জয়পুরহাটনাগরিক মতামতশিক্ষাঙ্গন বার্তাশিরোনাম-২

শিক্ষাখাতে যে বাজেট দিয়েছে তা একেবারে অপ্রতুল

রাশেদুজ্জামান রাশেদ

শিক্ষাখাতে যে বাজেট দিয়েছে তা একেবারে অপ্রতুল। এমন কি এশিয়ার দেশগুলোর চেয়ে নিম্ন। যেখানে ছাত্রসমাজের দাবি ছিলো ২৫ ভাগ শিক্ষাখাতে বরাদ্দ রাখতে হবে।
৩০ ডিসেম্বর ভোট ডাকাতির মাধ্যমে এই ফ্যাস্টিট সরকার জনগণকে ধোকা দিয়ে গণতন্ত্রকে গোলা টিপে হত্যা করেছে ঠিক তেমনি ঢাবিতে ভোট ডাকাতি করে ছাত্রসমাজের শিক্ষাব্যবস্থাকে কলঙ্কিত করছে।
বাজেট গতানুগতিক, ঋণ নির্ভর, প্রদর্শনবাদী ও বাস্তবায়ন অক্ষম ঘাটতি বাজেট। বাজেট বৈষম্যকে বাড়াবে, ২০১৯-২০ অর্থ বছরের বাজেটকে প্রর্দনবাদী, বাস্তবায়নে অক্ষম বড় ধরনের ঘাটতি বাজেট হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এই বাজেট ধনী-গরিব বৈষম্যকে আরোও প্রকট করবে।
সরকার লুটপাটকারী, খেলাপী ও দুর্নীতিগ্রস্থ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে এবং শিল্প মালিক, ব্যবসায়ী ও ব্যাংকিং সেক্টরে বড় ধরনের ছাড় দেওয়া ও নানা সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে বাজেট ঘাটতিকে বাড়িয়ে চলছে। পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশে যে যত বেশি আয় ও মুনাফা করে তার তত বেশি কর দিতে হয় কিন্তু আমাদের দেশে উল্টো নীতি, যার আয় ও মুনাফা বেশি সে তত কর ছাড় পায়। গত ১০ বছরে প্রায় ৬ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার হয়েছে তার প্রতিকারের ব্যবস্থা এ বাজেটে নেই। দেশের ব্যাংকিং খাতের অব্যবস্থাপনা দূর করা ও পুঁজি বাজারকে রক্ষা করার কথাও নেই। ব্যাংক ঋণ বা বিভিন্ন প্রণোদনা নিয়ে শিল্পে বিনিয়োগ হচ্ছে না। গত ৬ বছরে শিল্প করাখানা গড়েনি বরং বৃহৎ, মাঝারি ও ক্ষুদ্র শিল্প কারখানা কমেছে। ১০ বছরে বাজেট বাস্তবায়ন ৮৯.৯% থেকে কমে ৭৬.১% গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
বাজেট প্রণয়ন ও বাস্তবায়নকে আমলাতান্ত্রিক ও অগণতান্ত্রিক বলে অভিহিত করেছেন। প্রতিবারের ন্যায় এবারও বাজেটে অনুৎপাদনশীল খাতে, আমলাদের বেতন-ভাতা, সুদ পরিশোধ, প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র খাতে মোট বাজেটের প্রায় ৪১% টাকা বরাদ্দ করেছে বিপরীতে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, সামাজিক নিরাপত্তা ও স্থানীয় সরকার সহ উৎপাদনশীল ও জনকল্যান খাতে বরাদ্দ বাড়েনি। ২০১৮-১৯ অর্থ বছরের বাজেটে প্রতিরক্ষা ও স্বরাষ্ট্র খাতে বরাদ্দের তুলনায় বেশি খরচ করলেও প্রাথমিক ও গণশিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বরাদ্দের পুরো অর্থ খরচ করতে পারেনি
উন্নয়ন বাজেটে যে টাকা ধরা হয়েছে তার বেশির ভাগ টাকা তো দেশি-বিদেশী ঋণ নির্ভর। এই ঋণ নির্ভর ও ঘাটতি বাজেট দিয়ে দেশকে সামনের দিকে এগুনো যাবে না।
ধনী-গরীব বৈষম্য বৃদ্ধি, আমলাতান্ত্রিক, অগণতান্ত্রিক ও অনুৎপাদনশীলতামুখী বাজেটকে প্রত্যাখান করে মহান মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত চেতনায় শোষণমুক্ত সাম্য সমাজ গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনগণের কল্যাণে বাজেট প্রণয়নের সংগ্রামে এগিয়ে আসার আহ্বান।
লেখক: জয়পুরহাট সরকারি কলেজ শাখা ছাত্র ফ্রন্টের সাবেক সভাপতি এবং জেলা ছাত্র ফ্রন্টের সদস্য সচিব।

Close