জাতীয়শিরোনাম

বাম গণতান্ত্রিক জোটের বাজেট প্রত্যাখ্যান ,জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ আজ

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: ২০১৯-২০ সালের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোটে। অন্যদিকে জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ আজ শুক্রবার।
বাম গণতান্ত্রিক জোটের বাজেট প্রত্যাখ্যান:
বর্তমান ভোট ডাকাতির সংসদের বাজেট দেয়ার নৈতিক অধিকার নেই বলে দাবি করেছে বাম গণতান্ত্রিক জোট। বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এমন দাবি করেন জোট নেতারা।
বাম গণতান্ত্রিক জোট কেন্দ্রীয় পরিচালনা পরিষদের সমন্বয়ক বাসদ নেতা বজলুর রশীদ ফিরোজ ও পরিচালনা পরিষদের সদস্য মুজাহিদুল ইসলাম সেলিম, খালেকুজ্জামান, শাহ আলম, সাইফুল হক, মুবিনুল হায়দার চৌধুরী, জোনায়েদ সাকি, মোশাররফ হোসেন নান্নু, মোশরেফা মিশু, হামিদুল হক, শুভ্রাংশু চক্রবর্ত্তী, অধ্যাপক আব্দুস সাত্তার, আকবর খান, ফিরোজ আহমেদ সংবাদপত্রে দেয়া এক যুক্ত বিবৃতিতে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট প্রত্যাখ্যান করেন।
প্রতিক্রিয়ায় নেতারা বলেন, জনগণের ভোট ছাড়া গায়ের জোরে ক্ষমতাসীন এ সরকারের এবারের বাজেট পূর্বের মতোই গতানুগতিক, ঋণনির্ভর ও ঘাটতি বাজেট।
বিবৃতিতে বলা হয়, এবারের বাজেটেও কালো টাকা সাদা করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। রাজস্ব আয়ের যে প্রস্তাব করা হয়েছে তা আদায় করা হবে কীভাবে তার নির্দেশনা নেই। গতবারের অভিজ্ঞতা বলে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা আদায় যোগ্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাজেটে ৪ স্তরের যে নতুন ভ্যাট আইন প্রণয়ন করার প্রস্তাব করা হয়েছে তাতে গ্রাহক ভোক্তা হয়রানি বাড়বে। সেইসঙ্গে কর আদায়ে জটিলতা বাড়বে।
বিবৃতিতে বলা হয়, প্রতিবারের মতো এবারও পোশাক শিল্পে পূর্বের ৩৬০০ কোটি টাকার সঙ্গে নতুন করে ২৮২৫ কোটি টাকার প্রণোদনা দেয়ার প্রস্তাব করা হলেও গার্মেন্টস শ্রমিক ও গ্রামীণ শ্রমজীবীদের রেশনে কোনো থোক বরাদ্দ রাখা হয়নি।
বিবৃতিতে বলা হয়, শিক্ষা খাতে ১৬.৫% বরাদ্দ দেখানো হলেও বাস্তবে এটা সাধারণ শিক্ষা, কারিগরি শিক্ষা, মাদরাসা শিক্ষা, ক্যাডেট কলেজ, সামরিক শিক্ষা এবং ২৮ মন্ত্রণালয়ের ট্রেনিংকে যুক্ত করে দেখানো হয়েছে। এতে বরাদ্দ কিছুটা বাড়ানো হয়েছে বলে যে দাবি করা হচ্ছে তা শুভঙ্করের ফাঁকি। কৃষি খাতের যে বরাদ্দ তাও কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ, ভূমি, বন ও পরিবশে, পানিসম্পদ এ ৫ মন্ত্রণালয়ের যৌথ বরাদ্দ।
বিবৃতিতে বাম নেতারা বলেন, ঋণনির্ভর এ বাজেটে ঋণের সুদ পরিশোধ করতেই বাজেটের এক বড় অংশ চলে যাবে। ধনীকে আরও ধনী করার এবং গরিবকে আরও গরিব করার এ গণবিরোধী বাজেট প্রত্যাখ্যান করে জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবি জানান।
জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবিতে বাসদের বিক্ষোভ আজ:
গতানুগতিক, ঋণ নির্ভর, প্রদর্শনবাদী কালো অর্থনীতির বাজেট বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ।
বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় দলটির সাধারণ সম্পাদক ও বাম গণতান্ত্রিক জোটের অন্যতম শীর্ষ নেতা খালেকুজ্জামান বিবৃতিতে এমন অভিযোগ করেন।
একই সঙ্গে বাজেটের প্রতিক্রিয়া ও জনকল্যাণে বাজেট প্রণয়নের দাবিতে বাসদের উদ্যোগে ১৪ জুন বিকেল ৪টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা দেয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে খালেকুজ্জামান বলেন, সরকার দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবং শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের ছাড় দেয়া ও নানা সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতিকে বাড়িয়ে চলছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে যে যত বেশি আয় ও মুনাফা করে তার ততো বেশি কর দিতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো নীতি, যার আয় ও মুনাফা বেশি সে তত কর ছাড় পায়।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা এ বাজেটে নেই। দেশের ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা ও পুঁজিবাজার রক্ষা করার কথাও নেই। ব্যাংক ঋণ বা বিভিন্ন প্রণোদনা নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে না। গত ৬ বছরে শিল্প কারখানা গড়েনি বরং বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা কমেছে।
তিনি বলেন, গত ১০ বছরে বাজেট বাস্তবায়ন ৮৯.৯% থেকে কমে ৭৬.১% গিয়ে দাঁড়িয়েছে। খালেকুজ্জামান বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে আমলাতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাতে, আমলাদের বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র খাতে মোট বাজেটের প্রায় ৪১% টাকা বরাদ্দ করেছে বিপরীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় সরকারসহ উৎপাদনশীল ও জনকল্যাণ খাতে বরাদ্দ বাড়েনি।
২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র খাতে বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ করলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পুরো অর্থ খরচ করতে পারেনি।
খালেকুজ্জামান আরও বলেন, উন্নয়ন বাজেটে যে টাকা ধরা হয়েছে তার বেশির ভাগ টাকা তো দেশি-বিদেশি ঋণ নির্ভর। এই ঋণ নির্ভর ও ঘাটতি বাজেট দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগুনো যাবে না বলে তিনি জানান।
ধনী-গরিব বৈষম্য বৃদ্ধি, আমলাতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক ও অনুৎপাদনশীলতামুখী বাজেটকে প্রত্যাখান করে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় শোষণমুক্ত সাম্য সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close