেমন ঝরে পড়ছে দেশের তরুণরা তেমনি নষ্ট হচ্ছে অর্থ। মাদক ব্যবসায়ীরা এতটাই ক্ষমতাশালী যে তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না। আর যদি কেউ তাদের বিরুদ্ধে কথা বলে তাহলে ঐ ব্যক্তিকে প্রাণ নাশের হুমকিসহ বিভিন্নভাবে বাধাগ্রস্থ করে। যে কারণে কেউ মাদক ব্যবসায়ীদের বিষয়ে মুখ খুলেন না। সাম্প্রতিককালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে দেশের ৩য় ও ২য় শ্রেণীর কিছু সংখ্যক মাদক ব্যবসায়ীকে নিয়ন্ত্রণ করা গেলেও ধরা ছোয়ার বাইরে থেকে যায় দেশের ১ম শ্রেণীর মাদক ব্যবসায়ীরা। দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো নতুন নতুন মাদকাসক্ত ও মাদক ব্যবসায়ী তৈরী করছে  আর এই মাদকের দাবানলে পুড়ছে দেশের যুব সমাজ।

লেখকঃ মোঃ আমজাদ হোসেন, সভাপতি, বন্ধন সামাজিক সংগঠন, কেন্দ্রীয় কমিটি, কার্যনির্বাহী পরিষদ।

Close