উন্নয়ন বার্তাজাতীয়

বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস সম্মাননায় ভূষিত বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট

বরেন্দ্র বার্তা ডেস্ক: ‘তামাকে হয় ফুসফুস ক্ষয়; সুস্বাস্থ্য কাম্য, তামাক নয়’ প্রতিপাদ্য সামনে রেখে ২০ জুন পালিত হলো ‘বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস ২০১৯’। মহামান্য রাষ্ট্রপতি ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এ উপলক্ষ্যে পৃথক পৃথক বাণী দিয়েছেন।
দিবসটি উপলক্ষ্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ, জাতীয় তামাক নিয়ন্ত্রণ সেল’র উদ্যোগে ২০ জুন সকাল সাড়ে ৮ টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হতে একটি বর্ণাঢ়্য শোভাযাত্রা জাতীয় যাদুঘরে গিয়ে শেষ হয়। শোভাযাত্রা শেষে বেলা ১১টায় জাতীয় যাদুঘর মিলনায়তনে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এর সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় বক্তব্য রাখেন ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক বিগ্রেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক, জাতীয় যক্ষা নিরোধ সমিতির সভাপতি ও বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটের উপদেষ্টা মোজাফ্ফর হোসেন পল্টু, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি বারদান জাং রানা, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো: সাইদুর রহমান প্রমূখ। কর্মসূচিতে বিভিন্ন তামাক বিরোধী সংস্থার প্রতিনিধি ও সংবাদিকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এম এ মালিক বলেন, তামাক মানব জাতির জন্য একটি অভিশাপ এই তামাক ব্যবহারে অসংখ্য রোগ-ব্যাধি বিশেষ করে হৃদরোগ, ক্যান্সার, বক্ষব্যধিসহ ইত্যাদি রোগে আক্রান্ত হয় যার ফলে অধিকাংশ লোক মারা যায় সুতরাং আপনি অর্থনৈতিক উন্নয়ন করতে হলে বা ধরে রাখতে হলে তামাককে পরিহার করতে হবে।
যারা তামাক ব্যবসার সাথে জড়িত তারা বিভন্ন কৌশল অবলম্বন করে আপনি মানুষকে বুঝালে তারা অন্য পথ চলে।
তামাক উৎপাদন বন্ধ করার কথা উল্লেখ কওে তিনি বলেন, এই তামাক বিরোধী আন্দোলন একদিনে শেষ হবে না এর জন্য সরকারকে এগিয়েন আসতে হবে এবং জনগনকে এটাকে সামাজিক আন্দোলন হিসেবে নিতে হবে।
কৃষককে শুধু তামাক চাষ বন্ধ করতে বললেই হবে না তার তার জন্য বিকল্প ফসল উৎপাদনের ব্যবস্থা করে দিতে হবে তাহলে তামাক চাষ বন্ধ করা সম্ভব হবে।
আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর সদস্য মোজাফ্ফর আহমেদ পল্টু বলেন, আমি যখন বিগত ষাট বছর আগে তামাক, টোবাকো ও গুল ইত্যাদির বিরুদ্ধে আন্দোলন করতাম তখন মানুষ পেতাম না কিন্তু আজকে এটিই আশার বিষয় মানুষের মধ্যে সচেতনতা তৈরী হয়েছে বলেই আজকে আমাদের বিভিন্ন রেলী,মিছিল ও আলোচনা সভায় লোক সমাগম হয় এবং তাদের ব্যক্তিগত উদ্দ্যোগও আছে বাংলাদেশকে তামাক মুক্ত করার জন্য।
তিনি আরো বলেন, এখন তামাক ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন কর্মকান্ড দেখে মনে হয় তাদের হাত ইস্ট-ইন্ডিয়া কোম্পানির চেয়েও বড়।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহা পরিচালক অধ্যাপক আবুল কালাম আজাদ বলেন, তামাক থেকে আমরা যে পরিমান রাজস্ব পাই তার চেয়ে বেশি গুণ টাকা ব্যয় করতে হয় সরকারকে এই তামাক জাতীয় বিভিন্ন রোগ নিরাময়ে
তামাকের কারণে সারা বিশ্বে প্রতি চার সেকেন্ডে একজন মার যায় তাই আমি আশা করি আমরা সবাই যদি একসাথে কাজ করি তাহলে আমরা আমাদের এই আন্দোলন সফল করতে পারবো।
সভাপতির বক্তব্যে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যান মন্ত্রনালয়ের সচিব মো.আসাদুল ইসলাম বলেন,আজকে এটা একটা সুযোগ যে বিশ্ব তামাক মুক্ত দিবস পালন যেটার মাধ্যমে আমরা আরো বুঝব কীভাবে আমরা আমাদের কর্মসূচী আরো দৃঢ় করতে পারি, কীভাবে আমরা আমাদের অঙ্গীকারকে আরো মজবুত করতে পারি তামাক নিয়ন্ত্রনে, তামাক নির্মূলে একইভাবে আমাদের যে কার্যক্রম সে কার্যক্রম আরো কতো সফল ভাবে বাস্তবায়ন করতে পারি।
তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমে প্রসংশনীয় অবদানের স্বীকৃতি স্বরুপ স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় কর্তৃক বিগত দিনের ন্যয় এ বছরও “বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস সম্মাননা ২০১৯” প্রদান করা হয়। বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোটকে সংগঠন পর্যায়ে এ বছর “বিশ্ব তামাকমুক্ত দিবস সম্মাননা ২০১৯” প্রদান করা হয়।
এছাড়াও ব্যাক্তি ও তামাক নিয়ন্ত্রণ টাস্কফোর্স কমিটি ক্যাটাগরীতে পুরস্কার পেয়েছেন যথাক্রমে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসির উদ্দিন আহমেদ এবং নীলফামারী তামাক নিয়ন্ত্রণ জেলা টাস্কফোর্স কমিটি।
বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সারাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে কার্যরত ৭ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের প্ল্যাটফর্ম। ১৯৯৯ সাল থেকে দেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে বেগবান করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে জোট।
উল্লেখ্য, বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চুক্তি এফসিটিসি র‌্যাটিফিকেশন, স্বাক্ষর আইন প্রণয়ন, আইন বাস্তবায়ন এবং আইন সংশোধনসহ প্রতিটি প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছে।
বাংলাদেশে ২০০৭ সালে টাস্কফোর্স কমিটি গঠনের পর তামাক নিয়ন্ত্রণে বেসরকারী সংগঠনের সম্মিলিত মঞ্চ হিসাবে বাংলাদেশ তামাক বিরোধী জোট সরকারের সাথে সম্পৃক্ত থেকে আইন বাস্তবায়ন কার্যক্রম পরিচালনায় সহায়তা করেছে এবং অদ্যাবদি করছে।
উল্লেখ্য যে, প্রতিবছর ৩১ মে বিশ্বব্যাপী তামাকমুক্ত দিবস পালন করা হয়। বাংলাদেশে এবার অনিবার্য কারণে তা পিছিয়ে আজ ২০ জুন, ২০১৯ পালন করা হয়। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য নির্ধারণ করা হয়েছে, ‘তামাকে হয় ফুসফুস ক্ষয়; সুস্বাস্থ্য কাম্য, তামাক নয়’।
১৯৯৭ সাল থেকে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের সরকার, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও তামাক বিরোধী সংগঠনগুলো দিবসটি উদযাপন করে আসছে। বরেন্দ্র বার্তা/এই

Close