অর্থ ও বাণিজ্যশিরোনাম

আসছে চমকের বাজেট, থাকছে নতুনত্ব

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: নির্বাচনী ইশতেহারকে প্রাধান্য দিয়ে এবং আগামী পাঁচ বছরের পরিকল্পনা নিয়ে জাতীয় সংসদে প্রস্তাবিত বাজেট উত্থাপন হচ্ছে আজ বৃহস্পতিবার। আওয়ামী লীগ সরকারের তৃতীয় মেয়াদের প্রথম এবং দেশের ৪৮তম বাজেট এটি। অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামাল প্রথমবারের মতো জাতীয় সংসদে পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেট উপস্থাপন করতে যাচ্ছেন। এ জন্য এরই মধ্যে সব ধরনের প্রস্তুতি শেষ করেছে সংসদ সচিবালয়।
সূত্র মতে, স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে আজ বিকেল ৩টায় সংসদের মুলতবি অধিবেশন শুরু হবে। এরপর ২০১৯-২০ অর্থবছরের জন্য ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’ শিরোনামের বাজেট প্রস্তাবনা উত্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী। প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন আঙ্গিকে তৈরি করা হয়েছে বেশ কিছু চমকের এই ‘স্মার্ট’ বাজেট। গতানুগতিক ধারায় বাজেট বক্তৃতার আকার ১৫০-২০০ পৃষ্ঠা হলেও আসছে বাজেট বক্তব্যের পৃষ্ঠা সংখ্যা হবে ৫০-এর মতো।
জানা গেছে, প্রস্তাবিত বাজেটে বেশ কিছু চমক থাকছে। নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন, পুঁজিবাজারে প্রণোদনাসহ কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে থাকছে নানা উদ্যোগ। কয়েক বছর ধরেই দেশের বেসরকারি খাতে বিনিয়োগে অগ্রগতি নেই। জিডিপির অনুপাতে বেসরকারি বিনিয়োগের হার ২৩.৪ শতাংশ। এতে গতি আনতে শিল্পে বিনিয়োগের মাধ্যমে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। তা ছাড়া নির্দিষ্ট কিছু খাতে বিনিয়োগ করলে দেওয়া হবে রেয়াত সুবিধা।
বাজেটে প্রথমবারের মতো পাইলট প্রকল্প হিসেবে শস্য বীমা চালুর ঘোষণা থাকছে। তবে সব কিছু ছাপিয়ে বিশাল ব্যয়ের বিপরীতে রাজস্ব আয়ে গতি আনার পন্থার দিকেই সবার নজর থাকবে। এ ক্ষেত্রে অর্থমন্ত্রী প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে পরোক্ষ করের ওপর নির্ভর করছেন।
সূত্র মতে, আসন্ন বাজেটে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। মেগা প্রকল্পগুলো দ্রুত শেষ করতে বরাদ্দ বেশি রাখা হচ্ছে। নতুন বাজেটে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে।
মোট পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার বাজেটের মধ্যে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা, যা এরই মধ্যে অনুমোদিত হয়েছে। আসন্ন বাজেটে ঘাটতি দাঁড়াতে পারে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা, যা জিডিপির ৫ শতাংশ। জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হচ্ছে ৮.২০ শতাংশ। মূল্যস্ফীতির চাপ ৫.৫ শতাংশে আটকে রাখার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
পাঁচ কর হারের ভ্যাট আইন : ভ্যাট আইন-২০১২ আগামী ১ জুলাই থেকে বাস্তবায়ন করা হবে। এতে ভ্যাট হার হবে পাঁচটি—২, ৫, ৭.৫, ১০ ও ১৫। নতুন ভ্যাট আইনে আমদানি ও রপ্তানি পর্যায়ে শুল্ক কাঠামোতে পরিবর্তন আনা হবে। তবে সরাসরি ভোক্তাকে আঘাত হানে এমন খাতে কর বাড়ানো হবে না। কর দিতে গিয়ে কোনো ব্যক্তি বা ব্যাবসায়িক প্রতিষ্ঠান যেন হয়রানির শিকার না হয় সেদিকেও বিশেষ নজর থাকবে। করের আওতা বাড়াতে প্রতি উপজেলায় কর অফিস স্থাপনের ঘোষণা আসবে বাজেট বক্তৃতায়। পাশাপাশি থাকবে ১০ হাজার জনবল নিয়োগের বিষয়টিও।
কর অবকাশ : বাজেটে কর অবকাশের মেয়াদ পাঁচ বছর বাড়িয়ে আগামী ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত করার প্রস্তাব করা হচ্ছে। পাশাপাশি আসবাব, কৃষি যন্ত্রপাতি উৎপাদক শিল্প, চামড়া, গৃহস্থালি কাজে ব্যবহৃত সব উপকরণ-সংশ্লিষ্ট শিল্প কর অবকাশ সুবিধার আওতায় আসতে পারে। বর্তমানে তথ্য-প্রযুক্তি, অবকাঠামো, পর্যটন, বিদ্য্যুৎসহ বিভিন্ন খাতে চলতি বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত কর অবকাশের মেয়াদ নির্ধারিত আছে।
ফ্ল্যাট কেনায় কর : আবাসন খাত চাঙ্গা করতে বাজেটে ফ্ল্যাট কেনার ক্ষেত্রে করের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। জমি ও ফ্ল্যাটের নিবন্ধন ফি কমিয়ে অর্ধেক করা হচ্ছে। বর্তমানে গেইন ট্যাক্স স্ট্যাম্প ফি, স্থানীয় ও মূল্য সংযোজন করসহ গড়ে ফ্ল্যাটের মোট নিবন্ধন ফি ১৪ থেকে ১৬ শতাংশ। আর জমির ক্ষেত্রে ১৭ শতাংশ কর রয়েছে। এই খাতে কর কিছুটা কমিয়ে আনার প্রস্তাব থাকছে।
পুঁজিবাজারে করমুক্ত সীমা : বর্তমানে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কম্পানি বছরে যে পরিমাণ লভ্যাংশ ঘোষণা করে, তার সর্বোচ্চ ২৫ হাজার টাকা পর্যন্ত অর্জিত আয় করমুক্ত। আসছে বাজেটে করমুক্ত সীমা ৫০ হাজার টাকা করা হচ্ছে।
আমার গ্রাম আমার শহর : বাজেটে সবচেয়ে বেশি মনোযোগ থাকছে আওয়ামী লীগ তথা মহাজোটের নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ বাস্তবায়নে। সে অনুযায়ী প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তরের ঘোষণা থাকছে। এতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এ জন্য বিশেষ বরাদ্দ থাকছে।
সামাজিক নিরাপত্তা : সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় নতুন করে ১৩ লাখ মানুষকে যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে মোট সুবিধাভোগীর সংখ্যা দাঁড়াবে প্রায় ৮৯ লাখ। এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে বাজেটে বরাদ্দ রাখা হচ্ছে পাঁচ হাজার ৩২১ কোটি টাকা।
এমপিওভুক্তি : বাজেটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণা থাকছে। এ জন্য অতিরিক্ত এক হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close