অর্থ ও বাণিজ্যপুঠিয়াশিরোনাম

বিদায় নিয়েছে গোপালভোগ, ল্যাংড়া ও লক্ষণভোগের বাজার দখল

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী জেলার সবচেয়ে বড় আমের হাট পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বরে গোপালভোগ আম দেখা যায়নি। এ হাটে সবচেয়ে বেশি আছে লক্ষণভোগ বা লখনা জাতের আম। সঙ্গে রয়েছে নানা জাতের গুটি আম। ভ্যানের ওপর ঝুড়ি সাজিয়ে ব্যবসায়ীরা এ আম বিক্রি করছেন। দাম গত বছরের চেয়ে কিছুটা বেশি। এতে খুশি চাষী ও ব্যবসায়ীরা।
হাটে পুঠিয়ার আম ব্যবসায়ীরা জানান,বাজারে এসে ক’দিনের মধ্যেই গোপাল (গোপালভোগ) বিদায় নিয়েছে। এখন বিক্রি হচ্ছে ল্যাংড়া। আর কয়েকদিনের মধ্যেই বাজারে আসতে শুরু করবে ফজলি।
রোববার বানেশ্বর বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, ব্যবসায়ীদের কাছে গোপালভোগ আম নেই। উন্নতজাতের আরেক আম হিমসাগর আছে নামমাত্র। বাজার দখল করে আছে ল্যাংড়া এবং লক্ষণভোগ। চাষীরা গাছ থেকে আম নামিয়ে ভ্যানভর্তি করে এ হাটে আনছেন। দামাদামির পর ঝুড়িসহ তা কিনে নিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। এদের কাছ থেকে আবার আম কিনছেন পাইকারি ব্যবসায়ী ও আড়তদাররা। সাধারণ ভোক্তাদের কাছেও আম বিক্রি করছেন ব্যবসায়ীরা। দাম গত বছরের চেয়ে বেশি।
এ দিন হাটে লক্ষণভোগ আম বিক্রি হতে দেখা যায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে। আর ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছিল ১ হাজার ৪০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকায়। অথচ গত বছর এসব আমের দাম ছিল মণ প্রতি ২০০ থেকে ৪০০ টাকা কম। ভালো জাতের এসব আমের দাম বেশি হলেও কম বিভিন্ন জাতের গুটি আমের দাম। এসব আম ৪৫০ থেকে ৮০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। প্রতি মণ আম বিক্রি হচ্ছে ৪৫ কেজিতে।
বানেশ্বর হাটে হিমসাগর আম খুব সামান্য পরিমাণেই আছে। তাই দাম বেশি। এ আম প্রতি মণ ২ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। বাজারে স্বল্প পরিমাণে থাকা হাড়িভাঙা আম বিক্রি হতে দেখা গেছে ২ হাজার টাকা মণ দরে। প্রতিটি জাতের আমেরই এবার দাম বেশি বলে জানিয়েছেন ক্রেতা ও বিক্রেতারা।
তারা বলছেন, দাম বেশি পাওয়ার আশায় এবার রোজার মধ্যে চাষীরা আম নামাননি। তাই বেশি দাম না দিলে তারা ব্যবসায়ীদের কাছে বিক্রিও করেননি। এজন্য বাজারে আমের দাম তুলনামূলক বেশি। আপাতত দাম কমারও কোনো লক্ষণ নেই।
হাটে আম কিনতে আসা একজন ক্রেতা জানান, প্রতি বছরই তিনি এ হাট থেকে আম কিনে নিয়ে যান। কিন্তু এবার দাম বেশি মনে হচ্ছে। আম বিক্রেতা সোহাগ হোসেন বলেন, এবার ঝড়ে এ অঞ্চলের অনেক আম পড়ে গেছে। তাই লোকসানের আশঙ্কায় বাগান মালিক বেশি দাম ছাড়া আম বিক্রি করছেন না। তাদের বেশি দরেই কিনতে হচ্ছে। তাই বিক্রিও করতে হচ্ছে বেশি দামে।
রাজশাহী ফল গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. আবদুল আলীম বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দেয়ার কারণে সব আম একসঙ্গে বাজারে উঠতে পারছে না। চাষীরা আস্তে আস্তে দফায় দফায় বিভিন্ন জাতের আম বাজারে তুলছেন। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, চলতি বছর রাজশাহীতে ১৭ হাজার ৪৬৫ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। ২ লাখ ১৩ হাজার ৪২৬ টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর এ আমকে ঘিরে রাজশাহীতে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা করছেন ব্যবসায়ীরা।
অপরিপক্ক আমের বাজারজাত ঠেকাতে কয়েক বছর ধরেই রাজশাহীতে আম পাড়ার সময় নির্ধারণ করে দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। বেঁধে দেয়া সময় অনুযায়ী, এ বছর ১৫ মে থেকে গুটি আম পাড়া শুরু হয়। এরপর ২০ মে থেকে গোপালভোগ, ২৫ মে থেকে লক্ষণভোগ ২৮ মে থেকে হিমসাগর বা খিরসাপাত, ৬ জুন থেকে ল্যাংড়া এবং ফজলি ও আম্রপালি ১৬ জুন থেকে নামানো শুরু হয়। এছাড়া আশ্বিনা জাতের আম ১ জুলাইয়ের আগে চাষীরা গাছ থেকে নামাতে পারবেন না। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close