নাগরিক মতামতশিরোনাম-২

প্রসঙ্গ আব্দুল্লাহ আবু সায়ীদ

সুমনা সরকার ঝুমুর

স্যারকে নিয়ে সমালোচনাগুলো প্রথমে চোখে পড়ে, এরপর ভিডিওটি। ভিডিওতে স্যারের কোন কথা শ্রমিকদের আহত করার মতো মনে হয়নি। স্যারকে যারা চেনেন তারা জানেন, যেকোন বেদনার্ত গল্পও স্যার মুখটি সামান্য করুণ না করেই হাসি হাসি রসিয়ে বলে চলেন। এতে করে অনেকে আসল রসটি সবসময় বুঝতে পারে না। আমার বিরক্ত লেগেছে ওখানে উপস্থিত দর্শকের ওপর,(এই বিরক্তি নতুন না) অহেতুক হেসে গড়িয়ে পরা দেখে। এই হাসির ভিতরে খুঁজে পেয়েছি শ্রমিকদের প্রতি অবজ্ঞা, স্যারের প্রতি চামচামির এবং রস গ্রহনের অপারগতাকে। স্যার এবং বিসাক সমালোচনার ঊর্ধ্বে নয়। বিসাক বিরাজনৈতিকতার যেমন পাঠ দেয়, তেমনিভাবে পাঠ দেয় অসাম্প্রদায়িকতার।এই অসাম্প্রদায়িকতার পাঠটুকুই ইদানিং তথাকথিত বুদ্ধিজীবিদের সমস্যা। কারণ তাঁরা মুখে বামের কথা বললেও এদের অন্তরে সাম্প্রদায়িকতার বিষে ভরা। এইসকল “বুদ্ধিজীবি” খুব ভালো করেই জানে, এক একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলন এক একটি রাজনীতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করে। স্যারের সাংস্কৃতিক আন্দোলন তাদের রাজনৈতিক মতাদর্শের জন্য হুমকি, তাই তাঁকে এক হাত নেয়া। আর এছাড়া, সফল প্রতিষ্ঠান করতে না পারার জন্য ঈর্ষাতো আছেই! বয়স যখন কম ছিলো তখন, যেকোন ব্যক্তির মুখের কথার খুব মূল্য দিতাম। বয়স বাড়ার সাথে সাথে কথার চেয়ে কর্ম মূল্য বেশি দিতে শিখি। কর্মের মূল্য দিতে গিয়ে দেখি, বাংলাদেশে প্রকৃত শ্রদ্ধা পাবার মানুষ নিতান্তই হাতেগোনা।
লেখক: সাবেক সভাপতি, ছাত্র ইউনিয়ন, রাবি সংসদ

Close