মহানগরশিরোনাম

ক্ষমতাসীন দলের অন্তত চার নেতার আরডিএর চেয়ারম্যান পদে বসার আগ্রহ

বিশেষ প্রতিনিধি: রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (আরডিএ) ক্ষমতাসীন চেয়ারম্যান বজলুর রহমানের মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ৩০ আগস্ট। দুই দফায় মেয়াদ বাড়িয়ে সর্বমোট পাঁচ বছর ক্ষমতায় টিকে থাকলেন তিনি।
অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক থেকে আরডিএর চেয়ারম্যান পদে আসা বজলুর রহমান অতি লোভনীয় চেয়ারটি আবারও দখলে রাখতে আবারো দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।
অন্যদিকে এ অবস্থায় ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের অন্তত চার নেতা এ পদে বসার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
তাঁরা হলেন রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ও মেয়রপত্নী শাহীন আক্তার রেনী, সাধারণ সম্পাদক ডাবলু সরকার, আরেক সহসভাপতি নওসের আলী ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান আসাদ।
উল্লিখিত চারজনের মধ্যে তরুণ নেতা ডাবলু সরকার ও আসাদুজ্জামান আসাদ দলের জন্য নিবেদিতপ্রাণ হলেও গত পাঁচ বছরে দলের বাইরে তাঁদের কোনো পদ দেওয়া হয়নি। শাহীন আক্তার রেনীরও সুনাম রয়েছে নগরজুড়ে। তাঁর স্বামী এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) বর্তমান মেয়র। ফলে এ তিনজনের মধ্যে যে কাউকেই আরডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চাইছেন খোদ আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক কর্মকর্তা বলেন, ‘বর্তমান চেয়ারম্যানের কারণে আরডিএর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অতিষ্ঠ। বিগত পাঁচ বছরে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করে তিনি যেসব কর্মকাণ্ড করেছেন, সেগুলোর ভবিষ্যৎ দায়ভার নিয়েই আমরা শঙ্কিত। এ অবস্থায় তৃতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করে আবারও বজলুর রহমানকে চেয়ারম্যান করা হোক এমনটা আমরা কেউই চাচ্ছি না।’
বিগত পাঁচ বছরে অগাধ টাকার মালিক হয়েছেন আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান। এ সময়কালে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি প্রজ্ঞাপন লঙ্ঘন করে সাত কাঠার প্লট হাতিয়ে নেওয়াসহ তাঁর বিরুদ্ধে রয়েছে নানা অভিযোগ। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগের তদন্ত করছে।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, বজলুর রহমান তৃতীয় দফায় মেয়াদ বৃদ্ধি করার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ে দৌড়াদৌড়ি শুরু করেছেন। এর আগে প্রথমে তাঁকে এক বছরের জন্য আরডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। পরে দুই দফায় দুই বছর করে সময় বাড়িয়ে মোট পাঁচ বছর চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি। সর্বশেষ বর্ধিত সময় অনুযায়ী আগামী ৩০ আগস্ট তাঁর মেয়াদ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
রাজশাহীর বনলতা বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের মূল্যবান ৩১টি প্লট হরিলুটের ঘটনায় তদন্তে নেমেছে দুদক। এ ছাড়া প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশে এই প্লট কেলেঙ্কারির তদন্ত করছেন গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আবুল কাশেম।
সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সালের ৩১ মে বনলতা বাণিজ্যিক ও আবাসিক এলাকা উন্নয়ন প্রকল্পের ৩১টি প্লট বরাদ্দের নামে হরিলুট করা হয়। লটারির মাধ্যমে ওই প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয় বলে উল্লেখ করা হলেও আয়তনে বড় ও বেশির ভাগ প্লটই নিজেদের দখলে নেন আরডিএর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন আরডিএর চেয়ারম্যান বজলুর রহমান, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা কমলা রঞ্জন দাস, এস্টেট অফিসার বদরুজ্জামানসহ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী। বিষয়টি নিয়ে কালের কণ্ঠসহ বিভিন্ন মিডিয়ায় খবর প্রকাশিত হলে নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। সম্প্রতি এ প্লট কেলেঙ্কারির ঘটনা তদন্ত শুরু করেছে দুদক। এ ছাড়া ভবন অনুমোদন দেওয়া, আরডিএর মার্কেট ভাড়াসহ বিভিন্ন খাত থেকে কোটি কোটি টাকা লোপাট হয়েছে বিগত কয়েক বছরে। এসব নিয়েও বিভিন্ন সময় সংবাদমাধ্যমে খবর বের হয়েছে। বরেন্দ্র বার্তা/অপস

Close