পুঠিয়ামহানগরশিরোনাম

রাজশাহীতে আমের মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য!

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর আম কেবল দেশেই নয়, বিদেশেও যেতে শুরু করেছে। চলতি মৌসুমে ইংল্যান্ড, নেদারল্যান্ডস, সুইডেন, পর্তুগাল, নরওয়ে, ফ্রান্স ও রাশিয়ায় আম রপ্তানি করা হচ্ছে। ইতিমধ্যে জেলার বাঘা উপজেলা থেকে প্রায় তিন টন হিমসাগর ও ল্যাংড়া জাতের আম রপ্তানি হয়েছে। রপ্তানির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে আরও বিভিন্ন জাতের ৩০ টন সুস্বাদু আম।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, উৎপাদন ভালো হওয়ায় এবার আমের মৌসুমে প্রায় ৫০০ কোটি টাকার বাণিজ্য হবে রাজশাহীতে।
রাজশাহীতে এখন চলছে আমের ভরা মৌসুম। হাট-বাজারগুলো আমে ঠাসা। চলছে বেচাকেনা। ইতিমধ্যে রাজশাহীর আম দেশের বাইরে রপ্তানি শুরু হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানের ব্যবসায়ীরাও আম কিনে নিয়ে যাচ্ছেন ট্রাক ভর্তি করে। এছাড়া আত্মীয়-স্বজনকেও আম পাঠাচ্ছেন অনেকে।
ফলে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে কুরিয়ার সার্ভিসগুলো। আর আমের বেচাবিক্রি জমে ওঠায় নগদ টাকা ঢুকছে চাষিদের পকেটে। এতে চাঙা হয়ে উঠেছে রাজশাহীর অর্থনীতি।
রাজশাহী শিল্প ও বণিক সমিতির সহ-সভাপতি মাসুদুর রহমান রিংকু বলেন, প্রতি বছর আম এলেই রাজশাহীর অর্থনীতি চাঙা হয়ে ওঠে। এবার আমের উৎপাদন গত বছরের চেয়েও ভালো। চাষিরা ভালো দামও পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রপ্তানিযোগ্য আম চাষ করছেন এখানকার ৫০ জন বাগান মালিক। উত্তম কৃষি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে নিরাপদ ও বিষমুক্ত আম উৎপাদন করছেন তারা। এর আগে বিভিন্ন ধরনের প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ নিয়েছেন এসব আম চাষি। আম উৎপাদনের পর এসব চাষিকে তালিকাভুক্ত করে দেয়া হয়েছে সনদ।
চাষিরা বলছেন, তাদের বাগানে উৎপাদিত আম শতভাগ নিরাপদ ও ক্ষতিকর রাসায়নিকমুক্ত। প্রতিটি আমের ওজন ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম। আকর্ষণীয় এসব আম বাছাই করে রপ্তানি করা হচ্ছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, কৃষি মন্ত্রণালয় ও রাষ্ট্রীয় মান নিয়ন্ত্রক সংস্থার ছাড়পত্র নিয়েই দেশের সীমানা পাড়ি দিচ্ছে রাজশাহীর আম।
রাজশাহীর আম বাজার এখন ল্যাংড়া ও লক্ষণভোগের দখলে। এছাড়া ১৬ জুন থেকে অল্প পরিমাণে বাজারে নামছে আম্রপালি ও ফজলি আম। মৌসুমের শেষ আম আশ্বিনা নামবে ১৭ জুলাই থেকে। পরিপক্ক আম বাজারজাত নিশ্চিতে আম বাজারজাতের এই সময়সীমা বেঁধে দেয় জেলা প্রশাসন। তবে সময় শুরু হলেও রোজার কারণে বেশিরভাগ চাষি আম নামাননি। আমের বাজার জমেছে ঈদের পর।
চাষিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কয়েক বছরের টানা লোকসান কেটেছে আম চাষিদের। তবে এবার আমের বাজার বেশ জমে ওঠেছে। রাজশাহীর আম বাজারগুলোতে প্রতিমণ হিমসাগর ও গোপালভোগ এক হাজার ৮০০ থেকে দুই হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এখন ল্যাংড়া এক হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা, লক্ষণভোগ সাড়ে ৮০০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে রাজশাহী থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে আত্মীয়-স্বজনের কাছে আম পাঠানো হচ্ছে। ফলে জমে উঠেছে কুরিয়ার সার্ভিসের ব্যবসা। কুরিয়ারে ঝুড়ি এবং কার্টুনে ভরে আম পাঠানো হচ্ছে। অতিরিক্ত আম নিয়ে যাওয়ার চাপ সামাল দিতে সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিস বৃদ্ধি করেছে গাড়ির সংখ্যাও।
সুন্দরবন কুরিয়ার সার্ভিসের রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার বানেশ্বর শাখার ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম তৌহিদ বলেন, তারা প্রতিদিন শুধু ঢাকার ভেতরেই ২৫টি পয়েন্টে আম পাঠাচ্ছেন। এছাড়া দেশের অন্যান্য জেলা-উপজেলাতে আম তো যাচ্ছেই। বানেশ্বরেই জেলার সবচেয়ে বড় আমের হাট। তাই এখান থেকে প্রচুর আম পাঠানো হয়। ঈদের পর থেকে তারা প্রতিদিন ৮০০ থেকে ৯০০ ঝুড়ি আম পাঠাচ্ছেন।
তৌহিদ জানান, এবার পাঠানোর জন্য তাদের গাড়ির সংখ্যা বাড়াতে হয়েছে। এখন প্রতিদিন বিকাল ৪টা, সন্ধ্যা ৭টা এবং রাত ৯টায় আম তুলে দেয়া হচ্ছে গাড়িতে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close