দূর্গাপুর

অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন এর সামাজিক কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ গতকাল শুক্রবার রাজশাহী জেলার দুর্গাপুর উপজেলার গোপালপুর গ্রামে (অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন)-এর পক্ষ থেকে রকি নামক একজন ১৭ বছরের সুবিধাবঞ্চিত প্রতিবন্ধি শিশুকে হুইল চেয়ার প্রদানের মাধ্যমে সংগঠনটির কার্যক্রম শুরু করা হয়।
রকির পরিবার খুবই দুঃখের সাথে জানায় যে ১৭ বছরের জীবদ্দশায় কখনো তার ছেলেকে কোন সরকারি বা বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কোন ধরনের সহযোগীতার হাত বাড়ায়নি। তবে সমাজ সেবা অধিদপ্তরের মাধ্যমে ২০১৭ সালে তার প্রতিবন্ধি কার্ড করা হয়। রকি স্কুলে যেতে চায়, কিন্তু যাওয়ার ব্যবস্থা না থাকায় সে এ পর্যন্ত স্কুলে যেতে পারেনি।

হুইল চেয়ার প্রদান করা শেষে গ্রামের মহিলাদের একত্রিত করণের মাধ্যমে তাদেরকে নিয়ে মেয়েদের বয়ঃসন্ধিকালিন বিষয়ক সমস্যা ও মাসিক কালীন পরিচর্যাসহ, স্বাস্থসেবা, পুষ্টি এবং নিরাপদ স্পর্শ বিষয়ক একটি আলোচনা সভার অনুষ্ঠিত হয়।

সেখানে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা টিম এর ডিস্ট্রিক ম্যানেজার, সিনিয়র কনসালটেন্ট ও মাসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক উপদেষ্টা, মোসা:মেহেরুন্নেসা মিম। এছাড়াও গ্রামের আরও গনমান্য ব্যক্তিবর্গ সেখানে উপস্থিত ছিলেন।

গ্রামের মেয়েদের মধ্যে যে মাসিক বা বয়ঃসন্ধিকালীন কুসংস্কার বিরাজমান তা দূর করার লক্ষ্যে কাজ করছে “অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন” এর আওতাধীন “রাজশাহী টিম”।এই কার্যক্রম পরিচালনা করে কিছু কলেজের শিক্ষার্থীবৃন্দ।

আল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন সম্পূর্ণ একটি সমাজ-সেবক প্রতিষ্ঠান।এর অগ্রযাত্রা শুরু হয় ২০১৮ সালের মার্চ মাস থেকে।ইতিমধ্যে এই প্রতিষ্ঠান জয়বাংলা অ্যাওয়ার্ডসহ নানান ধরনের সম্মাননায় সম্মানিত হয়েছে।

মাসিক নিয়ে এই দেশের মানুষ এখনো সচেতন না। মাসিক কে ট্যাবু লজ্জার বিষয় ভাবে, মাসিক নিয়ে কথা বলতে লজ্জাবোধ করে। অথচ মাসিক একটি নারীর সন্তান জন্মদানের পুর্বশর্ত। দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল এ অস্বাস্থকর মাসিক ব্যাবস্থাপনার জন্য অনেক নারীই শারিরিক রোগে ভুগছে এবং মারা যাচ্ছে। স্কুলগামী মেয়েরা স্কুলে অনুপস্থিত থাকে। আর মাসিকের মত একটি স্বাভাবিক বিষয় নারীদের উন্নয়নে বাধা হয়ে দাড়াচ্ছে। তাই এই সকল বিষয় মাথায় রেখে “কামরুন্নেসা মিরা”(প্রতিষ্ঠাতা) এই উদ্যোগ টি গ্রহণ করেন যাতে মাসিক নারীর উন্নয়নে পথে বাধা হয়ে না দাড়ায় বরং মাসিক থেকে যাতে বাংলাদেশের আর্থ- সামাজিক উন্নয়ন ঘটে।

সংগঠনটির প্রাথমিক লক্ষ্য ছিল মেয়েদের মাসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করা। সংগঠনটি ৬৮ টি স্কুলে মাসিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নারী পুরুষ উভয়েরই বয়ঃসন্ধিকালিন পরিবর্তন আর নিরাপদ স্পর্শবিষয় নিয়ে শিক্ষা দিচ্ছে। এ পর্যন্ত তাদের সুবিধার আওতায় রয়েছে ১১০৫৩৪ টি শিশু এবং নারী। এছাড়াও ঢাকার প্রত্যন্ত বস্তিতে গিয়ে তাঁরা ৩০,০০০ নারী ও মেয়ে শিশুর সাথে কাজ করেছে এবং বর্তমানে কাজ শুরু করেছে নাটোর, বগুড়া, চাপাইনবাবগঞ্জসহ বেশ কিছু প্রত্যন্ত অঞ্চলে।

অল ফর ওয়ান ফাউন্ডেশন এর সদস্যরা বলেন, আমরা খুব শিঘ্রই স্বল্প দামের স্যানিটারি ন্যাপকিন উৎপাদন করতে যাচ্ছি। যার মাধ্যমে বহুল সংখ্যক নারী এবং পুরুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সুবিধাবঞ্চিত নারী ও মেয়েরা তা খুব সহজেই অত্যান্ত সুলভ মূল্যে ক্রয় করে ব্যাবহার করতে পারবে। আমাদের এই প্রকল্পটি বাংলাদেশের ৬৪ টি জেলায় ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা চলছে।

আমাদের স্বপ্ন বাংলাদেশের প্রত্যেকটা মানুষ মাসিক কে স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ করবে। “মাসিক নারীর বোঝা নয় বরং শক্তি” তা উপলব্ধি করবে এবং স্যানিটারি ন্যাপকিন বাংলাদেশের অর্থনীতিতে খুবই গুরুত্ত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করবে।
বরেন্দ্র বার্তা/ নাসি

Close