উন্নয়ন বার্তাজাতীয়শিরোনাম-২

তামাকমুক্ত বাংলাদেশ ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন : প্রস্তাবিত বাজেটে তামাক কর পর্যালোচনা

নিজস্ব প্রতিবেদক: জনস্বাস্থ্য ও অর্থনীতির উপর তামাকের নেতিবাচক প্রভাবের কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর ঘোষণা- ‘২০৪০ সাল নাগাদ তামাকমুক্ত বাংলাদেশ’ বাস্তবায়নে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর সুপারিশকৃত কর পর্যালোচনার লক্ষ্যে আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনের ‘পার্লামেন্ট মেম্বার্স ক্লাব’-এ একটি মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।
ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের সহযোগিতায় ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চ’ মাননীয় সংসদ সদস্যবৃন্দের সাথে ‘তামাকমুক্ত বাংলাদেশ ও এসডিজি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন : প্রস্তাবিত বাজেটে তামাক কর পর্যালোচনা’ শীর্ষক এই মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।
সভায় বক্তারা বলেন, প্রস্তাবিত ২০১৯-২০ সালের বাজেটে তামাকজাত পণ্যের উপর যেভাবে করারোপ করা হয়েছে তা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় অনুকূল নয়। মূলত নিম্নস্তরের সিগারেটের নামমাত্র মূল্যবৃদ্ধির ফলে তামাকের ব্যবহার কমিয়ে আনতে তা কোনো ভূমিকা রাখবে না। তাছাড়া প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন হলে তামাক খাত থেকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাবে, অন্যদিকে তামাক কোম্পানিগুলোর আয় বেড়ে যাবে বলে জানান তিনি।
সভার শুরুতে তামাকমুক্ত বাংলাদেশ মঞ্চের আহ্বায়ক এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী, এমপি স্বাগত বক্তব্য দেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে জনস্বাস্যেিরর পরিবর্তে তামাক কোম্পানির স্বার্থ প্রাধান্য পেয়েছে। তামাকপণ্যের কর না বাড়িয়ে শুধু দাম বাড়ানোর ফলে তামাক কোম্পানির মুনাফা বাড়বে। এর আগে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেক তামাকপণ্যে কর বাড়াতে অর্থমন্ত্রীকে চিঠি দিলেও তা পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি বলে দাবি করেন জনাব সাবের হোসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষণা অনুসারে ২০৪০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে তামাকমুক্ত করতে এবং এসডিজির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করতে হলে তামাক নিয়ন্ত্রণ জরুরি। এজন্য সংসদ সদস্যদের বলিষ্ঠ ভূমিকার রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মতবিনিময় সভায় ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন হাসপাতাল ও রিসার্চ ইনস্টিটিউটের রোগতত্ত্ব ও গবেষণা বিভাগের প্রধান অধ্যাপক সোহেল রেজা চৌধুরী মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। এসময় তিনি তামাকের স্বাস্থ্যগত ও অর্থনৈতিক ক্ষতির বিষয়গুলো তুলে ধরেন। তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে সম্পূরক শুল্কহার অপরিবর্তিত রেখে সিগারেটের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সরকারের রাজস্ব আয় কমবে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকা। কারণ, নিম্নস্তরের সিগারেটের দাম প্যাকেটে মাত্র ২ টাকা বাড়ানোর ফলে মধ্যমস্তরের অনেক ক্রেতা নিম্নস্তরে নেমে আসবে। ফলে তামাকপণ্যের ব্যবহার হ্রাস পাবে না। আর নিম্নস্তরে সম্পূরক শুল্ক কম থাকায় মোট হিসাবে রাজস্ব আয় কমবে। এছাড়া ভ্যাট আইনের ৪৬ ধারা সংশোধন করে তামাকপণ্যের উপকরণের কর রেয়াতের ফলে সরকার রাজস্ব হারাবে ৪০০ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তামাকপাতা ও তামাকপণ্য রপ্তানিতে শুল্ক ১০% ও ২৫% শুল্ক মওকুফের কারণে একদিকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় কমবে, অন্যদিকে তামাক চাষ বাড়বে। যা পরিবেশ ও কৃষির ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলবে।
সভায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মো. শামসুল হক টুকু এমপি, ভূমি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি মকবুল হোসেন, সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সরকারি হিসাব সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও পিরোজপুর-৩ আসনের এমপি রুস্তম আলী ফরাজী, বগুড়া-৭ আসনের এমপি মো. রেজাউল করিম বাবলু, মেহেরপুর-২ আসনের এমপি মোহাম্মদ শহীদুজ্জামান, চট্টগ্রাম-৬ আসনের এমপি ফজলে করিম চৌধুরী, জামালপুর-২ আসেনের এমপি মো. ফরিদুল হক খান এবং বগুড়া-১ আসনের এমপি আব্দুল মান্নান উপস্থিত ছিলেন। তারা তামাক নিয়ন্ত্রণে জাতীয় নীতি গ্রহণ ও তামাকপণ্যের কর বাড়াতে সংসদে ভূমিকা রাখার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জনাব জাহিদ মালেকের সুপারিশমালার আলোকে সিগারেটের মূল্যস্তর ৪টি থেকে ২টিতে নামিয়ে আনা, সম্পূরক শুল্ক নিম্নস্তরে ৬৫% ও অন্যান্য স্তরে ৭০% আরোপ করা, ১০ শলাকা সিগারেটে ৫ টাকা স্পেসিফিক ট্যাক্স আরোপ করে সরকারের অতিরিক্ত ৪ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আয়ের ব্যবস্থা করার বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সাথে আলোচনা করবেন বলেও জানান তারা। সেই সাথে প্রধানমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাবিত বাজেটে ভ্যাট আইনের ৪৬ ধারা পুনর্বহাল করে তামাক কোম্পানির উপকরণ কর রেয়াতের সুযোগ বাতিল করা এবং অপ্রকিয়াজাত ও প্রক্রিয়াজাত তামাকপণ্যে রপ্তানী শুল্ক ১০% ও ২৫% পুনর্বহাল করার দাবি জানাবেন বলেও জানান উপস্থিত সংসদ সদস্যবৃন্দ।
মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ন্যাশনাল হার্ট ফাউন্ডেশন অব বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি জাতীয় অধ্যাপক ব্রিগেডিয়ার (অব.) আব্দুল মালিক; এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান ড. নাসিরুদ্দিন আহমেদসহ বিভিন্ন তামাকবিরোধী সংগঠনের প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বরেন্দ্র বার্তা/এই

Close